corona virus btn
corona virus btn
Loading

৫ দিন ভেন্টিলেশনের পর বাবার মৃত্যু! তারপরেও দেখা নেই ব্যাংক ম্যানেজার ছেলে ও বউমার!

৫ দিন ভেন্টিলেশনের পর বাবার মৃত্যু! তারপরেও দেখা নেই ব্যাংক ম্যানেজার ছেলে ও বউমার!
  • Share this:

Saradindu Ghosh #বর্ধমান: মারা গেল বাবা। তবুও দেখা নেই ব্যাংক ম্যানেজার ছেলের। পাত্তা নেই বউমারও। হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হয়তো ছেলেকে শেষবারের মতো একবার চোখের দেখা দেখতে চেয়েছিলেন বাবা। কিন্তু না। একদিন একদিন করে পাঁচ দিন অপেক্ষার পরও এল না ছেলে-বউমা। অবশেষে বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বৃদ্ধ। মৃতদেহ নিয়ে সমস্যায় বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গুরুতর অসুস্থ বাবাকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে পালিয়ে গিয়েছিল ছেলে-বউমা। চিকিৎসার টাকা চাওয়ায় বলেছিল, কিচ্ছু চিন্তা করবেন না। সব মিটিয়ে দেব। কিন্তু প্রতিশ্রুতিই সার। বাবা ভেন্টিলেশনে। দরকার ওষুধ, ইনজেকশনের। অথচ হাসপাতালমুখো হয়নি ছেলে-বউমা। মোবাইল ফোন সুইচড অফ। বাবার মৃত্যুর পরও দেখা নেই তাদের।

পঁচাশি বছর বয়সী নিশীথ সরকার নামে এক ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে বর্ধমানের জিটি রোডের কলেজ মোড় সংলগ্ন সান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিলেন ছেলে-বউমা।

2812_IMG-20200108-WA0053

চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ ভর্তি করে নেন। ভর্তি করার পর ছেলে-বউমা আর আসছিলেন না। এদিকে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে পাঠাতে হয়। সেই খবর টেলিফোনে জানানো হয় নিশীথবাবুর ছেলে বিজয় সরকারকে। বার বার ফোন করার পর ৩ জানুয়ারি ছেলে বাবাকে দেখতে আসে। কিন্তু তারপর থেকে আর ছেলে-বউমা কারও পাত্তা নেই। বুধবার সকালে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হলে তার ছেলের খোঁজ পেতে চেষ্টার কোনও ফাঁক রাখেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই ছেলের কোনও হদিশ মেলেনি।

সান হাসপাতালের কর্নধার সেখ আলহাজউদ্দিন বললেন, ছেলে নিজেকে স্টেট ব্যাংকের ম্যানেজার পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু ওষুধের দাম বা চিকিৎসা খরচ দেওয়া দূরে থাক টানা পাঁচ দিন না এসে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখলেন। বাবা মারা যাওয়ার পরও কেউ এলো না, এমন ঘটনা আমার জীবনে আগে ঘটেনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ওষুধ, চিকিৎসা, বিভিন্ন পরীক্ষা মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টাকা পয়সার কথা ভুলে রোগীকে বাঁচাতে আপ্রান চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হলাম। অথচ তাঁর ছেলে ও বউমার অমানবিকতা আমাদের অবাক করেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে ফ্ল্যাটটি বিজয়বাবুর নয়। তিনি গ্রামের বাড়ি হিসেবে গলসির যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেটিও ভুয়ো। তিনি বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় কর্মরত বলে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে ওই ব্যক্তিকে প্রতারক বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু নিজের মরনাপন্ন বাবাকে ফেলে কেউ এভাবে পালাতে পারে তা ভাবনার বাইরে।

ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর জেলা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছে ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানান, কাগজ পত্র জমা না নিয়ে রোগী ভর্তি করে ভুল করেছে ওই হাসপাতালও। আপাতত পুলিশ মৃতদেহ নিজেদের হেফাজতে নেবে। তারপর নিয়মমাফিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মৃতের ছেলেরও খোঁজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

First published: January 8, 2020, 6:59 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर