উপাচার্য, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী সংগঠন...একই সঙ্গে তিনটে বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্বভারতী

উপাচার্য, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী সংগঠন...একই সঙ্গে তিনটে বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্বভারতী

একসঙ্গে তিন তিনটে বিক্ষোভ বিশ্বভারতী চত্বরে । অন্যদিকে, বিজেপির পোস্টার পড়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচিল জুড়ে ।

একসঙ্গে তিন তিনটে বিক্ষোভ বিশ্বভারতী চত্বরে । অন্যদিকে, বিজেপির পোস্টার পড়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচিল জুড়ে ।

  • Share this:

    Indrajit Ruj

    #বোলপুর: বিশ্বভারতীতে ঘটনার ঘনঘটা । একদিকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী রাস্তা ফেরতের দাবিতে বিশ্বভারতীর ছাতিমতলায় মৌন অবস্থানে বসেছিলেন তাঁর কর্মী, অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের নিয়ে । ঠিক তখনই ছাতিম তলার বাইরে বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রীরা মঞ্চের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। অন্যদিকে, উপাসনা গৃহের সামনে বোলপুর ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয় উপাচার্যের বিরুদ্ধে।

    উপাসনা মন্দির থেকে কালী সয়ের পর্যন্ত দীর্ঘ চার কিলোমিটার রাস্তা সেই রাস্তা রাজ্য সরকার বিশ্বভারতীর কাছ থেকে ফেরত নিয়ে নিয়েছে, সেই রাস্তা ফেরতের দাবিতে এ দিন মৌন বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মীরা ।

    আবার একই সময়ে ছাতিমতলার বাইরে বিশ্বভারতীর একদল ছাত্রছাত্রী, যাঁরা ছাত্রছাত্রী ঐক্য মঞ্চ নামেই পরিচিত, তাঁরাও গেটের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, বিশ্বভারতীর কর্মসমিতির বৈঠকের ইকোনমিক্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যকে অনৈতিক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁকে পুনরায় ফেরত আনতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের দাবি ছিল, বিশ্বভারতীর মধ্যে বিশ্বভারতীর উপাচার্যর নেতৃত্বে এক বিশেষ রাজনৈতিক দলকে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে ও বিশ্বভারতীতে উপাচার্য একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন । এই সমস্ত কিছু বন্ধ করার দাবি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা বাইরে বিক্ষোভ দেখান।

    আবার এর কিছুটা দূরে বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দিরের উল্টোদিকে রাস্তায় হস্তশিল্প ব্যবসায়ীরা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাঁদের দাবি ছিল, ২০১৯-২০ সালে পৌষ মেলার সময় সমস্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে সিক্যুরিটি মানি নেওয়া হয়েছিল তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে । দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই টাকা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ফেরত দেওয়া কথা বললেও কোনও ব্যবসায়ী তা ফেরত পাননি। সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত মৌন অবস্থান বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পর উপাচার্যকে বিশ্বভারতী নিরাপত্তাকর্মীরা বের করে দেওয়ার পর ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়েন অন্যান্য কর্মীরা। ছাতিমতলার ভিতরে ছাত্র-ছাত্রীরা ঢুকতে গেলে তাঁদেরকে বাধা দেয় বিশ্বভারতী নিরাপত্তাকর্মীরা এবং ধস্তাধস্তিও হয় । পরে যদিও বিক্ষোভ তুলে নেন ছাত্ররা । ছাত্রদের অভিযোগ উপাচার্য ভয় পেয়েছেন তাই তাঁরা ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না । তাঁরা এরপরে বৃহত্তর প্রতিবাদে শামিল হতে চলেছেন ।

    প্রসঙ্গত আজ সকালে বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দিরের সামনে কেউ বা কারা বিশ্বভারতীর যে বেরিকেট রয়েছে তার ওপরে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়ে যায় এবং অনুপম হাজরা বিজেপি নেতার নামে পোস্টার পড়ে, অনুপম হাজরা জিন্দাবাদ এই ভাবেই পোস্টার দেওয়া হয়। এই পোস্টার ও দলীয় পতাকা বিশ্বভারতী নিরাপত্তাকর্মীদের চোখে পড়তেই তা সরিয়ে নেওয়া হয় । এই বিষয়ে বিজেপি ও তৃণমূল দুইজন দুইজনের উপরে দোষারোপ করেছে।

    Published by:Simli Raha
    First published: