corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’, রাত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে দরজায় এল পুলিশ

‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’, রাত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে দরজায় এল পুলিশ
Photo- Representive

মানবিক মুখ

  • Share this:

#বীরভূম: বীরভূমের রাজনগরে গভীর রাতে এক যুবকের প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দিল রাজনগর থানার  পুলিশ। রাজনগর থানার অন্তর্গত বড়বাজারের বাসিন্দা শুভজিৎ সিংহ বহু খোঁজাখুঁজির পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ তার এলাকায় পাচ্ছিলেন না।

লকডাউন চলার ফলে বাইরে কোথা থেকে ওষুধ আনারও সুযোগ ছিলনা। তাই বাধ্য হয়ে রাত্রিবেলাতেই বীরভূম জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করেন শুভজিৎ। সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে যায় রাজনগর থানায়। রাজনগর থানার ওসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ বন্ধু কর্মীদের শুভজিৎ এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন এবং এরপর শুভজিৎ এর প্রেসক্রিপশন নিয়ে রাত্রিবেলায় সোজা আসানসোল পৌঁছে যায় রাজনগর থানার পুলিশ।

সেখান থেকে ওষুধ এনে রাত্রেই  শুভদীপের হাতে ওষুধ তুলে দেয়। শুভজিৎ জানিয়েছে রাত্রিবেলায় ফোন করা মাত্রই শত কিলোমিটার দূর আসানসোল থেকে রাজনগর থানার পুলিশ যেভাবে তার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে দিয়েছে, এজন্য জেলা পুলিশ ও রাজনগর থানার ওসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

একইরকম ভাবে কিছুদিন আগে বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার  অন্তর্গত আটলা এলাকার এক বাসিন্দা। বহুদিন ধরেই তিনি এক মারণ রোগে আক্রান্ত। সেজন্য নিয়মমাফিক প্রতিষেধকও তাকে নিতে হয়। লক ডাউনের কারণে সেই প্রয়োজনীয় ওষুধ শেষ হয়ে গেলেও তিনি তা যোগাড় করতে পারছিলেন না। ওষুধটি এমনই ছিল যা সংগ্রহ করতে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল অপরিহার্য। অসহায় ওই রোগী পুরো বিষয়টি বীরভূম জেলা পুলিসের স্পেশাল কন্ট্রোল রুম নম্বরে জানান। তৎক্ষণাৎ পুলিস কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পাঠানো হয় রামপুরহাটের আই. সি. এবং এস.ডি.পি.ও. কে। ওনারা খবর পাওয়া মাত্র সেই রাতেই চলে যান ওই রোগীর বাড়ি।এস.ডি.পি.ও. রামপুরহাট ওষুধটি জোগাড় করে দেওয়ার ব্যাপারে উমা বাবুকে পুরোপুরি আশ্বাসও দিয়ে আসেন। জীবনদায়ী এই ওষুধটি আর পাঁচটা ওষুধের মত সহজলভ্য ছিল না। এই ওষুধ যে কেউ নিতে গেলেও তা সংগ্রহ করা সম্ভবপর হয়ে উঠত না। সেই জন্য পুলিসের তরফ থেকে ওই রোগীর পরিচয় পত্র সহ ওনার সম্মতি দান পত্র তৈরি করে পরেরদিন সকালেই বীরভূম পুলিস যোগা্যোগ করে কোলকাতা পুলিসের সঙ্গে,  কলকাতায় পুলিসের একটি টিম পাঠানো হয় যারা ওষুধটি সংগ্রহ করে ২৪ ঘন্টা অতিক্রম হওয়ার আগেই বীরভূম পুলিশের কাছে পাঠায়,  এবং তা ওই রোগীর কাছে তা পৌঁছে দেয়। ওই রোগী এখন সুস্থ আছেন।

অসুস্থ প্রৌঢ় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত বলে জানিয়েছেন বীরভূমের পুলিস সুপার শ্যাম সিং। একই রকম ভাবে বোলপুরের ভুবনডাঙ্গা, সুকান্তপল্লীর বাসিনতার নার্ভের ওষুধ কোথাও না পেয়ে বীরভূম জেলা পুলিসের স্পেশাল কন্ট্রোলরুমে জানালে আই.সি বোলপুর উক্ত ব্যক্তির থেকে প্রেসক্রিপশন সহ প্রয়োজনীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করে এবং উপযুক্ত সম্মতি দানপত্র বানিয়ে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত ওষুধটি কলকাতা থেকে এনে তার কাছে পৌঁছে দেয়। এছাড়াও ময়ূরেশ্বরের এক রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ তার  কলকাতাবাসী আত্মীয় সংগ্রহ করলেও তিনি তা আনতে যেতে পারছিলেন না। এক্ষেত্রেও ব্যাপারটি বীরভূম জেলা পুলিসের স্পেশাল কন্ট্রোল রুমের নজরে আনলে কলকাতা থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করে তাকে দিয়ে আসা হয়। লক ডাউন চলাকালীন বীরভূম জেলা পুলিস এরকম কয়েকশো লোককে ওষুধ সরবরাহ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

Supratim Das

Published by: Debalina Datta
First published: May 6, 2020, 12:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर