• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • AMRITAVA CHOWDHURY ACCUESED IN JNANESWARI FRAUD CASE SUPPRESSED REAL FACTS FROM HIS VILLAGE NEIGHBOURS DMG

৬ বছর কোথায় ছিল সে? গ্রামের প্রতিবেশীরা প্রশ্ন করলেই কান্নাকাটি করত অমৃতাভ

অমৃতাভ চৌধুরী৷

Jnaneswari Fraud Case: বার বার আত্মীয় পরিজনরা অমৃতাভর (Amritava Chowdhury) ফিরে আসার বিষয়টি রেল দপ্তর বা স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিলেও তাতে কর্ণপাত করেনি অমৃতাভর বাবা-মা৷

  • Share this:

#বর্ধমান: মন্তেশ্বরের বামুনপাড়ার বাসিন্দারাও জানতেন, ২০১০ সালে জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অমৃতাভর। কিন্তু বছর ৬-৭ পর হঠাৎই ফিরে আসেন সেই অমৃতাভ৷ গ্রামের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়রা তখন অনেকেই অমৃতাভকে বলেছিলেন, তিনি যে বেঁচে আছেন তা পুলিশ প্রশাসনকে গিয়ে জানাতে৷ কিন্তু এ কথা বললেই অমৃতাভ কান্নাকাটি করে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করত৷ এমনটাই বলছেন পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বামুন পাড়ার অমৃতাভর পরিজন এবং প্রতিবেশীরা।

কলকাতার জোড়াবাগানে অমৃতাভরা থাকলেও তাদের গ্রামের বাড়ি মন্তেশ্বরের বামুনপাড়া গ্রামে। অমৃতাভর বাবা মিহির চৌধুরি কর্মসূত্রে কলকাতায় গিয়েছিলেন। তবে গ্রামের টানে বারেবারেই মন্তেশ্বরে আসতেন অমৃতাভ।

বামুনপাড়া গ্রামে অমৃতাভর কাকা এবং খুড়তুতো ভাইরা রয়েছেন। তাঁরা বলছেন, জ্ঞানেশ্বরী ট্রেন দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের তালিকায় অমৃতাভের নাম ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার পর অমৃতাভর মৃত্যু নিশ্চিত হলে রেলের তরফ থেকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ মিলেছিল। সেই সঙ্গে অমৃতাভর বোন মহুয়াকে রেল চাকরি দেয়। কিন্তু বছর ছয়েক পর সে ফিরে আসে। বাড়ির ছেলে ফিরে আসায় সকলেই আনন্দিত হয়েছিল। তবে কোথায় ছিল তা জানতে চাওয়া হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তো অমৃতাভ। কান্নাকাটি করত সে। পুলিশকে ঘটনার কথা বলতে বললে আত্মহত্যার হুমকিও দিত অমৃতাভ৷ সেই কারণে তাকে আর ওই বিষয়ে বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলেই দাবি করছেন তার পরিজনরা।

জানা গিয়েছে,বার বার আত্মীয় পরিজনরা অমৃতাভর ফিরে আসার বিষয়টি রেল দপ্তর বা স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিলেও তাতে কর্ণপাত করেনি অমৃতাভর বাবা-মা। অমৃতাভ অতদিন কোথায় ছিল, সেসব কথা তাঁকে জিজ্ঞেস না করার জন্য পরিচিতদের পরামর্শ দিত অমৃতাভর বাবা মা।  আত্মীয়-পরিজনদের তারা জানিয়েছিল, মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে অমৃতাভ। তাই তার কলকাতায় চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এই সময় তাকে কোনও কিছু জিজ্ঞাসাবাদ না করাই ভাল। নচেৎ তার ক্ষতি হতে পারে। কিংবা সে আত্মহত্যা পথ বেছে নিতে পারে। চিকিৎসকরা তেমনই পরামর্শ দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। অমৃতাভর বাবা-মা নিষেধ করে দেওয়ায় এ ব্যাপারে আর অমৃতাভর কাছ থেকে বিস্তারিতভাবে কিছু জানতে চায়নি পরিবারের অন্যান্য সদস্য বা প্রতিবেশীরা।

অমৃতাভর খুড়তুতো দাদা প্রবীর কুমার চৌধুরী বলেন, 'আমাদের ও বলেছিল ওকে নাকি মাওবাদীরা তুলে নিয়ে গিয়ে নিজেদের ডেরায় রেখেছিল৷ এ বিষয়ে পুলিশকে জানানোর কথা বলা হলে ও কান্নাকাটি করত, আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিত৷ ওর বাবা-মাও কিছু জিজ্ঞেস করতে বারণ করেছিল৷ আর এখন যা শোনা যাচ্ছে তাতে তো রেলেরও গাফিলতি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে৷ কেউ মারা না গেলে কী ভাবে তার পরিবারকে চাকরি বা ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হল?' সূত্রের খবর, জেরায় অমৃতাভ সিবিআই আধিকারিকদের জানিয়েছে জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার পর তামিলনাড়ুতে ছিল সে৷ ২০১৭ সালে সেখানে সে ফিরে আসে৷ কিন্তু কী ভাবে সে তামিলনাড়ু পৌঁছল, সেই প্রশ্নের জবাব দেয়নি অমৃতাভ৷ তার দাবি, কিছুই মনে করতে পারছে না সে৷

এখন প্রশ্ন উঠছে,সুকৌশলেই কি বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল অমৃতাভর পরিবার? সে সত্যি করেই যদি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে থাকে তবে তার ফিরে আসার তথ্য তার বাবা বা পরিবারের অন্যান্যরা পুলিশকে জানালো না কেন? জানালে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দিতে হবে বা অমৃতাভর বোনের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে সেই ভেবেই কি সে তথ্য গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবার? এ সব প্রশ্নের উত্তরই পেতে চাইছে সিবিআই।

Saradindu Ghosh

Published by:Debamoy Ghosh
First published: