দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আজ বিশ্বভারতীতে স্লোগান তুললেন অনুব্রত মণ্ডল, রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে

হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আজ বিশ্বভারতীতে স্লোগান তুললেন অনুব্রত মণ্ডল, রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে

রাজ্য সরকারের ফেরত নেওয়া রাস্তা জেলা প্রশাসনের উদ্বোধনের পর আরও একবার দলীয়ভাবে উদ্বোধন করলেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

  • Share this:

#শান্তিনিকেতন: রাজ্য সরকারের ফেরত নেওয়া রাস্তা জেলা প্রশাসনের উদ্বোধনের পর আরও একবার দলীয়ভাবে উদ্বোধন করলেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

২৮ ডিসেম্বর ২০২০। বোলপুর গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ২০১৭ সালে বিশ্বভারতীর তৎকালীন উপাচার্য স্বপন দত্তের মাধ্যমে বিশ্বভারতীকে যে রাস্তা (বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দির থেকে কালী সয়ের মোড় পর্যন্ত। দৈর্ঘ্য- ৪ কিলোমিটার) দেওয়া হয়েছিল, সেই  রাস্তা পুণরায় রাজ্য সরকার ফেরত নিয়ে নিল। এরপরই বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বিশ্বভারতীর অশ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং বলেন, রাস্তা নিয়ে  কোনও অসুবিধা হলে সরাসরি পুলিশ সুপার ও বীরভূমের জেলাশাসককে  জানানোর কথা। কারণ অশ্রমিকদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে আবেদন করেছিলেন, এই রাস্তা দিয়ে তাঁদের যাতায়াতে অসুবিধার কথা। সেই শুনেই মুখ্যমন্ত্রী তড়িঘড়ি রাস্তা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত নথি সই করে আসার কথা বলেন।

১ জানুয়ারি ২০২১, রাজ্যের ফেরত নেওয়া শান্তিনিকেতনের দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার রাস্তা আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর ও ঠাকুর পরিবারের সদস্যের হাত দিয়ে উদ্বোধন হয়। কিন্তু বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এই রাস্তা নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা দেখায়নি তখন। তাঁরা তড়িঘড়ি শান্তিনিকেতন দূরদর্শন কেন্দ্রের সামনে থেকে বোলপুর ফায়ার বিগেড পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০০ মিটার রাস্তা বন্ধ করে দিতে উদ্যত হয়। সেই দিনই জেলার পুলিশ সুপার বীরভূম জেলার ডিএম গিয়ে বিশ্বভারতীর ওই রাস্তা বন্ধ করার জন্য যে পাঁচিল তৈরি করা হচ্ছিল, সেই কাজ বন্ধ করে দেন। বলা হয়েছিল, রাস্তা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, বিশ্বভারতী কেন কেউই কোনও রাস্তা কোনওদিন বন্ধ করতে পারে না। বন্ধ করতে হলে উপযুক্ত নথি দেখাতে হবে। পাশাপাশি, কেন বন্ধ করা হচ্ছে সেই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে বিশ্বভারতীকে। এমনকি কোনও কিছু না করেই বিশ্বভারতী কেন এই রাস্তা বন্ধ করতে চাইছে, তা বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষকে  জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা যাতে কোনওভাবে ভঙ্গ না হয় তার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই প্রাচীরের জায়গাতেই পুলিশ-পিকেট বসানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার অনুব্রত মণ্ডল উপাসনা মন্দিরের সামনে থেকে যে রাস্তাটি কালি সায়র মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত, সেই রাস্তাটি পুনরায় উদ্বোধন করলেন। অনুব্রত মণ্ডল বলেন, "বিশ্বভারতীকে দেওয়া রাস্তাটি তাঁরা কোনও পরিচর্যা করেনি। তাই রাজ্য সরকারের রাস্তাটি পুনরায় তৈরি করা হবে এবং রাস্তাটি রাজ্য সরকার নিয়ে নিয়েছে।" রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের রাস্তা রাজ্য সরকারই নেয়, তাহলে সেখানে কেন তৃণমূলের দলীয় পতাকা দেখা গেল। আবার যদি এই রাস্তা তৃণমূল দখল করে তাহলে কেন প্রশাসনের বেশ কিছু কর্তা অনুষ্ঠানে এলেন? তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে শান্তিনিকেতনের মধ্যে।

কারণ এর আগে বোলপুরে মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো-র দিন শান্তিনিকেতনে ক্যাম্পাসের মধ্যে দলীয় পতাকা দেখা গিয়েছিল। তাই নিয়ে শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক ও বাসিন্দারা তীব্র ধিক্কার জানিয়েছিলেন। কারণ বিশ্বভারতী কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শে পরিচালিত নয়। তাহলে কেন বার বার বিশ্বভারতীকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসা হচ্ছে? অনুব্রত মণ্ডল ২১ ডিসেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, বিশ্বভারতীর উপাচার্য পাগলামি না ছাড়লে বিশ্বভারতীর মধ্যে ঢুকে দলীয় পতাকা, লাগিয়ে দেবেন তিনি। এতদিন বিশ্বভারতীতে কোন রাজনীতি করেননি, এবার তিনি করবেন রাজনীতি করবেন বিশ্বভারতীর অন্দরেই। তাই রাজনৈতিক মহল বলছে অনুব্রত মণ্ডল কথা মতোই কাজ করলেন এ দিন। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন বিশ্বভারতীর মধ্যে ঢুকে রাজনীতি করার কথা, ফলে এ দিন তিনি দলীয় কর্মীদের  নিয়ে এসে বিশ্বভারতীর রাস্তা দখল করলেন। আর তারই ফলস্বরূপ শান্তিনিকেতনের মধ্যে তৃণমূলের স্লোগান শোনা গেল।

Indrajit Ruj

Published by: Shubhagata Dey
First published: January 7, 2021, 8:59 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर