আকাঙ্খা খুন কাণ্ডে অভিযুক্তকে জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য এল পুলিশের হাতে !

Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Feb 03, 2017 06:04 PM IST
আকাঙ্খা খুন কাণ্ডে অভিযুক্তকে জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য এল পুলিশের হাতে !
অভিযুক্ত উদয়ন দাস ৷ পাশে আকাঙ্খা শর্মার উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ ৷
Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Feb 03, 2017 06:04 PM IST

#ভোপাল: যে গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে লিভ-ইন করত, তাঁকে খুন করে নিজের ঘরেই পুঁতে রাখল যুবক ৷ বাঁকুড়ার মেয়ে আকাঙ্খা শর্মার খুনে প্রধান অভিযুক্ত উদয়ন দাসকে গ্রেফতারের পর জেরায় অনেক তথ্যই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে পুলিশ ৷

জেরায় যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে আপাতত এসেছে , সেটা হল উদয়নের সঙ্গে আকাঙ্খা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন মহিলার সম্পর্ক ছিল ৷ তাদেরকে সে নিজের ঘরেও নিয়ে আসত মাঝেমধ্যেই ৷ এই নিয়েই আকাঙ্খার সঙ্গে ঝামেলা হয় উদয়নের ৷ অভিযুক্ত অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারেরই ছেলে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ অফিসার বলেই নিজেকে সবসময় দাবি করত উদয়ন ৷ এমনকী, টাকা নিয়েও ঝামেলা হয় উদয়ন ও আকাঙ্খার মধ্যে ৷ বরাবরই বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত উদয়ন ৷ বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েও ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত তাকে ৷ তবে উদয়নের আচরণ স্বাভাবিক নয় বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা ৷ তার ঘরে বিভিন্ন দেশের পতাকাও পাওয়া গেয়েছে ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও চ্যাট বা চ্যাটিংয়ের সময় উদয়ন তার বান্ধবীদের জানাত, যে সে বিদেশ থেকে অনলাইন ৷ এছাড়া গাড়িতে ঘোরার সময় পাশের সিটে একটা টেডি বিয়ারকে সিট বেল্ট দিয়ে বেঁধে রাখত সে ৷ উদয়নের যেমন একাধিক নারীসঙ্গ ছিল, তেমনি আকাঙ্খাও এর মধ্যে অন্য কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে জানতে পেরেছিল উদয়ন ৷ এর জেরেই দু’জনের মধ্যে বচসা হয় ৷  বিশাল নামে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আকাঙ্খা বলেই পুলিশকে জেরায় জানিয়েছে উদয়ন ৷

বচসার পর শ্বাসরোধ করেই আকাঙ্খাকে খুন করে উদয়ন। এরপর বান্ধবীর দেহ চৌবাচ্চায় রেখে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে। পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে উদয়ন দাস। ২০১৫-এ বাঁকুড়ার আকাঙ্খা শর্মার সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হয় ভোপালের উদয়ন দাসের। আমেরিকায় চাকরি পাওয়ার নাম করে গত বছর জুন মাসে বাড়ি ছাড়েন আকাঙ্খা। ভোপালে গিয়ে উদয়ন দাসের সঙ্গে লিভ ইন শুরু করেন। গত বছর ডিসেম্বরে হঠাৎই বাড়ির সঙ্গে আকাঙ্খার ফোনে যোগাযোগ বন্ধ হয়। তবে ফেসবুকে নিয়মিত বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন আকাঙ্খা। এমনকী পুরনো ছবি, ফের ফেসবুকে পোস্টও করেন তিনি। আকাঙ্খার আ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কয়েকবার টাকাও তোলা হয়। এতেই সন্দেহ হয় তাঁর পরিবারের। বাঁকুড়া পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। শেষবার ভোপালের সাকেতনগরে আকাঙ্খার মোবাইল টাওয়ার ট্র্যাক করে পুলিশ। বাঁকুড়া জেলা পুলিশের বিশেষ দল ভোপাল যায়। মোবাইল ও ফেসবুকের সূত্রে উদয়ন দাসের খোঁজ পায় পুলিশ। তাকে জেরা করেই আকাঙ্খার হদিশ মেলে।

First published: 11:04:36 AM Feb 03, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर