'তৃণমূলের কেউ খোঁজ নেয় না!' নিঃসঙ্গ রেজ্জাক মোল্লার ভরসা এখন লাঠি

'তৃণমূলের কেউ খোঁজ নেয় না!' নিঃসঙ্গ রেজ্জাক মোল্লার ভরসা এখন লাঠি

চলাফেরা করতে এখন লাঠি আর হুইলচেয়ারই ভরসা রেজ্জাক মোল্লার৷

দলের কেউ যোগাযোগ রাখে না, শরীরের খোঁজও নেয়নি, তবু রেজ্জাক নিশ্চিত, তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে তৃণমূলই৷

  • Share this:

    #ক্যানিং: দল যে এবার তাঁকে প্রার্থী করবে না, তা তিনি জানতেন৷ রেজ্জাক নিজেই বলছেন, শারীরিক ভাবে তিনি সুস্থ নন৷ মন মানতে না চাইলেও বয়সের জন্যই যে এবার রাজনীতিকে বিদায় জানাতে হবে বুঝতে পারছেন চাষার ব্যাটা৷ বাড়ির বাইরে হুইলচেয়ারে বসেই বললেন, 'শারীরিক ভাবে খুব সুস্থ নই৷ মাঝখানে পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার পর লাঠিতে ভর করে চলতে হয়৷ মাঝে মাঝে হুইলচেয়ার নিতে হচ্ছে৷'

    ভোটের উত্তাপে ফুটছে গোটা রাজ্য৷ আর একসময়ে দাপিয়ে রাজনীতি করা রেজ্জাক মোল্লা এখন গৃহবন্দি৷ ভাঙড়ের বাঁকড়ি গ্রামের বাড়িতেই দিন কাটে তাঁর৷ রেজ্জাকের অবশ্য দাবি, রাজনীতি থেকে দূরে থেকে কষ্ট সেরকম হয় না, কিন্তু হাল্কা লাগে৷ তাঁর কথায়, 'খাওয়া দাওয়া, হুইলচেয়ারে বসেই সারাদিন কেটে যায়৷'

    রেজ্জাক জানালেন, রাজনীতির জগতের প্রায় কারও সঙ্গেই যোগাযোগ নেই৷ যাতায়াত করতে না পারায় বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগ আরও কমেছে৷ প্রায় নিঃসঙ্গ রেজ্জাকের এখন তাই কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, সুভাষ নস্করের মতো বাম নেতাদের কথা বড় বেশি করে মনে পড়ে৷ রেজ্জাক বলেন, 'কান্তিদার সঙ্গে দেখা হলে পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে৷ আরএসপি-র সুভাষ নস্করের সঙ্গে দেখা হলে ভাল লাগে৷'

    রেজ্জাকই জানালেন, তাঁর নিজের দল তৃণমূলের কেউই তাঁর খোঁজ নেন না৷ হাসতে হাসতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, 'কেউ অসুস্থ হলে তাঁর খোঁজ নেওয়া, এই কালচারটাই তৃণমূলে নেই৷' প্রার্থী না করলেও ভাঙড় বা ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে নির্বাচনী কৌশল নিয়েও দলের কেউ কোনও পরামর্শ চাননি রেজ্জাকের থেকে৷ তা নিয়েও বেশ আক্ষেপই শোনা গেল ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়কের গলায়৷

    ঘরে বসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাত লাগার কথা শুনেছেন৷ হুইলচেয়ারে বসা রেজ্জাক চাইছেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, 'উনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে কাজে নামুক৷ রাজ্যের স্বার্থেই তাঁর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা দরকার৷'

    দলের কেউ যোগাযোগ রাখে না, শরীরের খোঁজও নেয়নি, তবু রেজ্জাক নিশ্চিত, তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে তৃণমূলই৷ ফের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রেজ্জাকের মতে, 'মমতা একটা ফিগার, শেষ পর্যন্ত তাঁরই জয় হবে৷ কারণ এখনও মমতা মানুষের কাছে মমতাই৷ এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই৷'

    আব্বাস সিদ্দিকির আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ছে বামেরা৷ রেজ্জাক অবশ্য বামেদের এই নীতিকে সমর্থন করছেন না৷ অনেকটা নিজের পরিচিত কায়দাতেই বললেন, 'এখন তো অনেক রকম মিক্সিং হচ্ছে তো! কিন্তু এটা ভাল হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না৷ '

    দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য় ২০১৪ সালে রেজ্জাককে বহিষ্কার করে সিপিএম৷ এর ন্যায়বিচার পার্টি গড়েন তিনি৷ কিন্তু ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৃণমূলে যোগ দেন রেজ্জাক৷ ভাঙড় কেন্দ্র থেকে লড়ে জেতার পর তাঁকে মন্ত্রীও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু ধীরে ধীরে তৃণমূলেও কোণঠাসা হয়ে পড়েন রেজ্জাক৷

    রেজ্জাক বুঝে গিয়েছেন, রাজনীতি থেকে অবসরের সময় হয়েছে তাঁর৷ সত্যিটা বুঝে গিয়ে মনকেও শক্ত করে ফেলেছেন তিনি৷ কিন্তু দলের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয় না, এটাই যেন বেশি যন্ত্রণা দেয় তাঁকে৷ ম্লান হেসে সবশেষে রেজ্জাক তাই বলেন, 'লাঠিটাই আমার জীবনের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে৷'

    Anup Biswas

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:
    0