corona virus btn
corona virus btn
Loading

দেবতার পায়ে আবির দিয়ে স্বাভাবিক থাকল রাজার শহর, অপেক্ষা আগামিকালের

দেবতার পায়ে আবির দিয়ে স্বাভাবিক থাকল রাজার শহর, অপেক্ষা আগামিকালের

আজ, সোমবার রঙ খেলেনি বর্ধমান। চারদিক যখন রঙের উৎসবে মাতোয়ারা থাকে তখন একেবারেই রঙ এড়িয়ে স্বাভাবিক ইতিহাস প্রাচীন এই শহর।

  • Share this:

#বর্ধমান:  রঙে রঙে রাঙা চারদিক। ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ল আবির। সব দেখেও এক্কেবারে স্বাভাবিক থাকল বর্ধমান। বছরের আর পাঁচটা দিনের মতোই স্বাভাবিক। তবে প্রহর গুনছেন বর্ধমানের বাসিন্দাও। সবাই যখন রঙ তোলার কাজে ব্যস্ত থাকবেন তখন মঙ্গলবার আবির, রঙ নিয়ে পথে পা দেবেন বর্ধমানের বাসিন্দারা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাজবে সাউন্ড বক্স। আওয়াজ উঠবে হোলি হ্যায়।

আজ, সোমবার রঙ খেলেনি বর্ধমান। চারদিক যখন রঙের উৎসবে মাতোয়ারা থাকে তখন একেবারেই রঙ এড়িয়ে স্বাভাবিক ইতিহাস প্রাচীন এই শহর।  রাজ আমল থেকে এই প্রথা চলে আসছে বর্ধমানে। আজ, সোমবার বর্ধমানে ঠাকুরের দোল। আগামিকাল, মঙ্গলবার  আম জনতার।

আজ রাজা না থাক, রাজার তৈরি করা প্রথাকে ঐতিহ্য হিসেবে মেনে নিয়েছে রাজবাড়ির শহর বর্ধমান। তাই আজ, সোমবার দোল পূর্ণিমায় সকাল সকাল স্নান সেড়ে মন্দির গিয়ে পুজো দিলেন বর্ধমানের বাসিন্দারা। আবির দিলেন দেবতার পায়ে। বর্ধমানের রাজা মহাতাব চাঁদ ১৮৫০ সাল নাগাদ এই প্রথার প্রচলন করেন। তিনি ঘোষণা করেন দোল পূর্ণিমার দিনটি শুধুমাত্র দেবতার দোল হিসেবেই পালিত হবে। দেবতার পায়ে আবির দিয়ে আর্শীবাদ নেবেন সকলে। পরদিন দোল খেলবে সাধারন মানুষ। সে সময় বর্ধমানের সব বৈষ্ণব মন্দিরেই রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে দোল পূর্ণিমা পালন করা হতো। যেহেতু দোল পূর্ণিমার দিন দেবতার দোল তাই এদিন প্রজাদের দোল খেলা নিষিদ্ধ ছিল। পরদিন শহর আবিরে আবিরে রাঙা হয়ে উঠতো। পরদিন রাজা নিজেও রাজ কর্মচারীদের সঙ্গে দোল খেলায় মেতে উঠতেন।  দেদার খানাপিনার ব্যবস্থা থাকতো রাজবাড়িতে।

সেই ঐতিহ্য মেনেই আজও দোল পূর্ণিমায় দেবতার পায়ে আবির দিলেন রাজবাড়ির কুল পুরোহিত। লক্ষ্মী নারায়ন জিউ, রাধা মাধব জিউ মন্দিরে দেবতার পায়ে আবির দিয়ে বিশেষ পুজো হল। সেই পুজো উপলক্ষে মন্দিরে ভিড় করেন শহরের পুরুষ মহিলারা। বসন্ত উৎসব উপলক্ষে শহর জুড়ে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বসন্তকে আহ্বান করা হল। পথ নৃত্যের আয়োজন করে বিভিন্ন সংস্হা। ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল গানে মুখরিত হল চারপাশ। বর্ধমান টাউন হল ময়দানেও অনুষ্ঠিত হল বসন্ত উৎসব।

কিন্তু রঙ খেলার কথা না ভাবতেই পারেন নি এ শহরের বাসিন্দারা ৷ তাঁরা এদিন আবির কিনলেন। বিশেষ পোশাকও কিনলেন। ছোটদের জন্য কেনা হল মুখোশ, টুপি, পিচকারি, বেলুন, জলে গোলার রঙ। সবই আগামিকালের জন্য। আপাতত শুধু রাতটুকু পার করার অপেক্ষা।

Saradindu Ghosh

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: March 9, 2020, 4:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर