চলে গেলেন সোমনাথ, অভিভাবকহীন পড়ে রইল তাঁর সাধের ‘খেয়া’

খেয়ায় সশস্ত্রীক সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ৷ ফাইল চিত্র ৷

বোলপুরের সঙ্গে যেন নাড়ির টান । বোলপুরের সুখ-দুঃখের দীর্ঘদিনের সাথী আজ অমৃতলোকের যাত্রী। গত চার বছর বোলপুরে থাকতে পারেননি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। অসুস্থ ছিলেন। তবু তো ছিলেন। সান্ত্বনা ছিল। আজ নক্ষত্রপতনে বাক্যহারা বোলপুর ।

  • Share this:

    #বোলপুর: খেয়া শূন্য করে চলে গেলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। পড়ে রইল বোলপুরে তাঁর সাধের বাড়ি। ধুলো-মাখা লেখার টেবিল। চায়ের কাপে তুফান তোলা বৈঠকখানা। আবছা হয়ে আসা পুরোন সেই দিনের ছবি। রয়ে গেলেন স্মৃতিভারে ক্লান্ত প্রিয় বন্ধু, প্রতিবেশীরা। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া অভিভাবকহীন বোলপুরে।
    বোলপুরের সঙ্গে যেন নাড়ির টান । বোলপুরের সুখ-দুঃখের দীর্ঘদিনের সাথী আজ অমৃতলোকের যাত্রী। গত চার বছর বোলপুরে থাকতে পারেননি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। অসুস্থ ছিলেন। তবু তো ছিলেন। সান্ত্বনা ছিল। আজ নক্ষত্রপতনে বাক্যহারা বোলপুর । স্তব্ধ শ্যামবাটি। শূন্য খেয়া। লালরঙের বিশাল বাড়িটার প্রতিটি পরতে পরতে রুচিশীলতা। নেমপ্লেটে এখনও জ্বলজ্বল করছে নাম। সামনে লবিতে দাঁড়ানো গাড়ি। এই বুঝি তিনি বোলপুর ঘুরতে বেরবেন।

    আরও পড়ুন: ‘বাবাকে সারাজীবন শুষে খেয়েছে, এখন ন্যাকামি করতে এসেছে’, বিমান-সূর্যে ক্রুদ্ধ সোমনাথ-পুত্র

    বাড়িতে ঢুকেই বৈঠকখানা। কত রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের সাক্ষী বৈঠকখানা আজ খাঁ খাঁ করছে। পাশেই পড়ার ঘর। দেওয়াল আলমারিতে থরে থরে সাজানো বই। চেয়ার, টেবিল, কলম, খাতা। সবই রয়েছে। শুধু তিনি নেই।
    ১৯৮৫ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত বোলপুরের সাংসদ ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। মাঝে মাঝে আসতেন। উঠতেন সার্কিট হাউজে। লোকসভার অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর নেওয়ার দু বছর আগে শ্যামবাটিতে বাড়ি তৈরি করেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। নাম দেন খেয়া। অবসরের পর স্ত্রীকে নিয়ে এখানেই থাকতেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে চার বছর আগে খেয়া ছেড়ে চলে যান কলকাতা। আর ফেরা হয়নি। প্রতিবেশি ও বন্ধু প্রাক্তন অধ্যাপক স্বপন মুখোপাধ্যায়ের কাছেই থাকত বাড়ির চাবি। খেয়ার দেখাশোনা করতেন তিনি।

    আরও পড়ুন: Video: চলে গেলন সোমনাথ, অভিভাবকহীন পড়ে রইল তাঁর সাধের ‘খেয়া’

    হেভিওয়েট ছিলেন। কিন্তু বুঝতে দিতেন না । প্রতিবেশী, বন্ধু, সকলের সঙ্গেই মিশতেন সহজভাবে। গত চারবছর সোমনাথ-হীন খেয়া। তবু স্বান্ত্বনা ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে অভিভাবক হারানোর যন্ত্রণা। এ যন্ত্রণা আজ গোটা বোলপুরের। স্মৃতির সরণিতে নাম লেখাল শূন্য খেয়া।

    First published: