ফাইভ পাশ ঝাড়ুদারই ছিল হাসপাতালের টেকনিশিয়ান! গ্রেফতার শিশু পাচারকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত

ফাইভ পাশ ঝাড়ুদারই ছিল হাসপাতালের টেকনিশিয়ান! গ্রেফতার শিশু পাচারকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত

অপারেশন থিয়েটার থেকে নার্সিংহোমের যাবতীয় কাজ সামলানো সেই টেকনিসিয়ানের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে চোখ কপালে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের।

  • Share this:

SARADINDU GHOSH

#বর্ধমান: ঝাড়ুদারকে টেকনিসিয়ান সাজিয়ে রাখা হয়েছিল বর্ধমানের লাইফ লাইন নার্সিংহোমে। নার্সিংহোম থেকে সদ্যোজাত পাচারকাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। অপারেশন থিয়েটার থেকে নার্সিংহোমের যাবতীয় কাজ সামলানো সেই টেকনিসিয়ানের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে চোখ কপালে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের। জেরায় তারা জানতে পেরেছে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল ধৃত টেকনিসিয়ান শৈলেন রায়। সেই বিদ্যে নিয়েই সে রোগীর রক্ত নেওয়া, স্যালাইন দেওয়া থেকে শুরু করে অপারেশন থিয়েটার সামলাতো।

ধৃত টেকনিসিয়ান শৈলেন রায় ছিল শিশু পাচারকান্ডের অন্যতম নাটের গুরু। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে কাটোয়া থানার পুলিশ। জেরায় জানা গিয়েছে, কাটোয়ার দাঁইহাটের বকুলতলায় বাড়ি শৈলেনের। ফোর পাশ করে সে ক্লাস ফাইভে উঠেছিল। তারপর সে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে দাঁইহাটের একটি নার্সিংহোমে ঝাঁট দেওয়ার কাজ জুটিয়েছিল সে। অন্যান্য ফাইফরমাশও খাটতো। বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে নার্সিংহোমে রোগী আনতে সে বিশেষ পারদর্শী ছিল। এভাবেই সে বর্ধমানের লাইফ লাইন নার্সিংহোমের মালিক তথা ডাক্তার মোল্লা কাশেম আলির প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠে। টেকনিসিয়ানের গুরু দায়িত্বের পাশাপাশি নার্সিংহোমের অনেক কাজই সামলাতো একা হাতে।

এই নার্সিংহোম থেকে কাটোয়ার দম্পতিকে মোটা টাকায় শিশুকন্যা পাচারের অভিযোগে শৈলেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই দম্পতিকেও। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ফেরার ডাক্তার মোল্লা কাশেম আলি। তার হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

কাটোয়ার মহিলাকে গর্ভবতী সাজিয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি রেখে তাকে সদ্যোজাত শিশু কন্যা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তার আগে দম্পতির সঙ্গে মোটা টাকায় রফা করা, শিশুকন্যার বন্দোবস্ত করা, কাগজ পত্র তৈরি করে দেওয়া-সহ সব ক্ষেত্রেই শৈলেন গুরু দায়িত্ব পালন করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নার্সিংহোমের রেজিস্টার সহ বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেছে।

First published: 03:48:04 PM Dec 15, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर