corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাঁশ দিয়ে ছাদ ভেঙে পড়া আটকানোর চেষ্টা! বর্ধমানের কৃষি দপ্তরের বেহাল অবস্থা

বাঁশ দিয়ে ছাদ ভেঙে পড়া আটকানোর চেষ্টা! বর্ধমানের কৃষি দপ্তরের বেহাল অবস্থা

যেকোনও সময় সেই ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সকলের প্রাণহানির আশঙ্কায় আতঙ্কিত কৃষি দপ্তরের কর্মী আধিকারিক সকলেই

  • Share this:

#বর্ধমান: রাজ্যের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলা। সেই জেলার কৃষি দপ্তরের অবস্থা একেবারেই বেহাল। শুধু বেহাল বললে ভুল হবে, যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে কৃষি দপ্তরের এই বিল্ডিং। কোনওরকমে বাঁশের ঠেকনা দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার হয়েছে ছাদ। যেকোনও সময় সেই ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সকলের প্রাণহানির আশঙ্কায় আতঙ্কিত কৃষি দপ্তরের কর্মী আধিকারিক সকলেই। একরকম প্রাণ হাতে নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এই অফিসের কর্মী আধিকারিকরা। জেলাশাসক বিজয় ভারতী অবশ্য জানিয়েছেন, ওই অফিসের হাল যে এতটা খারাপ তা জানা ছিল না। এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

বর্ধমান শহরের বীরহাটায় কৃষি দপ্তরের অফিস। এখানেই রয়েছে উপ কৃষি অধিকর্তার ও জেলা কৃষি আধিকারিকের দপ্তর। রাজ্যের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত এই জেলার প্রতিটি মহকুমা, প্রতিটি ব্লকের চাষাবাদের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালনা করা হয় এখান থেকেই। কিন্তু এই অফিসের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে এখানে ঢুকতেই ভয় পাচ্ছেন কর্মী আধিকারিক সকলেই। বৃষ্টি হলে জল থই থই অবস্থা অফিসের প্রতিটি কোনায়। কিন্তু সেটা এখন বড় কথা নয় কর্মীদের কাছে। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনও সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে এই বিল্ডিং। তখন সেই ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে মারা যেতে হবে সকলকে।

আধিকারিকরা বলছেন, বিল্ডিংয়ের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সব সময় জল পড়া বা শর্টসার্কিটের আশঙ্কাকে আমরা আর বড় করে দেখছি না। শুধুমাত্র মাথার ওপর ছাদ যাতে না ভেঙে পড়ে সেই কামনাই করি সব সময়।

জীবনহানির আশঙ্কা সঙ্গে নিয়েই এই বিপদজনক বিল্ডিংয়ে ঢুকে দেখা গেল দোতলায় বেশিরভাগ অংশই বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনওরকমে ছাদকে ধসে পড়া থেকে ঠেকানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেখান কর্মীদের কেউই আর বসতে চাইছেন না। নিচের তলায় চাঙর খসে পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ে সব ঘরেই। তার মধ্যেই বিপজ্জনকভাবে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার। যেকোনো সময় শর্ট সার্কিট থেকেও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

বর্ধমান শহর লাগোয়া কৃষি খামারের পাশে বর্ধমান কালনা রোডের ওপর তৈরি হয়েছে কৃষি ভবন। সেই বিল্ডিংয়েই জেলার কৃষি দপ্তরের সব অফিস উঠে যাওয়ার কথা। কিন্তু তাতে বাধ সেধেছে করোনা পরিস্থিতি। করোনা মোকাবিলায় প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া এই কৃষি ভবনে প্রথমে তৈরি হয়েছিল জেলা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। সেখানেই এখন তৈরি হয়েছে সেফ হোম।

কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে নতুন বিল্ডিংয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে  কিছুদিন অপেক্ষা করাই যেত। কিন্তু এই বিল্ডিংয়ের অবস্থা এতটাই খারাপ যে ততদিন অপেক্ষা করতে গিয়ে বড় বিপদের সামনে পড়তে হবে কিনা সেই আশঙ্কাই সবসময় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা শাসক বিজয় ভারতী জানান, কৃষি দপ্তরের বিল্ডিংয়ের অবস্থা যে এতটা খারাপ তা জানা ছিল না।এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Saradindu Ghosh

Published by: Ananya Chakraborty
First published: September 16, 2020, 8:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर