Bengal Women Cabinet Ministers : নারীশক্তির জয়! মমতার মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ 'বাংলার মেয়ে' ৯

বাংলার মন্ত্রিসভায় মহিলা প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে

শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রত্না দে নাগ, শিউলি সাহা-সহ মন্ত্রিসভায় থাকছে একগুচ্ছ মহিলার(Bengal Women Cabinet Ministers) জোরালো উপস্থিতি। জায়গা পেলেন জঙ্গলমহলের তিন মহিলা মন্ত্রী। এভাবেই আগামী পাঁচ বছর নারী শক্তির ক্ষমতায়নের এক অন্য গল্প লিখবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার।

  • Share this:

    কলকাতা : প্রচারের শুরু থেকেই স্লোগান ছিল 'বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়'। এবার সেই স্লোগানেরই চাক্ষুষ রূপ দেখা গেল মন্ত্রীসভাতেও (WB Cabinet)। ক্যাবিনেট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন একাধিক মহিলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ক্যাবিনেটে মহিলা মন্ত্রীর (Bengal Women Cabinet Ministers) সংখ্যা দাঁড়াল ৯। ক্যাবিনেট মন্ত্রী হয়েছেন শশী পাঁজা। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রত্না দে নাগ, থেকে শিউলি সাহা-সহ মন্ত্রিসভায় থাকছে একগুচ্ছ মহিলার জোরালো উপস্থিতি। উল্লেখযোগ্যভাবে এবারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Bandopadhyay) মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন জঙ্গলমহলের তিন মহিলা মন্ত্রী। এভাবেই আগামী পাঁচ বছর নারী শক্তির ক্ষমতায়নের এক অন্য গল্প লিখবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার।

    কোভিডকালে অনাড়ম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয় সোমবার। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে শপথ নিলেন পূর্ণ মন্ত্রীরা। একসঙ্গে শপথ হয় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদেরও। এদিন মহিলাদের মধ্যে শপথ নিলেন, প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রত্না দে নাগ, সন্ধ্যারাণী টুডু, শিউলি সাহা, ইয়াসমিন সাবিন, বীরবাহা হাঁসদা, জোৎস্না মান্ডি।

    এবারে লক্ষ্যণীয়ভাবে জঙ্গলমহল থেকে জোরালো উপস্থিতি চোখে পড়ল মহিলা মন্ত্রীদের। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম– এই তিন জেলার জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকার উন্নয়নের জন্য সন্ধ্যারানি টুডু, জ্যোৎস্না মান্ডি ও বীরবাহা হাঁসদার উপরেই দায়িত্ব সঁপলেন এই মুহূর্তে দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বনমহলের তিন জেলা থেকে কোনও পুরুষ নয়, এবার শুধু এই তিন মহিলাই মন্ত্রী হচ্ছেন। জ্যোৎস্না মান্ডি ২০১৬ সালে প্রার্থী হয়েই প্রথম রাজনীতিতে পা রাখেন। তবে বাড়িতে রাজনৈতিক আবহেই বড় হয়েছেন। তাঁর দাদু মকর টুডু সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন। বিধায়ক জ্যোৎস্না বলছেন, “মেয়েরা শুধু হেঁশেল সামলায় তা নয়। সব কাজ করতে পারে। দিদি আমাদের উপর আস্থা রাখায় আমরা কৃতজ্ঞ।”

    পুরুলিয়ার (Purulia) মানবাজারের তিনবারের বিধায়ক কাদলাগোড়ার বাসিন্দা সন্ধ্যরানি টুডু এবার জয়ের হ্যাটট্রিক করে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন। ২০১৬ সালে সন্ধ্যারানি টুডু অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তার আগে ২০১১ সালে বিধায়ক হওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই ২০১২ সালে তাঁকে পরিষদীয় সচিব করা হয়। পুরুলিয়ার ঘরের মেয়ের রাজনৈতিক উত্তরণে খুশি দক্ষিণ পুরুলিয়া-সহ গোটা জেলা। বিধায়ক সন্ধ্যারানি টুডুর কথায়,“আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি যথাযথ ভাবে পালন করব।সেইসঙ্গে এই জঙ্গলমহল থেকে আরও দুই রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পাচ্ছেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের দু’বারের বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি ও ঝাড়গ্রামের তারকা বিধায়ক বীরবাহা হাঁসদা। সন্ধ্যারানি টুডু অতীতে রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও জ্যোৎস্না ও বীরবাহা হাঁসদা এবারই প্রথম মন্ত্রী হচ্ছেন।

    এদিন শপথ গ্রহণের আগে কেঁদে ফেললেন রত্না দে নাগ। শিউলি সাহা বলেন, ‘দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ আগেও পেয়েছি। তিনবার বিধায়ক হয়েছি। মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়ে আনন্দ হচ্ছে।’ বীরবাহা সাঁওতালি চলচ্চিত্র জগতের নায়িকা। তাঁরও অবশ্য রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছে আগেই। তিনি ঝাড়খণ্ড পার্টির (নরেন) সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর বাবা প্রয়াত নরেন হাঁসদা। মা চুনিবালা হাঁসদাও ছিলেন বিধায়ক। ভোটের আগে তিনি তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠা করা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। বীরবাহা হাঁসদা বলেন, ‘নিজের এলাকার পাশাপাশি রাজ্যের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। জঙ্গলমহলে উন্নয়ন ২০১১ সাল থেকেই হয়ে আসছে। আরও সুন্দরভাবে কীভাবে কাজ করা যায়, তার চেষ্টা করব।’

    অন্যদিকে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলার মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দল পরিবর্তন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা আমার কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। মালদার উন্নয়নে আমি চেষ্টা করব।’ শপথ নিয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, "মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ।"

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published: