সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার নাম করে মোটা টাকা নিলেন আয়া !

সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার নাম করে মোটা টাকা নিলেন আয়া !

অভিযোগ পেয়ে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

  • Share this:

#বর্ধমান: সরকারি হাসপাতালের রোগীকে বাইরে পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা নিলেন আয়া! এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার মন্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা  বিউটি হাজরা (২৬)। বেশ কিছুদিন ধরে কিডনির সমস্যা-সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তাঁকে মুর্শিদাবাদের কান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে কয়েকদিন আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে রেফার করা হয়। এখানে ভর্তি পর রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করানো হয়েছিল বিউটির। তখনও এক মাসি টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর চিকিৎসক বুকের একটি পরীক্ষা করানোর  পরামর্শ দিয়েছিলেন। বুকে জল জমেছে কি না তা জানার ওই পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে এক আয়া পরীক্ষা করানোর জন্য টাকা নেয় বলে অভিযোগ। বিউটির বাবা বাবলু হাজরা বুধবার  হাসপাতালের  সুপারের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেনে।

বাবলুবাবু বলেন, ওই মাসি তাঁদের জানান হাসপাতালে ওই পরীক্ষা করানো হবে না। বাইরে থেকে করাতে হবে। তার জন্য দু হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু বাবলুবাবুর কাছে মাত্র এক হাজার টাকা ছিল। তিনি সেটাই দেন। অভিযোগ, এক হাজার টাকা নিলেও ওই আয়া বুকের পরীক্ষার রিপোর্ট দেয় নি।

সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই টাকা দেওয়ার পর তাঁদের হাতে আর কোনও টাকাই নেই। এমনকী খাবার পয়সাটুকুও নেই। সুপার যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন সেই দাবি করেছেন বাবলুবাবু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  অবশ্য জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশকে জানানো হচ্ছে। বেনিয়ম করে থাকলে শাস্তি পেতে হবে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আত্মীয়দের অনেকেই অবশ্য জানাচ্ছেন এটা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। এক শ্রেণির আয়া কার্যত দালালের কাজ করছেন। বরিহাগতরাও রয়েছে। তারা বাইরের প্যাথলজি সেন্টারের সঙ্গে যোগসাজশ করে দুঃস্থ পরিবারের রোগীদের ভুল বুঝিয়ে মোটা টাকায় বাইরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে।  তার বদলে মোটা টাকা কমিশন পায় তারা। আবার রোগীর আত্মীয় পরিজনদের কাছ থেকেও মোটা টাকা নেওয়া হয়।

Saradindu Ghosh

First published: February 20, 2020, 7:41 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर