রাজ আমলের কোন রাস্তায় কার পার্কিং নিষেধ, জানেন কি ?

রাজ আমলের কোন রাস্তায় কার পার্কিং নিষেধ, জানেন কি ?

ঐতিহ্যবাহী রাস্তা জবর দখল মুক্ত করতে উদ্যোগী হল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসন

  • Share this:

#বর্ধমান: রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী রাস্তা জবর দখল মুক্ত করতে উদ্যোগী হল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। বর্ধমান শহরের বি সি রোড নামে ওই রাস্তায় ইতিমধ্যেই যান বাহন রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই রাস্তায় নতুন করে আর জবর দখল করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রাস্তা দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি তার সৌন্দর্যায়নের একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সহায়তা করছেন বাসিন্দারাও।

বিজয় চাঁদ রোড। সংক্ষেপে বি সি রোড। বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদের নামেই রাস্তার নামকরণ। বর্ধমান রাজবাড়ির সামনে সোনাপট্টির সামনে রয়েছে সুদৃশ্য ঘড়ি। সেই ঘড়ির সামনে থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত রাস্তাই বি সি রোড নামে পরিচিত। 1905 সালে বড়লাট লর্ড কার্জন বর্ধমানে আসেন। তাঁর সম্মানে তৈরি করা হয় সুদৃশ্য সুউচ্চ সুবিশাল এই গেট। পরে রাজা বিজয়চাঁদের নামে তার নাম করণ হয় বিজয় তোরণ। যদিও লোকমুখে কার্জন গেট নামই বেশি উচ্চারিত হয়। সেই কার্জন গেটে থেকে বি সি রোড দিয়ে তাকালে আগে রাজবাড়ির ঘড়ি দেখা যেত। কিন্তু জবর দখলের কারনে সে ঘড়ি আর দেখা যায় না। এই রাস্তাও স্হানে স্হানে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।

রাজ আমলের সেই ঐতিহ্যবাহী রাস্তার হাল ফেরাতেই উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। কয়েক মাস আগে এই রাস্তায় দু চাকা, চারচাকা গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ হয়। গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাজার হাট আটকাতে সর্বক্ষণ ট্রাফিক পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হয়। তার ফলে বি সি রোডে গাড়ি রাখার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। সেই সঙ্গে এই রাস্তায় টোটো পার্কিং ও ঢোকা বন্ধ করেছে প্রশাসন। তার জেরে এখন বি সি রোড চওড়া দেখাচ্ছে অনেকটাই। বাসিন্দারা বলছেন, বি সি রোড জবর দখল করে রাখছে দু পাশের দোকানদারা। তারা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দোকানের বাইরে ফুটপাথে পসরা সাজাচ্ছেন। তার ওপর ফুটপাথ দখল রয়েছেন হকাররা। তাতে ফুটপাথে হাঁটা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর চৈত্র সেল শুরু হলে বি সি রোডে পায়ে হাঁটা দূরের কথা ঢোকাই দায় হয়ে দাঁড়াবে। এই বিষয়টিও নজরে রাখুক প্রশাসন।

পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা বলছেন, বি সি রোড অনেকটা যান মুক্ত হয়েছে। নতুন করে আর জবর দখল করা যাবে না বলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোকানের পণ্য সামগ্রীও বাইরে রাখা যাবে না। এই রাস্তায় দুপাশে মানানসই বাহারি আলো, বসার বেঞ্চ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভা ও বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার।

Saradindu Ghosh

First published: March 14, 2020, 2:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर