অবাক কান্ড! বিয়ে বাড়িতে গিয়ে ঝাড়বাতি থেকে চোখের রোগে আক্রান্ত হলেন সকলেই!

অবাক কান্ড! বিয়ে বাড়িতে গিয়ে ঝাড়বাতি থেকে চোখের রোগে আক্রান্ত হলেন সকলেই!

শরদিন্দু ঘোষ 

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#কাটোয়া: বিয়ে বাড়িতে ঘটলো অদ্ভুত কান্ড। সেজেগুজে হাসিমুখে বিয়েবাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে গিয়েছিলেন সকলে। ফিরলেন চোখ জ্বালা নিয়ে। সারারাত ঘুম নেই। উল্টে আবার অন্যরকম অস্বস্তি। সব মিলিয়ে বিয়েবাড়ির আনন্দের বদলে একেবারে চোখের জলে নাকের জলে অবস্থা। কোথায় ঘটলো এমন কান্ড!

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার দাঁইহাটে একটি বিয়ে বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে গিয়ে চোখের অদ্ভুত রোগের শিকার হতে হল ১৩ শিশু-সহ অন্তত ৬০ জন পুরুষ মহিলাকে। এই ঘটনায় আক্রান্তরা সকলেই বিয়ে বাড়ির প্যাণ্ডেলে ঝোলানো ঝাড়বাতিকেই দায়ী করছেন। ঝাড়বাতির আলোয় অদৃশ্য এমন কিছু ছিল যা থেকে এই চোখের জ্বালা বলে মনে করছেন সকলেই। অনেকেরই চোখ এখনও লাল হয়ে আছে। এখনও চোখ পুরোপুরি খুলতে পারছে না অনেকেই। চোখে বার বার জলের ঝাপটা দিয়েও কাজ হয়নি। তবে চিকিৎসকরা আলোর বিষয়টি মানতে নারাজ।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে বিয়েবাড়ির প্যাণ্ডেল থেকে। কাটোয়া থানার দাঁইহাট পুরসভার ১৩ নম্বর  ওয়ার্ডের  দফাদার পাড়ায় বিউটি বেগমের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। নিমন্ত্রিতরা সকলেই প্যাণ্ডেলের মধ্যে  বসেছিলেন। প্যাণ্ডেলে থাকা রূপালি বিবি, সোনালী বিবি, জিনিয়া খাতুনদের প্রথম দিকে চোখ জ্বালা করছিল। চোখ কড়কড় করছিল। জলও আসছিল।  ঘুমালে চোখ ঠিক হয়ে যাবে ভেবেছিলেন সবাই। কিন্তু যত রাত বাড়তে থাকে ততই লাফিয়ে লাফিয়ে  বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। বাদ যাননি কনেও। চোখ জ্বালা নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হল কনে বিউটিকে।

সারারাত অস্বস্তির পর সবাই বুধবার সকালেই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভিড় করে।  আক্রান্তদের দাবি, কী থেকে যে এটা হল তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে বিয়েবাড়িতে এমন কিছু ছিল যা থেকে সবার চোখের সমস্যা বলে মনে করছেন তাঁরা। প্যাণ্ডেলে ঝোলানো ঝাড়বাতির আলো থেকে গ্যাস জাতীয় কিছু লিক করে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলেই অনুমান অনেকের।

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের  চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ সুব্রত ঘোষ জানান, আক্রান্তদের চোখের অবস্থা দেখে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে সকলে  কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড অ্যাকুইট কনজাংটিভাইটিসে আক্রান্ত হয়েছে। আলো থেকে এটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। বিয়েবাড়িতে এক জায়গায় অনেকে ছিলেন। সেখানেই কোনও একটা মাধ্যম থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে। তবে এতে ভয়ের কিছু নেই।  চোখ জ্বালা করবে। ঘুম না হয়ে অন্যরকম  অস্বস্তি  হবে। ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে চোখ স্বাভাবিক হবে।

First published: March 4, 2020, 2:32 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर