হার নিশ্চিত বুঝেই সরে দাঁড়ালেন তৃণমূলের রবিরঞ্জন, দাবি বিজেপির।

হার নিশ্চিত বুঝেই সরে দাঁড়ালেন তৃণমূলের রবিরঞ্জন, দাবি বিজেপির।
রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।

তাদের বক্তব্য,এবার আর তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে পারছে না এটা আগাম বুঝতে পেরেছেন প্রবীণ বিধায়ক।

  • Share this:

#বর্ধমান: হার নিশ্চিত, সেই দেওয়াল লিখন বুঝতে পেরেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি বিজেপির। তাদের বক্তব্য,এবার আর তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে পারছে না এটা আগাম বুঝতে পেরেছেন প্রবীণ বিধায়ক। পাশাপাশি বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র যে হাতছাড়া হয়ে গেছে তা গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন না রবিরঞ্জনবাবু।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি
আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিজের ট্যুইট হ্যান্ডেলে ঘোষণা করেছেন বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। শারীরিক ও বয়স জনিত কারনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তের কথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন বলে ট্যুইট করেছেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা ও দলের প্রার্থী তালিকা তৈরির মুখে বিধায়কের এই অবসর ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিজেপি নেতা সুনীল গুপ্তা বলেন,রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক রবিরঞ্জনবাবু রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের তোলাবাজ, কার্ডমানি খাওয়া, বালির টাকা নেওয়া নেতাদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। তার ওপর দলের গোষ্ঠী কোন্দলে তিনি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। এসব কারণেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন। বিজেপির আরও বক্তব্য, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রায় চল্লিশ হাজার ভোটের লিড দেড় হাজারের নিচে নেমে এসেছে। তাই এই আসনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই বিধায়ক আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন না।

ইদানিং দলের কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়কে। তা নিয়ে দলের ভেতর ক্ষোভ বাড়ছিল। তাছাড়াও গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে তিনি দলের সকলকে কখনোই একসঙ্গে পাননি। সেই বিষয়টিও দলের মধ্যে চর্চায় ছিল। যদিও প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাইছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, রবিরঞ্জনবাবু দু'দফায় বিধায়ক ছিলেন। এলাকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছে। তাই তিনি সরে দাঁড়াতেই পারেন। আমাদের দলে কে প্রার্থী হবে না হবে তা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করেন। তাই বিজেপির এ ব্যাপারে মাথা না ঘামালেও চলবে। লোকসভা ভোটে বিজেপি টাকা ছড়িয়ে ভোট করেছিল। এবার তা হবে না। এবার তৃণমূলের সংগঠন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে নিরিখে ভোট হবে। বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে তো বটেই এ রাজ্যে বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।।

Published by:Arka Deb
First published:

লেটেস্ট খবর