'নন্দীগ্রাম দিবস' পালনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গাবেড়িয়ায় উত্তেজনা, যুযুধান দু-পক্ষ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ জারি

'নন্দীগ্রাম দিবস' পালনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গাবেড়িয়ায় উত্তেজনা, যুযুধান দু-পক্ষ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ জারি

ভূমিউচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির তরফে শহিদ বেদিতে মাল্যদান।

পূর্ব মেদিনীপুর থানার জেলাশাসকের কাছে গোটা ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি কড়া নজরদারিতে রাখার জন্য।

  • Share this:

#ভাঙ্গাবেড়িয়া : শহিদ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকে উত্তেজনা শুরু হয়ে যায় নন্দীগ্রামের ভাঙ্গাবেড়িয়ায়। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও সমর্থকরা সেখানে আড়াআড়িভাবে দু-ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীকে বাধা দিতে সেখানে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় তৃণমূল পন্থী ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বেধে যায়। একদিকে দলীয় স্লোগান তোলেন বিজেপি সমর্থকরা অন্যদিকে শুভেন্দু বিরোধী স্লোগান তোলেন কমিটির তৃণমূল সমর্থকরা। পাল্টা ব্রাত্য বসুকে "গো ব্যাক" স্লোগান দেওয়া হয় স্থানীয় বিজেপি সমর্থকদের পক্ষ থেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পূর্ব মেদিনীপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় উপস্থিত রয়েছে। দফায় দফায় চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ। পূর্ব মেদিনীপুর থানার জেলাশাসকের কাছে গোটা ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি কড়া নজরদারিতে রাখতে।

এদিকে তৃণমূলের প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী ভাঙ্গাবেড়িয়ায় শহিদ বেদিতে এদিন মাল্যদান করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন ব্রাত্য বসু, দোলা সেন প্রমুখ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ব্রাত্য বসু বলেন, "আজকের দিনটা ঐতিহাসিক দিন, রাজনৈতিক দিন, উত্তেজনা কখনোই কাম্য নয়। শুভেন্দু অধিকারী সেদিনের আন্দোলনে ছিলেন তিনি শোক পালন করতেই পারেন কিন্তু বিজেপি তো কোনওদিনই এই আন্দোলনের সঙ্গে ছিল না। তারা জোর করে সামিল হতে চাইছে।" এদিন তৃণমূলের নন্দীগ্রাম দিবস উদযাপনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন 'নন্দীগ্রামের মা' ফিরোজা বিবি।

প্রসঙ্গত, আজ থেকে ঠিক ১৪ বছর আগে, ২০০৭ এ ১৪ মার্চ বাম জমানায় পূর্ব মেদিনীপুরের অখ্যাত গ্রাম 'নন্দীগ্রাম' উঠে এসেছিল সংবাদ শিরোনামে। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ আন্দোলনে কেঁপে উঠেছিল বাংলার রাজনীতি। যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই এক ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটে গিয়েছিল ঠিক দু'বছর পরে। তিরিশ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Sanjukta Sarkar
First published: