• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • হাসপাতালে যেতে রোগীর কানের সোনার দুল খুলে দিতে হলো অ্যাম্বুলেন্স চালককে!

হাসপাতালে যেতে রোগীর কানের সোনার দুল খুলে দিতে হলো অ্যাম্বুলেন্স চালককে!

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি একটি হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়, সেক্ষেত্রে শেষ যে হাসপাতালে রোগী যাঁর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখানকার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককেই ডেথ সার্টিফিকেট দিতে হবে৷ (Info-Avijit Chanda)Representative Photo

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি একটি হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়, সেক্ষেত্রে শেষ যে হাসপাতালে রোগী যাঁর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখানকার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককেই ডেথ সার্টিফিকেট দিতে হবে৷ (Info-Avijit Chanda)Representative Photo

টাকা নেই রোগীর আত্মীয়দের। তাই রোগীর কান থেকে খোলা হল সোনার কানের দুল।

  • Share this:

#বর্ধমান: টাকা নেই রোগীর আত্মীয়দের। তাই রোগীর কান থেকে খোলা হল সোনার কানের দুল। তা হাতে পাবার পরই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গড়ালো অ্যাম্বুলান্সের চাকা। সাংসদ কোটার টাকা কেনা অ্যাম্বুলান্সের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির হস্তক্ষেপে পরে সোনার দুল ফেরত পায় ওই দরিদ্র পরিবার। দায় এড়াতে অ্যাম্বুলান্স চালককে শোকজ করছে পঞ্চায়েত। সাংসদ কোটার টাকায় অ্যাম্বুলান্স পেয়েছিল জামালপুর এক পঞ্চায়েত। এলাকার দরিদ্র বাসিন্দাদের দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ দিতেই সাংসদ বিধায়ক তহবিলের টাকায় অ্যাম্বুলান্স দেওয়া হয়। সেই অ্যাম্বুলান্সে সংকটাপন্ন রোগীকে নিয়ে যেতে কানের সোনার দুল খুলে দিতে হওয়ার ঘটনায় চোখ কপালে উঠছে অনেকেরই। যে সময় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনোই একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়ার কথা তখন সেই রোগীর কানের দুল খুলে ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীর পরিবার। তাহলে সাংসদ তহবিলের টাকার অ্যাম্বুলেন্স কিসের জন্য- সে প্রশ্ন উঠছে। জামালপুরের উত্তরশুড়া গ্রামের ৩৪ বছর বয়সী বুল্টি মালিক দশ এখারো দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার অসুস্থতা বাড়লে পরিবারের লোকজন তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান । মহিলার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁকে বর্ধমান মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয় । পরিবারের অভিযোগ, জামালপুর থেকে বর্ধমান মেডিকেলে যেতে বারোশো টাকা ভাড়া হাঁকে অ্যাাম্বুলেন্স চালক। দরাদরি করে এগারোশো টাকায় রফা হয়। এরপর অগ্রিম চায় চালক। দরিদ্র পরিবারের কাছে টাকাকড়ি কিছুই ছিল না। হাসপাতাল যাওয়া নিশ্চিত করতে অসুস্হ মহিলার কান থেকে সোনার দুল খুলে অ্যাম্বুলেন্স চালককে দিতে বাধ্য হন আত্মীয় পরিজন। কানের সেই সোনার দুলের বদলে অ্যাম্বুলেন্স চালক মাত্র দু হাজার টাকা দেয়। রোগীকে বর্ধমান মেডিকেলে পৌঁছে দিয়ে ১১০০ টাকা ভাড়াও নেয় অ্যাম্বুলেন্স চালক। সরকারি এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে সাংসদ কোটার অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যেতে সোনার দুল খুলে দিতে হচ্ছে- এই খবর চাউর হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্ক শুরু হতেই বিষয়টিকে হস্তক্ষেপ করেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহমুদ খান। তাঁর নির্দেশে অ্যাম্বুলেন্স চালক ওই গয়না ফেরত দিতে বাধ্য হন। চালক নিয়োগ করে সাংসদ কোটার টাকায় পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিল জামালপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওপর ঘটনার দায় চাপছে। দরিদ্র বাসিন্দাদের সুরাহার বদলে সাংসদ কোটার টাকার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কার্যত ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠছে। দায় এড়াতে অ্যাম্বুলেন্স চালককে শো কজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পঞ্চায়েত। অ্যাম্বুলেন্স চালক ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য, টাকা জোগাড় করতে রোগীর আত্মীয়রাই স্বেচ্ছায় ওই সোনার দুল দিয়েছিলেন।

Published by:Akash Misra
First published: