corona virus btn
corona virus btn
Loading

চারপাশে শ্মশানের নিস্তব্ধতা, আমফানে ছারখার বাঙালির উইকএন্ড ডেস্টিনেশন

চারপাশে শ্মশানের নিস্তব্ধতা, আমফানে ছারখার বাঙালির উইকএন্ড ডেস্টিনেশন

বুলবুল, ফণী, লকডাউন, আমফান..পরের পর ধাক্কায় শরীর-মন ভেঙে গেছে বকখালির। বাঙালির প্রিয় পর্যটককেন্দ্র এখন ধুঁকছে।

  • Share this:

#বকখালি: একাকী। নির্জন। চরাচর জুড়ে যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। পাগল পারা হাওয়ায় পাক খাচ্ছে সর্বনাশের গল্প। আমফানে বিধ্বস্ত বকখালি জুড়ে শুধুই হাহাকার।

চেনা সমুদ্র আজ অচেনা। কেমন যেন থমথমে। নির্জন সৈকত অবসন্ন। ক্লান্ত। একা। সোনালী বেলাভূমিতে ঢেউ ভাঙার শব্দ।  না কী মন ভাঙার?

বুলবুল, ফণী, লকডাউন, আমফান..পরের পর ধাক্কায় শরীর-মন ভেঙে গেছে বকখালির। বাঙালির প্রিয় পর্যটককেন্দ্র এখন ধুঁকছে। সমুদ্র পাড় জুড়ে শুধুই ধ্বংসের ছবি।

আইসক্রিম,চা-কফি, এগ-চাউমিনের দোকান সব লন্ডভন্ড।  কিছুই আস্ত নেই। ঝড়ের তাণ্ডবে মুখ থুবড়ে পড়েছে ঝিনুকের দোকান। বুলবুলের ক্ষতি সামলে উঠতে না উঠতেই লকডাউন। সেই মার্চ থেকে দোকান বন্ধ। নেই পর্যটক। বন্ধ রোজগার। আমফানে সব শেষ।

স্থানীয় ঝিনুক বিক্রেতা নিতাই হালদার বলছিলেন, "কাকদ্বীপের চেয়ে হয়ত তাঁদের ক্ষতি একটু কম। তা বলে কেউ তাঁদের খোঁজ নেবেন না? ত্রাণের ছিটেফোঁটা মেলেনি আমাদের। মাছের মিন ধরে যে কটা পয়সা কুড়িয়ে বাড়িয়ে আসছে, তাতে আধবেলা খাবার জোটে না। আবার কবে ব‍্যবসা জমবে, সেটাও জানি না।"

ভাঙা ঘরে, খালি পেটে, পাহাড় প্রমাণ ক্ষতির হিসেব কষছে বকখালি।  গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বকখালি সমুদ্র সৈকত লাগোয়া রাস্তার পাশে ফাস্ট ফুডের দোকান চালান গীতারানি পাত্র। ছয়জনের পরিবার নির্ভরশীল চাইনিজ ফুডের দোকানের ওপরে। লকডাউনে পথে বসেছে পুরো পরিবারটা। সুপার সাইক্লোন আমফান কেড়ে নিল জীবনের শেষ আশা-ভরসা টুক। আমফানের ধাক্কায় সি-বিচ লাগোয়া ফুড স্টল তছনছ। চোখের জল সামলাতে সামলাতে গীতারানী বলছিলেন, "বাঁচার কোনও আশা দেখছি না। সব শেষ হয়ে গেল চোখের সামনে। কাল কি খাব জানি না।" বলতে বলতেই গলা ধরে যায় গীতারানীর। সাগর নাকি নেয় না কিছুই। সব ফিরিয়ে দিয়ে যায়। তাঁদের দিন ফিরিয়ে দেবে তো সাগর? ফিরে আসবেন তো পর্যটকরা? উত্তর হাতড়ে বেড়াচ্ছে অসহায় দিন কাটানো মানুষগুলি।

PARADIP GHOSH 

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: May 25, 2020, 9:04 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर