টুকলি করা ছাত্র উচ্চমাধ্যমিক দিতে পারবে না, ডিভিশন বেঞ্চে লড়াই নিয়ে গেল বোলপুর হাইস্কুল

টুকলি করা ছাত্র উচ্চমাধ্যমিক দিতে পারবে না,  ডিভিশন বেঞ্চে লড়াই নিয়ে গেল বোলপুর হাইস্কুল
প্রতীকী চিত্র ৷

বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে হবে "টুকলি" মামলার শুনানি।

  • Share this:

ARNAB HAZRA

#বোলপুর: টুকলি করা ছাত্র উচ্চমাধ্যমিকে কভি নাহি !  ডিভিশন বেঞ্চে লড়াই নিয়ে গেল বোলপুর হাইস্কুল। উচ্চমাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষায় নকল করেও আইনের ফাঁক গলে হাইকোর্টে জয়ী হয় ছাত্র। বীরভূমের বোলপুর হাইস্কুলের উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা হয় নভেম্বরের আগে। ঐচ্ছিক বিষয় কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন। সেই পরীক্ষায় বসে হলে কিছুই পারছিল না গুনধর রায়(নাম পরিবর্তিত)। অগত্যা টেবিল ছেড়ে অন্য বন্ধুর উত্তর নাকি নকল করেছিল সে। পরিদর্শক দুই বন্ধুর পরীক্ষার খাতা বাতিল করে দিয়েছিলেন। শাস্তি স্বরূপ  উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় বিদ্যালয় পরিচালন সমিতি।

একাধিকবার স্কুলকে লিখিত আবেদন করে ছাত্রটির বাবা। বাসচালক বাবা, ছেলের একটা বছর নষ্ট হওয়া মেনে নিতে পারেন নি।  তিনি মামলা করেন হাইকোর্টে। ৩ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষায় "নকল" মামলাটির শুনানি হয় বিচারপতি শেখর ববি শরাফের বেঞ্চে। মামলায় হার হজম করতে হয় বোলপুর হাইস্কুলকে। সিঙ্গেল বেঞ্চের হারেও দমে যেতে রাজি নয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আইনি লড়াই ডিভিশন বেঞ্চে নিয়ে গিয়েছে তারা। বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে হবে "টুকলি" মামলার শুনানি। সোমবার ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের আবেদনে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে ২ ছাত্র। দু’জনের খাতা ‘আরএ’ করার পাশাপাশি পরীক্ষাও বাতিল করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক(ইনভিজিলেটর)। পরিদর্শকের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত বলে অনুমোদন দিয়েছে স্কুল পরিচালন সমিতি।

সংশ্লিষ্ট পরিদর্শককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে, তার মতামত না নিয়েই টুকলি করা ছাত্রের পক্ষে নির্দেশদান কাঙ্ক্ষিত নয়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট প্রদান হবে মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মেনে ১০ ফেব্রুয়ারি বোলপুর হাইস্কুল ছাত্রের কাছ থেকে নথি গ্রহণ না করলে বিপাকে পড়তে পারে পড়ুয়া। মামলাকারী ছাত্রের আইনজীবী গৌরব দাস জানিয়েছেন, বিচারপতি শেখর ববি শরাফীর নির্দেশ মেনে ১০ ফেব্রুয়ারি পড়ুয়া বিদ্যালয় যাবে নথি জমা দিতে। যেহেতু সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের উপর কোনও স্থগিতাদেশ নেই তাই বিদ্যালয়ের নথি জমা নিতে কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

এক বছর শাস্তি হিসেবে পরীক্ষায় না বসতে দিলে ছাত্রটির ওপর মানসিক চাপ তৈরি হবে। পরীক্ষায় নকল করেছে, এমন একটা তকমা নিয়ে বাকিটা জীবন কাটাতে হবে ছাত্রটিকে। বোলপুর হাইস্কুলের পড়ুয়া আদৌ চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে পারবে কি না তা এখন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের ওপরই নির্ভরশীল।

First published: February 8, 2020, 10:47 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर