নদীর জলে ডুবিয়ে, কচুরিপানায় ঢেকে দেদার পাচার হচ্ছে বাইক, হুঁশ নেই প্রশাসনের

নদীর জলে ডুবিয়ে, কচুরিপানায় ঢেকে দেদার পাচার হচ্ছে বাইক, হুঁশ নেই প্রশাসনের
  • Share this:

Shanku Santra

#হাঁসখালি: হাঁসখালির পরিতোষ বিশ্বাস বেশ দুঃখের সঙ্গে বলছিলেন, বাড়ির বাইরে মোটর সাইকেল রাখার উপায় নেই। বারান্দাতে থাকলেও চুরি হচ্ছে। মোটর বাইক চুরির একটা বড় চক্র রয়েছে সীমান্ত এলাকা গুলোতে। কলকাতা শহরে সিসিটিভি নজরদারির ফলে বাইক চুরি অনেকটা কমেছে। তবে কলকাতা ছাড়লেই এই চুরির চক্র বেশ সক্রিয়। ইদানিংকালে বেশ কিছু বাইক চোর জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। তারা নিজস্ব এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চুরি করছে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে যে সমস্ত মোটর বাইক চলে তার বেশিরভাগই চুরির বাইক। সূত্র মারফৎ খবর, ৫ হাজার টাকা দিলে মোটর বাইক এর কাগজ মিলে যায় । সেগুলো থানার বাজেয়াপ্ত বাইকের নম্বর।

বাংলা দেশের চোরেরা এ দেশে চলে আসে। তারা এদেশের চোরদের সঙ্গে যোগ দিয়ে চুরি করে। রাতের অন্ধকারে সেই মোটর বাইক চলে যায় সীমান্তের ওপারে। তবে বাংলাদেশে পালসার বাইকের প্রচুর চাহিদা। চাহিদা মত চুরির বাইক পাওয়া যায় না। তাই কৃষ্ণনগর, মালদহ, শিলিগুড়ি এলাকাতে পুরানো বাইক বিক্রি খুব বেড়েছে। নগদ টাকায় বাইক কেনার পর সীমান্তে চলে যায় ওই বাইক ৷ বাংলাদেশে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়।

IMG-20191202-WA0048

ইদানীংকালে নতুন মোটর সাইকেল, বিশেষ করে টিভিএস কোম্পানির আরটিআর এবং অ্যাপাচি এই ধরনের মডেলের বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদা রয়েছে। যেমন হাঁসখালির সৌমেন নন্দী বিভিন্ন শোরুম থেকে নতুন মোটরসাইকেল কেনেন। তারপর সেই টিসি নম্বর ওয়ালা মোটরসাইকেলটি সুযোগমতো কাঁটাতারের ওপারে পাঠিয়ে দেন। এই নতুন মোটরসাইকেল গুলি শিলিগুড়ি এবং রায়গঞ্জের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যায়। সৌমেনের আসল নাম কেউ জানে না। তবে মাস তিনেক আগে কৃষ্ণনগর থানাতে গ্রেপ্তার হয় সে। শিলিগুড়ির মহানন্দ পাড়া, বিদ্যা চক্র কলোনির বেশ কয়েকটি গাড়ি পাচার চক্রের অপরাধী রয়েছে যেমন কালু , পাপান। তাদের গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত এরা।

Loading...

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এলাকার মমতাজ। বারেবারে পুলিশের জালে ধরা পড়ার পরও, জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছিল। ওর বাইক চুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না। অবশেষে মাদক মামলায় ধরা পড়ে, এখন জেলে রয়েছে। মীনাখার আসলাম। জিবনতলার মোহন এখনও বাইরে । প্রতিদিন পশ্চিমবাংলা বিভিন্ন থানা এলাকায় মোটরবাইক চুরি হচ্ছে। সেগুলো ব-দ্বীপ অঞ্চল কিংবা একেবারে গ্রাম এলাকাতে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা খুব কম।

একটা সময় পালসার বাইকের খুব চাহিদা ছিল। কারণ পালসার কিংবা এপাচি বাইকের ইঞ্জিন দিয়ে বাংলাদেশের স্পিড বোট গুলো চলে। প্রশ্ন, এত কিছু জানার পরও কিভাবে মোটরসাইকেল এ দেশ থেকে বাংলাদেশ অনায়াসে চলে যাচ্ছে?

একজন প্রাক্তন পাচারকারীর বর্ণনা অনুযায়ী- যে সমস্ত এলাকাতে কাঁটাতার নেই সেই সমস্ত এলাকা দিয়ে মোটর সাইকেল অনায়াসে পার হয়ে যায়। যেখানে নদী আছে,সেখানে বড়ো গাড়ির চাকার ওপর বাইক দিয়ে ,তার ওপর কচুরি পানা দিয়ে জলে ভাসিয়ে, দড়ি দিয়ে টেনে পার করে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বলে অভিযোগ।

First published: 11:34:36 PM Dec 02, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर