সাবধান ! বর্ধমান স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে সীতাভোগ-মিহিদানা কিনলে ঠকার চান্স ষোলোআনা

সাবধান ! বর্ধমান স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে সীতাভোগ-মিহিদানা কিনলে ঠকার চান্স ষোলোআনা
  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: বর্ধমানের কথা বললেই সীতাভোগ মিহিদানার কথা ভেবে জিভে জল আসে না এমন ভোজনরসিক বাঙালি মেলা ভার। বর্ধমানে গেলে অনেকেই এই দুই মিষ্টির স্বাদ নেন সবার আগে। অনেকে বাড়ির জন্য নিয়েও যান। রেলপথে যাতায়াতের পথে বর্ধমান স্টেশনে ট্রেন ঢুকলেই অনেকে চট করে সীতাভোগ-মিহিদানা কেনার জন্য উশখুশ করেন। তাঁরা সাবধান! কারণ, কিনলে ঠকার চান্স ষোলোআনা। তেমনই বলছেন বর্ধমানের নামি মিষ্টি প্রতিষ্ঠানগুলির অধিকাংশই।

রাজ্যের অনেক প্রান্তেই এখন সীতাভোগ, মিহিদানা তৈরি হয়। কিন্তু তার স্বাদ বর্ধমানের ধারে কাছে আসে না। মিষ্টি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাসমতী চাল ও এখানের জলের জন্যই বর্ধমানের মানের ধারে কাছে আসতে পারে না সীতাভোগ মিহিদানা। তাই খাঁটি ঘিয়ে তৈরি কাজু কিশমিস দেওয়া বর্ধমানের এই জমজ মিষ্টির স্বাদই আলাদা।

বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বর্ধমানে এসেছিলেন। বর্ধমানের রাজা বড়লাটকে খুশি করতে কারিগরকে স্পেশাল মিষ্টি তৈরির নির্দেশ দেন। সেই সূত্রেই জন্ম নেয় যমজ মিষ্টি সীতাভোগ মিহিদানা। বর্ধমানের বিশ্ববিখ্যাত বাসমতী চালের গুঁড়োর সঙ্গে ছানা মেখে তৈরি হল সীতাভোগ, বেসনের সঙ্গে সেই চালগুঁড়ি দিয়ে তৈরি হল মিহিদানা। ঘিয়ে ভাজা রসালো ঝরঝরে সেই মিষ্টির স্বাদই আলাদা।

MIHIDANA

মিষ্টি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যে সীতাভোগ মিহিদানা পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই অতি নিম্নমানের। স্টেশন লাগোয়া কিছু দোকান থেকে তা কিনে নিয়ে গিয়ে তা বিক্রি করা হয়। তার দামও তুলনামূলকভাবে কম, মানও আসলের ধারেকাছে থাকে না। অনেক সময় তা পচে নষ্টও হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এইসব সস্তার মিহিদানায় যে রঙ ব্যবহার করা হয় তা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই সীতাভোগের স্বাদ নিতে গেলে পদে পদে ঠকার সম্ভাবনাই বেশি। আসল সীতাভোগের দামও বেশি। তার স্বাদও অতুলনীয়। তাই সাবধান। বর্ধমান বা তার আশপাশের স্টেশনের সীতাভোগ মিহিদানা কিনে তার স্বাদ পরখ করতে গেলে আপনি ঠকবেন পদে পদে। বর্ধমানের বাসিন্দারা কখনও এখান থেকে সীতাভোগ মিহিদানা ভুলেও কেনেন না।

পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, সীতাভোগ মিহিদানার উত্কৃষ্ট মান বজায় রাখতে প্রশাসন সব সময়ই সচেষ্ট। নিম্নমানের সীতাভোগ মিহিদানা তৈরি আটকাতে মাঝেমধ্যেই অভিযান চলে। রেল স্টেশনে স্টল তৈরি করে সীতাভোগ মিহিদানা বিক্রির পরিকল্পনাও নিয়েছে প্রশাসন। তা শুরু হলে আসল নকলের ফারাক যাত্রীরা বুঝতে পারবেন। সঠিক দামে উত্কৃষ্ট মানের সীতাভোগ মিহিদানা পাবেন তাঁরা। এতে সীতাভোগ মিহিদানার চাহিদা আরও বাড়বে।

First published: 11:47:20 AM Dec 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर