• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • গোটা দুর্গাপুরটাই যেন আস্ত একটা বৃদ্ধাশ্রম !

গোটা দুর্গাপুরটাই যেন আস্ত একটা বৃদ্ধাশ্রম !

একজোট হচ্ছেন বয়স্করা ৷ নিজস্ব চিত্র ৷

একজোট হচ্ছেন বয়স্করা ৷ নিজস্ব চিত্র ৷

পেশার টানে শহর ছাড়া সন্তান। বাড়ি আগলে রয়ে গিয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা। কখনও বছরে একবার। কখনও বা দুবার। দেখা হয় দু’পক্ষের। ঘরে ঘরে এটাই যেন দস্তুর। ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি- থেকেও নেই। তরুণদের প্রবাস বাসে নিঃস্বঙ্গ, বৃদ্ধ দুর্গাপুর।

  • Share this:

    #দুর্গাপুর: পেশার টানে শহর ছাড়া সন্তান। বাড়ি আগলে রয়ে গিয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা। কখনও বছরে একবার। কখনও বা দুবার। দেখা হয় দু’পক্ষের। ঘরে ঘরে এটাই যেন দস্তুর। ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি- থেকেও নেই। তরুণদের প্রবাস বাসে নিঃস্বঙ্গ, বৃদ্ধ দুর্গাপুর। সে বড় সুখের সময় ছিল। নামজাদা সব রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা। একে একে ঘাঁটি গাড়ছে দুর্গাপুরে। কাজের খোঁজে শহরে বাড়ছে ভিড়। বাড়ছে বহুতল, রাস্তা, ফ্লাইওভার। নয়ের দশকের মাঝামাঝি। শিল্পনগরীতে উলট পুরাণের শুরু সেই থেকেই। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে কলকারখানা। পাত্তারি গোটাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা। উচ্চ শিক্ষিত থেকে মধ্য মেধা, সবার জন্য কমছে ভাল কাজের সুযোগ। একদিন যাঁরা কাজের সন্ধানে এ শহরে বাসা বেঁধেছিলেন। আজ তাঁদের ছেলে-মেয়েরাই শহর ছেড়েছেন। রুজির টানে। স্থানীয় বাসিন্দা সুরভী বিশ্বাস বলেন, ‘‘ছেলে আমেরিকায়, মেয়ে দিল্লিতে থাকে। আমরা দুই বুড়োবুড়ি এখানেই থাকি। এখানে চাকরি পেয়েছিল। কিন্তু তাতে স্যাটিসফ্যাকশন ছিল না।’’ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাস্তবকে মেনে নিয়ে আজ নিঃসঙ্গ প্রবীণরা। দূরত্ব মেটাতে ভরসা প্রযুক্তি। দুর্গাপুর যেন আস্ত একটা বৃদ্ধাশ্রম। আবার দীপালি দে বললেন, তাঁর একমাত্র ছেলে। সে এখন বাইরে থাকে। স্কাইপে কথা হয়। বছরে একবার আসে। পরস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রান্ত নীতিকেই দায়ী করছেন এলাকার বিধায়ক তথা শ্রমিক নেতা।

    আরও পড়ুন: Video: গোটা দুর্গাপুরটাই যেন আস্ত একটা বৃদ্ধাশ্রম !

    শ্রমিক নেতা বিশ্বনাথ পারিলাল বলছেন,‘‘এক সময় শিল্পনগরী হিসাবে বিখ্যাত ছিল। এখন প্রায় সব বন্ধ। কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল শিল্পনীতিতে শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ছে। গোটা শহর বৃদ্ধদের শহরে পরিণত হচ্ছে। বাংলার মেধাকে বাংলায় রাখার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কেন্দ্রকেও বন্ধ কারখানা খুলতে উদ্যোগ নিতে হবে।’’ সংসারে অভাব নেই। তবু ফাঁকা ঘরে বুকে বড় যন্ত্রণা। নিঃসঙ্গতা ভুলে থাকতে বুড়োবুড়িদের একজোট আড্ডা। কখনও বা গান, নাটক। সঙ্গে অপেক্ষা বছর শেষের। কবে আসবে ঘরের ছেলে। কবে ফিরবে একমাত্র মেয়েটা। কটা দিনের সুখের স্বপ্নে বিভোর দুর্গাপুরের প্রবীণরা। বয়স বাড়ছে দুর্গাপুরের।

    First published: