corona virus btn
corona virus btn
Loading

পর্যটক টানতে নতুন করে সেজে উঠছে বকখালি-ফ্রেজারগঞ্জ

পর্যটক টানতে নতুন করে সেজে উঠছে বকখালি-ফ্রেজারগঞ্জ
পর্যটনের আকর্ষণ ফ্রেজার গঞ্জ

৯ নভেম্বর ফ্রেজারগঞ্জ-বকখালি পর্যটনশিল্প একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে পড়েছিল। আস্তে আস্তে ছন্দে ফিরছে বকখালি।

  • Share this:

SANKU SANTRA #ফ্রেজারগঞ্জ: শীতের মরশুম চলে এল। পর্যটন শিল্পে এখন জোয়ার আসে বলা চলে। পশ্চিমবঙ্গে সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন শিল্প হিসাবে বকখালির নাম বিশেষ করে সামনে আসে। গত ৯ নভেম্বর ফ্রেজারগঞ্জ-বকখালি পর্যটনশিল্প একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে পড়েছিল। আস্তে আস্তে ছন্দে ফিরছে বকখালি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পর্যটনকেন্দ্র এটি। ১৯৯৫ সাল অবধি বকখালিতে উঁচু উঁচু বালিয়াড়ি ছিল। মূল রাস্তা থেকে সমুদ্র তীরে হেঁটে যেতে কম পক্ষে পায়ে হেঁটে ১৫ মিনিট লাগত। সমুদ্র তীরে ছিল লাল কাকড়া। সে সব এখন অতীত। তৎ কালীন বাম সরকার কোন দিন গুরুত্ব দেয়নি, এই পর্যটন কেন্দ্রটিকে নিয়ে। বকখালি ফ্রেজারোগঞ্জ পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। শুধু বকখালি না, এই অঞ্চলে রয়েছে, হেনরি ফিশারি, পাতি বুনিয়া জঙ্গল, কালিস্থান, লালগঞ্জ, এই জায়গাগুলি।

ফ্রেজার গঞ্জ নামখানা ব্লকের মধ্যে। এই নামখান ব্লকে রয়েছে মৌসুমী দ্বীপ। এখানে বর্তমানে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছে। মৌসুমী দ্বীপটির দক্ষিণ অঞ্চল বঙ্গোপ সাগরের তীরে। বেশ শান্ত পরিবেশ। কোনও গাড়ি ঘোড়ার শব্দ নেই। আপনি যদি চান একটু শান্তিতে দুটো দিন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন, তাহলে আদর্শ জায়গা। তবে সঙ্গে একটি টর্চ লাইট রাখা দরকার অতি জরুরী। যে কোনো সময় সাপের দেখা মিলতে পারে। পাতিবুনিয়া জঙ্গলটি প্রায় ৭ কিলোমিটার লম্বা। চওড়া প্রায় ৩ কিলোমিটার। এই জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে হরিণ রয়েছে। জঙ্গলে ঢোকার মুখে ফরেস্ট অফিস। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে মোটামুটি চওড়া সিমেন্টের রাস্তা রয়েছে। এই জঙ্গলে প্রচুর বানর রয়েছে। তবে এখানে বেড়াতে গেলে আপনাকে বকখালি রেঞ্জ অফিস থেকে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি পাওয়াটা খুব একটা সোজা হবে না। এটিকে সাধারণ পর্যটকদের জন্য অনেক খোলার চেষ্টা হয়ে ছিল, সেটা এখনো সম্ভব হয়নি। পাতিবুনিয় যেতে গেলে, বকখালির আগে কয়লা ঘাটা নামে বাস স্টপে নামতে হবে। বাস স্টপে থকে পশ্চিম দিকে হেঁটে ৫ পাঁচ মিনিটের পথ। তার পরে একটি নদী রয়েছে। সেই নদীর ওপারে এই জঙ্গল। ওপারে যেতে গেলে আপনাকে অতি অবশ্য ফরেস্টের নৌকাতে পার হতে হবে। তাছাড়া কোনো উপায় নেই। নদীর এপার থেকে দেখতে পাবেন ওপারে, বাণী, গেওয়া, গরান ও হেতালের ঘন জঙ্গল। কয়লাঘটার পূর্ব দিকে রাস্তা ধরে হাঁটলে আপনি পৌঁছে যাবেন নদীর পাড়ে অর্থাৎ কলিস্থানে। নদীর ওপারে রয়েছে লুথিয়ানের জঙ্গল। ওই জঙ্গলে এক সময় বাঘ থাকতো। এই কালিস্থানের নাম হয়েছে মা কালীর নাম অনুসারে। এই নদীর পাড়ে ছিল কালী ঠাকুরের মন্দির। সেই মন্দিরে জল দস্যুরা নদীতে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে, পুজো দিয়ে যেত। সেই মন্দির এখনও আছে। শীত কালে ওখানে গেলে দেখা যাবে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মাছ শুকনো হচ্ছে। ওখানকার কথ্য ভাষায় বলা হয় মাছের খুঁটি। ওই নদীর চরে, শুকনো মাছের খুব গন্ধ পাবেন। তবে সন্ধ্যাবেলা জেনারেটরের আলো জ্বলে চারিদিকে। বেশ মনোরম লাগে। গন্ধ সহ্য করতে পারলে, অল্প দামে সামুদ্রিক মাছ, কিনে দোকান থেকে ভাজিয়ে বসে খাওয়া। বেশ অদ্ভুত অনুভূতি। একটু রাত হলে ফিরে আসুন বকখালি হোটেলে। নামখানা ব্লকে বকখালিকে কেন্দ্র করে মোটের ওপর ৭ দিনের ট্যুর করতে পারেন আপনি। আগে বকখালি যেতে গেলে, নামখানা হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদী পার হতে হতো নৌকা কিংবা ভেসেল এ করে। এখন ওই নদীর ওপর সেতু হয়ে গেছে, অতি সহজে এখন সোজা চলে যাওয়া যায়। তবে বকখালি পর্যটন শিল্পকে আরো বেশি চমকদার করতে গেলে কিংবা পর্যটক টানতে গেলে মানুষের সময় কাটানোর এবং আনন্দের জন্য পার্ক এবং প্রমোদকারী কিছু তৈরি করতে হবে। নইলে একবারের বেশি কোন পর্যটক বকখালি যেতে চাইবেন না। রাজ্য সরকার বকখালি ও সাগর ডেভলপমেন্ট বোর্ড তৈরি করেছেন। সেই বোর্ডের কাজের গতি অনেকটাই মন্থর। আরও বেশি করে চোখ দিতে হবে বকখালির দিকে। মনে করেন পর্যটকেরা। বুলবুল ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে বকখালি আবার আগের জায়গায় ফেরার চেষ্টা করছে। এটা এমন একটি পর্যটন ক্ষেত্র, যেখানে রাতে ভীতে আপনি অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। স্থানীয় মানুষেরা, খুব বন্ধুত্ব পূর্ণ ব্যবহার করে।

Published by: Ananya Chakraborty
First published: December 14, 2019, 10:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर