পঞ্চায়েত-থানা-পুলিশ আছে, তবু মুখিয়াই শেষ কথা বীরভূমের 'আজব গাঁ'য়ে

পঞ্চায়েত-থানা-পুলিশ আছে, তবু মুখিয়াই শেষ কথা বীরভূমের 'আজব গাঁ'য়ে
কলকাতা হাইকোর্ট

বীরভূমের সাঁইথিয়া ব্লকের হরিসরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মকাণ্ড এমনটাই ভাবতে বাধ্য করছে। আর তা যদি নাই হবে বর্তমান, প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানদের কলকাতা হাইকোর্ট ডেকে পাঠানো কেন।

  • Share this:

অর্ণব হাজরা

#কলকাতা: এ যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। একেবারে মুখিয়া রাজ। মুখিয়ার কথাই শেষ, মুখিয়ার বিধানই আইন। থানা, পুলিশ, আইন আদালত সব যেখানে অর্থহীন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জেলায় এ-এক আজব গাঁ। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থাপনা আছে। মানুষের স্থানীয় সরকার আছে, সরকারের জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা আছে, পঞ্চায়েত কার্যালয় আছে। হ্যাঁ, সব আছে, আবার কিছুই নেই। হেঁয়ালি ঠেকছে?

বীরভূমের সাঁইথিয়া ব্লকের হরিসরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মকাণ্ড এমনটাই ভাবতে বাধ্য করছে। আর তা যদি নাই হবে বর্তমান, প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানদের কলকাতা হাইকোর্ট ডেকে পাঠানো কেন। তাও স্বশরীরে, ১৪ ফেব্রুয়ারি। ২০১৭ সাল থেকে একটি অবৈধ নির্মাণকে ঘিরে হরিসরায় জলঘোলা শুরু।

সাঁইথিয়া-বহরমপুর সড়কের ওপর জনৈক সুজিত পারেখের ১০ কাঠা জমি। পঞ্চায়েতের কাছে সুজিতবাবুর অভিযোগ ছিল তাঁর জায়গা জবরদখল ও বেআইনি নির্মাণের। পঞ্চায়েতে ফয়সালা তো দূর-অস্ত। নূন্যতম নিয়ম না মানার অভিযোগ ওঠে। জল গড়ায় হাইকোর্টে। ২০১৭ সালে পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে মামলা ঠোকেন সুজিতবাবু। সেই সময় তাঁর জমির ওপর নির্মাণে প্রথমে স্থিতাবস্থা ও পরে স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।পরে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতেও বলে হাইকোর্ট।

নির্দেশ ভূলুণ্ঠিত হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা হয়। সুজিত পারেখের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী কথায়, 'পঞ্চায়েতের কর্মকাণ্ডে বিস্মিত আদালত। তাই আদালত অবমাননার রুল জারি হয়েছে। স্বশরীর হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েতের প্রাক্তন এবং বর্তমান প্রধানদের।' দুই প্রধানের থেকে আইন না মানার কৈফিয়ত নেবেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।

সিনেমায় মুখিয়া রাজের পতন দেখিয়েছেন অধিকাংশ পরিচালক। বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হয় সেইসব সিনেমা। হরিসরা পঞ্চায়েতেও কি তেমনটা ঘটবে? উত্তর মিলতে পারে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০।

First published: January 4, 2020, 7:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर