দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

সাইকেলে চড়ে গ্রামে আসছেন স্কুলের মনোজ মাস্টার, টোল খুলে আদিবাসী শিশুদের পড়াচ্ছেন পরম মমতায়

সাইকেলে চড়ে গ্রামে আসছেন স্কুলের মনোজ মাস্টার, টোল খুলে আদিবাসী শিশুদের পড়াচ্ছেন পরম মমতায়
সংগৃহীত ছবি

যাদের বাড়িতে এখনও ২জি ফোন থাকাটাই বিলাসিতা। সেখানে ইন্টারনেট তো স্বপ্ন। এমতাবস্থায়

  • Share this:

#অশোকনগর: টানা সাত মাস বন্ধ স্কুল কলেজ। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই করোনার ভয়। লকডাউন। বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সব বন্ধ। প্রযুক্তি দিল বিকল্প পথ। শুরু হল অন লাইনে পড়াশুনা। বেসরকারি স্কুলগুলির দেখানো পথ ধরে সরকারি সাহা্য্য পাওয়া স্কুলগুলি ও শুরু করল একই পদ্ধতিতে শিক্ষাদান। কিন্তু সরকারের সাহায্য পাওয়া স্কুলগুলিতে প্রচুর আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করে। যাদের বাড়িতে এখনও ২জি ফোন থাকাটাই বিলাসিতা। আবার কারও বাড়িতে তাও নেই। ইন্টারনেট কী জিনিস, অনেকেই জানেন না। ফলে এই সমস্যার মুখোমুখি প্রায় সব সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলগুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

অশোকনগর বিদ‍্যাসাগর বানী ভবন। সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলের ক্ষেত্রেও উল্লেখিত সমস্যা হচ্ছিল। প্রধান শিক্ষক মনোজ ঘোষের নজর এড়ায়নি পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার বিষয়টি। তাঁর বিদ্যালয়ের অন্য পড়ুয়ারা অনলাইন ক্লাসে কিছুটা হলেও পড়াশোনা করতে পারলেও আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা আদিবাসী পড়ুয়ারা পিছিয়ে পড়ছিল।  উপায় বেড় করলেন তিনি। দত্তপুকুর থেকে স্কুলে এসে নিজের সাইকেল নিয়ে পৌছে গেলেন অশোকনগরের বাইগাছি এলাকায়। এখানকার আদিবাসী পাড়ার ছেলে-মেয়েরা এখন তাঁরই স্কুলে পড়ে।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সোমবার আর শনিবার তিনি শুরু করেছেন ছাত্র পড়ানো। মাস দুয়েক ধরে এইভাবেই পিছিয়ে থাকা পরিবারের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা দিয়ে চলেছেন তিনি। পুরনো দিনের টোলের মত করে বাইগাছির এক বাসিন্দারা দাওয়াতে চলছে লকডাউন পর্বের এক অন্য এক শিক্ষা ব্যবস্থা।  নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ এস্থার বলছেন, ভারতের মত দেশে অন লাইন পড়াশোনা বৈষম্য তৈরী করছে। যারা নেট কানেকশন ও ইন্টারনেটের সুযোগ পাচ্ছেন, চওড়া বড় ফোন কেনার সামর্থ রয়েছে, শুধু তাঁদের পরিবারের ছেলে মেয়েরা শুধুমাত্র পড়াশোনা করতে পারছে বর্তমান সময়ে। ফলে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অশোকনগর বিদ‍্যাসাগর বানী ভবন প্রধান শিক্ষক এই অনন্য লড়াই পথ দেখাবে অন্যদের।

বৈষম্য দূরের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সাদরে গ্রহন করেছে আদিবাসী পরিবারের অভিভাবকরা। তাঁদের একজন মামনি মুন্ডার কথায়, ঘরের চালা ঠিক নেই। মোবাইল ফোন আমাদের স্বপ্ন। মনোজ মাস্টার আসে বলে বাচ্চা একটু পড়ছে। আর মনোজ মাস্টারের ছাত্রীরা বলছে স্যার পাড়ায় এসে পড়াচ্ছেন। সপ্তাহে দু'দিন দু-ঘন্টার এই স্কুলে সব শ্রেনীর ক্লাসকে প্রায় এক সঙ্গে পড়াচ্ছেন তিনি। তবে সবটাই চলছে সামাজিক দূরত্ব মেনে।

Rajarshi Roy

Published by: Shubhagata Dey
First published: October 11, 2020, 6:36 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर