প্রাণ বাঁচিয়ে গঙ্গাসাগরে ‘হিরো’ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

প্রাণ বাঁচিয়ে গঙ্গাসাগরে ‘হিরো’ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

মেলায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, পাঁচ জনের প্রাণ বাঁচানো গেছে এর সাহায্যে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আর একটু দেরি হলে জ?

  • Share this:

#সাগরদ্বীপ: গঙ্গাসাগর মেলায় এবার হিরো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। মেলার শুরু থেকে শেষ সাত জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে। রাজ্য পরিবহণ দফতর এই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলায় এই বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। আর প্রথম বছরেই শিশু থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সকলকে যথাসময়ে উদ্ধার করে নিয়ে এসে প্রশংসা কুড়িয়েছেন পাইলট ও চিকিৎসক কর্মীরা।

এই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেছে রাজ্য সরকার। মেলায় হেলিকপটার পরিষেবা চালু থাকলেও তা দিয়ে যাত্রী পরিবহণ ও অসুস্থ ভক্তকে নিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় সাহায্য করার জন্য এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার করানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

রাজ্য সরকারের তরফে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের আধিকারিক দীপক কুমার গুপ্ত বলেন, “ রাজ্য সরকার সাধারণের সাহায্যর জন্য প্রথমবার এই ব্যবস্থা চালু করেছিল। প্রথম বারেই আমরা সাফল্য পেয়েছি। প্রত্যেকের অবস্থা অত্যন্ত সিরিয়াস ছিল। অত্যন্ত দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা চালু করতে নির্দেশ জিতেছিলেন চিকিৎসকরা। সেই মতো এটাকে কাজে লাগানো হয়। প্রত্যেকেই দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছেন।”

হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়াম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ওঠানামার জন্য। এটির যান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখার জন্য দুজন ইনজিনিয়র ছিলেন সারাক্ষণের জন্য। ভিটি-ওএসসি হেলিকপটারের জন্য ছিলেন দুজন অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন পুনম ও ক্যাপ্টেন পরমজিত। যারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সাগর থেকে কলকাতা অসুস্থদের যথাসময়ে উড়িয়ে নিয়ে এসেছেন। রাজ্য সরকারের এই কাজের প্রশংসা করেছেন রোগীর পরিজনরাও। বৃহস্পতিবার মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে সাগর থেকে ডুমুরজলা নিয়ে আসা হয় মাত্র দেড় বছরের শুভজিত বেরাকে।

নিউমোনিয়া আক্রান্ত এই বাচ্চাটিকে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। ডুমুরজলা থেকে এস এস কে এম হাসপাতাল অবধি দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। শুভজিতের বাবা বিকাশ বেরা বলেন, “আকাশপথে না নিয়ে আসলে আমাদের যে কি হত তা জানিনা। এনারা আমাদের কাছে ভগবানের মতো।”

একই ব্ক্তব্য রবি কুমারের। বিহারের বাসিন্দা রবির দাদু শিবপুজন শর্মাকে সাগর থেকে উড়িয়ে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয় এস এস কে এম হাসপাতালে। সেখানেই তার পেসমেকার বসানো হয়। রবিবার নাগাদ তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। রবি বলেন, “এনারা তো আমাদের কাছে ভগবানের মতো। রাজ্য সরকারকে অশেষ ধন্যবাদ এভাবে দাদুর জীবন বাঁচানোর জন্য।” এই কাজ করাটা যে ভীষণ কষ্টকর ছিল তা মানছেন পরিবহণ দফতরের কর্তারাও। কিন্তু এত বড় একটি মেলায় এই ধরণের আয়োজন করে তার সুফল মিলেছে বলে দাবি তাদের। তাই মেলার শেষে সাগরে শুধু পুণ্য স্নান নয় এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ছুঁয়েও পুণ্য এসেছে বলে মত জীবন হাতে পাওয়া রোগীর পরিজনদের। তাই গঙ্গাসাগর মেলায় এবার হিরো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।

Abir Ghoshal

First published: January 17, 2020, 4:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर