Home /News /south-bengal /
রেশনের ১৮ বস্তা চাল টোটোয় চাপিয়ে পাইকারি বাজারে নিয়ে যাওয়ার পথে পাকড়াও! চাঞ্চল্য বর্ধমানে

রেশনের ১৮ বস্তা চাল টোটোয় চাপিয়ে পাইকারি বাজারে নিয়ে যাওয়ার পথে পাকড়াও! চাঞ্চল্য বর্ধমানে

ওই চাল কোথা থেকে এল, কোথায় তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সে ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: রেশন দোকান থেকে বস্তাবন্দি হয়ে চাল চলে যাচ্ছে পাইকারি বাজারে! সেখান থেকে সেই চাল ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বিভিন্ন মুদিখানা দোকানে। বর্ধমান শহরে ফের রেশনের চাল কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে। বর্ধমানের গোদা এলাকায় এক রেশন ডিলার দীর্ঘদিন ধরেই এ ভাবেই গণবণ্টন ব্যবস্থার চাল বাইরে পাচার করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। তবে রেশনের চাল পাচার করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই রেশন ডিলার।

বর্ধমানের গোদা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কয়েক বছর ধরেই এলাকার রেশন ডিলার ভোরবেলা দোকান থেকে রেশনের চাল পাচার করে আসছে বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। এ দিন ভোর থেকে এলাকার যুবকরা একটি চায়ের দোকান থেকে সেই রেশন দোকানের উপর নজর রাখে। তাঁদের কয়েকজনের দাবি, কয়েকটি বস্তা নিয়ে রেশন ডিলার দোকানে ঢুকছে দেখতে পেয়ে আমরা সতর্ক হয়ে যাই। ওই দোকানের উপর লক্ষ্য রাখা হচ্ছিল। এরপর একটি টোটোয় বেশ কিছু চালের বস্তা চাপিয়ে তা পাচার করা হচ্ছিল। ওই টোটোটি আটক করা হয়। মোট ১৮ বস্তা চাল পাওয়া গিয়েছে। সেই চাল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

চালের বস্তা নতুনগঞ্জ, আলমগঞ্জ পাইকারি বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে টোটো চালক স্বীকার করেছেন। যদিও রেশন ডিলার আহমেদ হোসেনের দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার রেশন দোকান থেকে কোনও চালের বস্তা বের হয়নি। টোটোয় একটি মুদিখানা দোকানের চাল যাচ্ছিল। সেটাই রেশনের চাল বলে রাজনৈতিক ভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

ওই চাল কোথা থেকে এল, কোথায় তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সে ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম নিয়োগী বলেন, রেশনের চাল পাচার হচ্ছে বলে একটি অভিযোগ মিলেছে। বিষয়টি খাদ্য দফতরকে তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। জেলা খাদ্য দফতর জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই একজন ইন্সপেক্টরকে দিয়ে তদন্ত করানো হচ্ছে। ওই রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লকডাউনের সময় রেশনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল ভূরি ভূরি। কোথাও পরিমাণে কম চাল দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও গণ বন্টন ব্যবস্থায় বিলি করা খাদ্য সামগ্রীর মোটা টাকা দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওজনের কারচুপিরও অভিযোগ ওঠে বেশ কয়েকজন রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই বাহান্ন জন রেশন ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে দুই ডিলারকে। তারপরও রেশনের চাল বাইরে পাচারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা খাদ্য দফতর।

Published by:Simli Raha
First published:

Tags: Bardhaman, Ration Dealer

পরবর্তী খবর