Akhil Giri's Nephew Arrested|| সরকারি অফিসে বেনজির তান্ডব, আধিকারিককে মারধর! গ্রেফতার মৎস মন্ত্রীর ভাগ্নে

মৎস মন্ত্রীর ভাগ্নে সুমন মাইতি।

Akhil Giri's Nephew Arrested: মন্ত্রীর ভাগ্নে, তাই অফিসে কাজ না করে, সমস্ত সুবিধে নিয়ে রীতিমতো তান্ডব চালান! এমনই অভিযোগে আজ গ্রেফতার করা হল মৎস মন্ত্রীর ভাগ্নে সুমন মাইতিকে।

  • Share this:

    #কাঁথি:  তিনি মন্ত্রীর ভাগ্নে! তাই অফিসে কাজ না করে, সমস্ত সুবিধে নিয়ে রীতিমতো তান্ডব চালান! এমনই অভিযোগে আজ গ্রেফতার করা হল মৎস মন্ত্রীর ভাগ্নে সুমন মাইতিকে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দেশপ্রান ব্লকের কৃষি আধিকারীকের অফিসে আজ এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মন্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন দুপুর গড়ালে অফিসে ঢুকতেন, টেবিলের ওপর পা তুলে মোবাইলে গেম খেলতে ব্যস্ত থাকেন সারাক্ষন...এমনই নানা অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত যুবক সুমন মাইতির বিরুদ্ধে।

    অফিসের চুক্তি ভিত্তিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মী সুমন মাইতি নিজেকে পরিচয় দিতেন মৎস্য মন্ত্রী অখিল গিরির ভাগ্নে বলে। তাঁর দাবি, মন্ত্রীর ভাগ্নে হওয়ায় তাঁকে সব সুবিধা দিতে হবে। দিনের পর দিন নানা অনিয়মের জন্য বারবার তাঁকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু, তাতেও হুঁশ ফেরেনি। এরপর সম্প্রতি কৃষি আধিকারিক নির্মল কুমার দিন্দা তাকে হাজিরা খাতায় সই করতে বাধা দেন। তখন সুমন মাইতি হুনশিয়ারি দিয়ে বলেন, তিনি মন্ত্রীর ভাগ্নে, তাই তার ক্ষেত্রে এ সব নিয়ম খাটবে না।

    অভিযোগ, অফিসে তিনি টেবিলের ওপর পা তুলে মোবাইলে গেম খেলতে ব্যস্ত থাকেন সারাদিন। যা নিয়ে সাধারন মানুষ থেকে জনপ্রতিনিধি সবাই রীতিমত ক্ষুব্ধ। তাদের সঙ্গেও নিয়মিত ঝগড়াঝাটি করেন। গতকাল অফিসের একাধিক কম্পিটার, কাগজপত্র, আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। আজ নিরাপত্তাজনিত কারনে কৃষি আধিকারিক ও অফিসের কর্মচারীরা কর্মবিরতির ডাক দেন। বহু মানুষ সরকারী পরিষেবা পাওয়ার জন্য নিত্যদিনের মত আজও অফিসে ভিড় জমান। কিন্তু অফিসের কাজকর্ম বন্ধ দেখে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

    দেশপ্রান পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তরুন কুমার জানা, বিডিও শুভজিৎ জানা, কাঁথি থানার আই.সি অফিসে এসে আধিকারিক ও কর্মচারিদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়। বাইরে বিক্ষোভরতদের তরুনবাবু আশ্বস্ত করেন। এরপর সাময়িকভাবে সমস্যা মিটেও যায়, কিন্তু অভিযোগ, বিকেল ৩টে নাগাদ হটাৎ সুমন মাইতি অফিসে এসে কৃষি আধিকারিকের ওপর চড়াও হন, মুখে, গালে এলোপাধাড়ি ঘুষি মারতে থাকেন, জামা ছিঁড়ে দেন, কম্পিউটার ভাঙেন, ফাইল তছনছ করতে থাকেন। অফিসের কর্মচারী ও সাধারন উপভোক্তারা দৌড়ে এসে কোনওরকম তাঁকে বাঁচান। তারপর দেশপ্রান পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তরুন কুমার জানা, বিডিও এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। কৃষি আধিকারিককে কাথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

    পরস্থিতি সামাল দিতে পুলিশে খবর দেওয়া হলে এসে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওইয়া হয়। গোটা বিষয়টি নিয়ে অখিল গিরিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "হ্যাঁ, ধৃত আমার ভাগ্নে। কিন্তু আইন আইনের পথে চলবে। আমাকে এ ব্যাপারে ফোন করা হয়েছিল। আমি বলেছি ও যা করেছে, তাতে ভাগ্নে বলে ওঁর কোনও ছাড় নেই।"

    সুজিত ভৌমিক 

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: