Visva Bharati University: 'বিজেপি কেন বাংলায় হারল?', বিশ্বভারতীর 'আজব' আলোচনা সভা অবশেষে বাতিল!

ফের বিতর্কে বিশ্বভারতীর উপাচার্য

রবীন্দ্র জয়ন্তীর পরপরই বিশ্বভারতীতে আলোচনাসভা ডাকা হল। আর সেই সভায় আলোচনার বিষয় 'বিজেপি কেন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে জিততে পারল না?' তাজ্জব করার মতো বিষয়, ওই সভার প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগের যুগ্ম পরামর্শদাতা অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার।

  • Share this:

    #বীরভূম: বিতর্ক মানেই যেন এখন বিশ্বভারতী (Visva-Bharati University)। একের পর এক ইস্যুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাণের বিশ্বভারতীকে 'বিতর্কে' জড়াতে হচ্ছে। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে BJP-র হয়ে পক্ষপাতিত্বের। সেই অভিযোগকেই যেন নিজেই আরও একবার মান্যতা দিলেন বিদ্যুৎ বাবু নিজেই। রবীন্দ্র জয়ন্তীর পরপরই বিশ্বভারতীতে আলোচনাসভা ডাকা হল। আর সেই সভায় আলোচনার বিষয় 'বিজেপি কেন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে জিততে পারল না?' তাজ্জব করার মতো বিষয়, ওই সভার প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগের যুগ্ম পরামর্শদাতা অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার। আর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পৌরহিত্যে হতে চলা এই আলোচনা সভা নিয়ে শুরু হয় চূড়ান্ত সমালোচনা। এরপরই ওই আলোচনা সভা বাতিল করা হল।

    আগামী ১৮মে বিকেল ৪টেয় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হতে চলা ওই আলোচনা সভায় সকলকে আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে। বাঙালির প্রিয়তম বিশ্বভারতীতে এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এ ভাবে আলোচনা ডাকা হল বলেই দাবি পড়ুয়া, আশ্রমিক এমনকী অধ্যাপকদের বড় অংশের। উপাচার্যের নিন্দায় সরব হন সাধারণ মানুষও। বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'এই উপাচার্য পাগল। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এই উপাচার্যকে সরিয়ে দিন।' পরিস্থিতি বেগতিক হচ্ছে দেখেই ওই আলোচনা সভা বাতিল করল বিশ্বভারতী।

    বস্তুত উপাচার্য হিসেবে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সাফল্যের থেকে বিতর্কই বেশি। এমনকী সূত্রের খবর, সঙ্ঘ পরিবারের অন্দরেই ক্ষোভ বাড়ছে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদুৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে। এতদিন রাজ্যের শাসক দলের নেতা-নেত্রীরা একাধিক বার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে। এখন আরএসএস এবং বিজেপি নেতারাও উষ্মা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন বিদ্যুৎ সম্পর্কে।

    সূত্রের খবর, বিদ্যুতের নানা কার্যকলাপে বিরক্ত হয়ে আরএসএস ও বিজেপির ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মহল থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই অভিযোগ জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়ালের কাছে। আরএসএস-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা রন্তিদেব সেনগুপ্ত কোনও রাখঢাক না-করে ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সমস্যা হল, উনি বিশ্বভারতীকে আর পাঁচটা ইট-কাঠে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশি কিছু ভাবতে পারছেন না। রবীন্দ্রভাবনা অনুধাবন করা তো অনেক দূরের বিষয়।’ বিশ্বভারতীর একটি অনুষ্ঠানে উপাচার্যের উপস্থিতিতেই প্রথা মাফিক আশ্রমসঙ্গীতও গাওয়া হয়নি। এছাড়াও বিদ্যুতের 'কর্মকাণ্ডের' খতিয়ান বিরাট।

    Published by:Suman Biswas
    First published: