Abhishek Banerjee: মৃতের শিশুপুত্রকে বুকে টেনে নিলেন, মুর্শিদাবাদে বজ্রাঘাতে মৃতদের পরিবারের কাছে অভিষেক

এক মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

এ দিন কখনও মাটির বাড়ির দাওয়ায় বসে মৃৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন অভিষেক (Abhishek Banerjee), কখনও আবার মৃতের নাবালক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছেন তিনি৷

  • Share this:

#বহরমপুর: গত সোমবার বজ্রাঘাতে মুর্শিদাবাদের ৯ বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল৷ এ দিন মৃতদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক৷ আর্থিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের সদস্যদের চাকরির জন্যও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন অভিষেক৷

নাম না করে এ দিন বিজেপি নেতাদেরও বিঁধেছেন অভিষেক৷ তিনি বলেন, 'নির্বাচনের আগে কলা পাতায় খাওয়া, ছবি তোলা, আরও কত কী৷ আর এখন তাঁদের দেখা নেই৷ তৃণমূলকে মানুষের সুখের সময় পাশে পাবেন না৷ কিন্তু মানুষের বিপদে, দুঃখের সময় অবশ্যই তৃণমূল পাশে থাকবে৷'

এ দিন কখনও মাটির বাড়ির দাওয়ায় বসে মৃৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন অভিষেক, কখনও আবার মৃতের নাবালক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছেন তিনি৷

হেলিকপ্টারে বহরমপুরে পৌঁছে প্রথমে বামজেটিয়ার কাছে হঠাৎ কলোনিতে বজ্রাঘাতে মৃত প্রহ্লাদ মুরারির বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।  পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতা করে পাশে থাকার আশ্বস্ত করেন  তৃণমূল নেতা। মৃতের স্ত্রী রিতা মুরারি বলেন, স্বামী রংয়ের কাজ করতেন। তাই দিয়ে সংসারটা কোনরকমে চলত। দুই ছেলে কলেজে পড়ে। সংসার বাঁচাতে একটি কাজের আবেদন করেছি৷ উনি বিষয়টি দেখার  আশ্বাস দিয়েছেন।'

এর পরে  আর এক মৃত অভিজিৎ বিশ্বাস এর বাড়িতে যান অভিষেক। স্বামীর অসময়ে মৃত্যুতে পাঁচ বছরের ছেলে রাজদীপ ও মেয়ে অঙ্কিতাকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন অভিজিৎবাবুর স্ত্রী পিয়ালীদেবী। ছোট্ট রাজদীপকে ধরা পরে থাকতে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন অভিষেক। পাঁচ বছরের রাজদীপকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। পিয়ালীদেবীর অনুরোধে কাজের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন অভিষেক৷

এরপর রঘুনাথগঞ্জের মির্জাপুরে চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই ঈদগাহ মাঠে বাজ পড়ে মৃত  আরও সাত  পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান ও আর্থিক সহযোগিতা করেন তিনি। সেখানেও মৃত দুর্যোধন দাসের স্ত্রী যমুনা দাসও কাজের বন্দোবস্ত করার জন্য তৃণমূল শীর্ষ নেতার কাছে অনুরোধ করেন৷ তাঁকেও আশ্বস্ত করেন অভিষেক৷ বিয়ের পাঁচ বছরের মধ্যেই স্বামীকে হারাতে হয়েছে৷ দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তাই যমুনাদেবীও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটাই এই হতভাগ্য পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর সময়। বজ্রাঘাতে যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই৷ এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। রাজ্য সরকার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে৷  দলগতভাবে আমরাও পাশে আছি। আমরা যতটুকু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, সেটা আমরা দেখব।' অভিষেকের দাবি,  কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে যে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, কিন্তু এখনও সহযোগিতা করেনি৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শুধু সাহায্য ঘোষণাই করেনি, তা মৃতদের পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়েছে৷

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, বজ্রপাতের যারা মারা গিয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই খুবই গরিব পরিবারের সদস্য ছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে এসে পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালেন তাতে তাঁরা আশ্বস্ত  হয়েছেন। প্রত্যেকটি পরিবারই চাকরির আবেদন করেছে। তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

Pranab Kumar Banerjee

Published by:Debamoy Ghosh
First published: