Bengal Election 2021: নেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, সিঙ্গুরের দুই সেনানীর লড়াই শুধু ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে 

Bengal Election 2021: নেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, সিঙ্গুরের দুই সেনানীর লড়াই শুধু ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে 

নানা ইস্যুতে দু'জন পরস্পর বিরোধী হলেও, কখনও যে একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হবেন এমনটা কল্পনা করতে পারেনি কেউই। তবে কথায় আছে রাজনীতিতে সবই সম্ভব।

নানা ইস্যুতে দু'জন পরস্পর বিরোধী হলেও, কখনও যে একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হবেন এমনটা কল্পনা করতে পারেনি কেউই। তবে কথায় আছে রাজনীতিতে সবই সম্ভব।

  • Share this:

#সিঙ্গুর: ৭২ বনাম, ৮৯ এর লড়াই। ওজন বনাম বয়সের লড়াই। সংখ্যা তত্ত্বের লড়াই বনাম কে আপন কে পর বুঝে নেওয়ার লড়াই। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটের পরে সিঙ্গুর (Singur) সাক্ষী থাকতে চলেছে এরকমই এক লড়াইয়ের। সৌজন্যে ৭২ কেজি ওজনের বেচারাম মান্না (Becharam Manna) বনাম ৮৯ বছরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (Rabindranath Bhattachariya)। নানা ইস্যুতে দু'জন পরস্পর বিরোধী হলেও, কখনও যে একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হবেন এমনটা কল্পনা করতে পারেনি কেউই। তবে কথায় আছে রাজনীতিতে সবই সম্ভব। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) টিমে থেকে জমির লড়াই করা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সিঙ্গুর আসন থেকে পদ্মের চাষ করতে চান।

সিঙ্গুর আসন থেকে ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক সভায় তিনি নিজেই বলেছেন, আমি সিঙ্গুর থেকে লড়তে চেয়েছিলাম। বেচাকে কতবার বলেছি মাষ্টারমশাইয়ের সাথে কথা বল। উনি বয়জ্যেষ্ঠ। হঠাৎ করেই তো আর ওনাকে বলে দেওয়া যায় না। আপনি দাঁড়াবেন না আমি দাঁড়াব। জমি আন্দোলনের এই জায়গাগুলো থেকে আমি লড়তে চেয়েছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য জমি আন্দোলনের অপর সুতিকা গৃহ থেকে লড়াই করছেন। তবে নন্দীগ্রামের মতো না হলেও প্রচারের আলো এবারও রয়েছে এই সিঙ্গুর আসনের ওপরে। কারণ মাষ্টারমশাই বনাম বেচারাম। জমি আন্দোলনের দুই সেনানীর এই মুখোমুখি লড়াই দেখতে।

আরও পড়ুন বর্ধমানে রোড শোর পর প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করলেন অনুব্রত মণ্ডল

রাজনীতির হিসেব বলছে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ফল অনুযায়ী এই আসনে এগিয়ে বিজেপি। যদিও ২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হাতের তালুর মতো চেনেন এলাকাকে। সেই জন্যেই, আমি কোনও এলাকা বাদ রাখিনি। ঘরে ঘরে, অলিতে গলিতে আমি সকলের কাছে পৌঁছে গিয়েছি। তাছাড়া সারাবছর আমি মানুষের সাথেই থাকি। ফলে এই নির্বাচন আমিই জিতছি আশাবাদী বেচারাম। লড়াই যখন ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে তখন জমি ছাড়তে রাজি নয় মাষ্টারমশাই। তবে প্রচারে বেরিয়ে তিনি যে জোড়াফুল ছেড়ে পদ্মে গিয়েছেন সেটা বোঝাতেই সময় লাগছে। একই সাথে বয়স হয়েছে, তাই একটু মেপে চলতে হচ্ছে কোভিড পরিস্থিতিতে। তবে তিনিও আশাবাদী। মাষ্টারমশাইয়ের সাফ কথা, বয়স ফ্যাক্টর নয়। আমার লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। আমার লড়াই পরিবর্তনের জন্যে। আমার লড়াই মাত্রাছাড়া দূর্নীতি, অপশাসনের বিরুদ্ধে। শেষ প্রচারের দিনেও তাই দৌড়তে দেখা গেল জমি আন্দোলনের দুই সৈনিককে।

যতটা সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা। তবে একে অপরের বিরুদ্ধে একটা লাইনও খরচ করতে নারাজ। শুধু জোড়া ফুল শিবিরের দাবি, পদ্মের প্রার্থী ঘোষণার পরে বিক্ষোভ মনে আছে তো! আর পদ্ম শিবিরের দাবি, মানুষ কাকে চায় তা বুঝিয়ে দিয়েছে ২০১৯ সালের লোকসভায়।রাজনীতির অঙ্কে জমজমাট গুরু-শিষ্যের লড়াই জমি আন্দোলনের সূতিকা গৃহ সিঙ্গুরে।

Published by:Pooja Basu
First published: