corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে যোগান নেই খাবারের, বাধ্য হয়েই খাঁচার পাখি উড়িয়ে দিচ্ছেন পাখি ব্যবসায়ীরা

লকডাউনে যোগান নেই খাবারের, বাধ্য হয়েই খাঁচার পাখি উড়িয়ে দিচ্ছেন পাখি ব্যবসায়ীরা

বহু টাকা লোকসান করে শূন্য খাঁচার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া এখন আর কিছু করার নেই আওয়াশবেরিয়ার গ্রামের পাখি ব্যবসায়ীদের

  • Share this:

#কলকাতা: দীর্ঘ লকডাউনের জেরে যোগান নেই খাবারের। যদিও বা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে তার দাম অত্যন্ত চড়া। তাই বাধ্য হয়েই প্রাণপ্রিয় হাজার হাজার পাখিদের খাঁচা খুলে মুক্ত করে দিল গোটা গ্রাম। বহু টাকা লোকসান করে শূন্য খাঁচার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া এখন আর কিছু করার নেই আওয়াশবেরিয়ার গ্রামের পাখি ব্যবসায়ীদের ।

চলছে লকডাউন। বন্ধ জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি সব কিছু। তার প্রভাব পড়েছে সমাজের সর্বস্তরে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া আন্তঃরাজ্য মাল পরিবহন কিছুই চালু নেই। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে আপাতদৃষ্টিতে প্রয়োজনহীন পাখির খাবারের যোগান। দক্ষিণ ২৪পরগনার ডায়মন্ড হারবারের কাছে আওয়াশবেরিয়ার গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের জীবিকা পাখির ব্যবসা। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে পাখির খাঁচা। এক একটি পরিবার কম বেশি ১৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে  যুক্ত। কিন্তু লকডাউনের জেরে মহা বিপদে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। যোগান নেই পাখির খাবারের।

মূলত পাখির খাবার হিসেবে যে ঘাসের দানা ব্যবহৃত হয়, তা আসে অসম, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশের মত রাজ্য থেকে। লকডাউনের জন্য এখন সেই সব রাজ্য থেকে খাবারের যোগান বন্ধ। এদিকে স্থানীয় যে ঘাসের দানা পাওয়া যাচ্ছে তার দামও অনেক বেশি। ওই গ্রামের পাখি ব্যবসায়ী রাজ কুমার খান বলেন, 'আগে আমরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে দানা কিনতাম। কিন্তু সেই দানা এখন ৭০ টাকা চাইছে, যা আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।' কাজেই বাধ্য হয়ে অনেকেই খাঁচা খুলে পাখি উড়িয়ে দিচ্ছেন।

আওয়াশবেরিয়ার আর এক পাখি ব্যবসায়ী তাপস ময়রা বলেন, 'আমার একশো জোড় ফ্রিন্চ আর জাভা ছিল। আরও একশ জোড় বাচ্চা ফুটেছে। পাখির  ডেলিভারি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। ফলে আমার কাছে এখন খাবারও নেই, পাখি রাখার জায়গায়ও হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই ৬০ জোড়া পাখি উড়িয়ে দিয়েছি।' তাপসবাবুর দাবি, এর ফলে তার প্রায় ১৮ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। একই ভাবে রাজ কুমার খানের কাছে ৬ রকম প্রজাতির ৩ হাজার পাখি রয়েছে। তার বড় অংশের ডেলিভারি নেওয়া কথা ছিল। মূলত মুম্বইয়, হায়দরাবাদ এবং চেন্নাই থেকে বরাত আসে এই সব পাখির। কিন্তু লকডাউনের জেরে এখন ওই সব শহরে পাখি পৌঁছনোর কোনও উপায় নেই। তাই স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা ডেলিভারি নিচ্ছে না। ফলে খাঁচার পাখিদের প্রকৃতির বুকে উড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই আওয়াশবেরিয়ার বাসিন্দাদের।

SOUJAN MONDAL

First published: April 30, 2020, 8:56 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर