ঝুপড়ি বাড়িতে নেই শৌচালয়, পানীয় জল, বিজেপির 'দরিদ্রতম' প্রার্থী চন্দনা বাউরি

ঝুপড়ি বাড়িতে নেই শৌচালয়, পানীয় জল, বিজেপির 'দরিদ্রতম' প্রার্থী চন্দনা বাউরি

Photo- Collected

  • Share this:

    #বাঁকুড়া : একপাশে একটা আলুমিনিয়ামের বাক্স, একটা টেবিল, অন্যদিকে পাশাপাশি রাখা কয়েকটা কাঠের তক্তা যেটাকে ওরা 'খাট' বা 'বিছানা' বলে, আর ইতস্তত ছড়ানো কিছু বই খাতা। দু'কামরার বাড়িতে চোখে পড়ার মতো বলতে এটুকুই। এই বাড়ির চন্দনা বাউরিই ২০২১ এর নির্বাচনে বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভার নির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী।

    হলফনামা বলছে, চন্দনার মোট স্থাবর সম্পত্তি ৩১ হাজার ৯৮৫ টাকা। স্বামী শ্রাবণ বাউরির স্থাবর সম্পত্তি ৩০ হাজার ৩১১ টাকা। মনোনয়ন দাখিল করার সময় চন্দনা বাউরি তাঁর হলফনামায় জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখন মাত্র ৬ হাজার ৩৩৫ টাকা আছে। আর শ্রাবণের অ্যাকাউন্টে আছে ১ হাজার ৫৬১ টাকা। চন্দনা ও শ্রাবণের নিজেদের জমি বলতে কিছু নেই। পেশায় দিনমজুর শ্রাবণের সংসার চলে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। কাজ থাকলে দিনে ৪০০ টাকা উপার্জন করেন তিনি। তবে বর্ষা এলে সেই কাজও মেলে না।

    বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেননি চন্দনা। পড়েছেন মাত্র ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত। স্বামী শ্রাবণের দৌড় ক্লাস এইট। দুজনের সম্পত্তি বলতে আছে ৩ টি ছাগল, ৩ টি গরু (যার একটি আবার বিয়েতে যৌতুক পাওয়া) আর একটি ছোট ঝুপড়ি ঘর। পানীয় জল নেই। বাড়িতে নিজস্ব শৌচাগারও নেই। গরু-ছাগলদের সঙ্গে এক ঘরেই বাস চন্দনাদের। হলফনামার বিচারে এই চন্দনা বাউরিই বিজেপির সবথেকে দরিদ্র প্রার্থী।

    বাঁকুড়ার শালতোড়া আসনটি এ'বছর তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। আর সেই আসন থেকেই প্রার্থী হয়েছেন চন্দনা। যদিও বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর চন্দনার কাছে সেই খবর এসে পৌঁছয় অনেক দেরিতে। টিভিতে খবর শুনে প্রতিবেশীরাই চন্দনাকে জানান এবার শালতোড়া কেন্দ্রে তিনিই বিজেপির মুখ।

    জয়ের বিষয়ে অবশ্য আশাবাদী চন্দনা। বাড়ির কাজ সেরে দলের কাজে নেমে পড়েন তিনি। সকালে ঘুম থকে উঠে বাড়ির সমস্ত কাজ করে সন্তানদের শাশুড়ির জিম্মায় ছেড়ে হাসিমুখে প্রচারে বেড়োন চন্দনা। এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনা বিচলিত করে এই ছোটোখাটো চেহারার মেয়েটিকে। গভীর বিশ্বাসে বলেন, বিজেপি এলেই সব থামবে। তাঁর মতে, বিজেপি মহিলাবান্ধব দল। মেয়েদের জীবন আরও সুরক্ষিত করবে। চন্দনা বলেন, বিধায়ক হয়ে গরিবদের পাশে দাঁড়াবেন তিনি। তাঁদের উন্নয়ন করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

    আরও একটা লক্ষ্যও চিকচিক করে চন্দনার চোখে। ঘরের একপাশে ছড়ানো বইগুলোর দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, "আমি পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। মাধ্যমিকের সময় বাবা মারা গেলেন। বিয়ে হয়ে গেল। তখন ক্লাস ইলেভেন, অসম্ভব অসুস্থ হয়ে পড়লো শ্রাবণ, এরপর সন্তান এল বারো ক্লাসে। ফাইনাল পরীক্ষাটা আর দেওয়া হল না আমার।"

    তিন সন্তানের মা, বিজেপির শালতোড়ার উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরনো প্রার্থী চন্দনার স্বপ্ন তাঁর সন্তানরা যেন পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারে আগামী দিনে। আর সেই স্বপ্ন পূরণের আশাতেই হয়ত পদ্মে প্রার্থী এবার চন্দনা।

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published:

    লেটেস্ট খবর