রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ ! ছবি দেখে তাজ্জব নেটিজেনরা

রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ ! ছবি দেখে তাজ্জব নেটিজেনরা

শহরের বিশিষ্ট বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বিল্ডিং ভেতরে ভেতরে যে ফোঁপড়া হয়ে গিয়েছিল তা কেন টের পেলেন না রেলের ইঞ্জিনিয়াররা !

  • Share this:

#বর্ধমান: একি রক্তক্ষরণ ! কী বলবেন এই ছবিটিকে দেখে! রক্তের মতো লালে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ । এ রক্তিম আভা যদি প্রতীকি হয় তবে তার উৎস তো সেই অংশ যা ভেঙে পড়েছিল হুড়মুড়িয়ে । বর্ধমান রেল স্টেশন বিল্ডিংয়ের ছবি। বলা উচিত, ভেঙে পড়ার আগের একশো পঁয়ষট্টি বছর প্রাচীন বিল্ডিংয়ের ছবি। এ ছবি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার আগের রাতের তোলা। বৃষ্টিতে ভেজা স্টেশন চত্বর। তাতেই প্রস্ফুটিত লাল আলোর প্রতিচ্ছবি।কিন্তু শুধুই কী তাই! এ ছবি কি বলতে চাইছে অন্য আরও কিছু? এ ছবির মাধ্যমে কি নীরবে অনেক কথা বলতে চাইছে ইতিহাস প্রাচীন এই বিল্ডিং! আগের দিনের ছবি দেখে তাজ্জব নেটিজেনরা।

এলাকার বাসিন্দা, নিত্যযাত্রীদের অনেকেই বলছিলেন, এই বিল্ডিংয়ের যথাযথ সংস্কারে কোনও দিনই তেমন উদ্যোগ নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। বহু বছর মলিন অবস্থায় পড়ে থাকার পর ইদানিং তার বহিরঙ্গের চাকচিক্য বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছিল রেল। আর তাই অবৈজ্ঞানিক ভাবে দেওয়াল খুঁড়ে বহিরঙ্গে বসানো হচ্ছিল টাইলস্ এর নকশা। প্রাচীন থাম যন্ত্র দিয়ে কেটে তা প্লাস্টার করা হচ্ছিল। স্টেশনের টোটো চালক অভিজিত নন্দী বলছিলেন, দিনভর পিলারে দড়াম দড়াম করে হাতুড়ি পেটানো হচ্ছিল। আমরা তখনই বলাবলি করছিলাম বিল্ডিং না ধসে পড়ে। আমাদের আশংকাকে সত্যি করে তাই ঘটলো।

ইতিহাসের গবেষক সর্বজিত যশ বললেন, চুন সুড়কির বিল্ডিং সংস্কার সহজ কথা নয়। তা করার আগে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন। চুন সুড়কির বিল্ডিং। তাকে সংস্কার করতে হবে চুন সুড়কি দিয়েই। তাতে সিমেন্ট ধরে না। চুন জল পেলে ফুলে ওঠে। বালি সিমেন্ট ধরে না। এক্ষেত্রে বালি সিমেন্টের কাজ ও তার আগে যথেচ্ছ হাতুড়ির আঘাতের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। এই বিল্ডিং সংস্কারে ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শহরের বিশিষ্ট বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বিল্ডিং ভেতরে ভেতরে যে ফোঁপড়া হয়ে গিয়েছিল তা কেন টের পেলেন না রেলের ইঞ্জিনিয়াররা! শুধু তাই নয়, সৌন্দর্যায়নের যে কাজ চলছিল তাতে বিল্ডিং যে ধসে পড়তে পারে তা তাঁরা বুঝতে পারলেন না কেন?

বহিরঙ্গের চাকচিক্য বাড়লেও ভেতরে ভেতরে রুগ্ন হয়ে উঠেছিল এই বিল্ডিং। তার ওপর অপরিকল্পিতভাবে হাতুড়ির আঘাতে আরও জীর্ণ হয়ে উঠেছিল । অভ্যন্তরের সেই রক্তক্ষরণই যেন আগের রাতের এই ছবিতে নীরবে বলতে চেয়েছিল এই বিল্ডিং।

First published: 09:57:18 AM Jan 09, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर