৫ বছর আগে বিয়ে রুখেছিলেন, চোখের জলে ঘরের মেয়েকে বিদায় দিল গোটা পাড়া

৫ বছর আগে বিয়ে রুখেছিলেন, চোখের জলে ঘরের মেয়েকে বিদায় দিল গোটা পাড়া
  • Share this:

#বীরভূম: পাঁচ বছর আগে বন্ধ করা হয়েছিল ১৩ বছর বয়সের অন্তরা অঙ্কুরের বিয়ে। ১৮ বছর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগেই বন্ধ করা হয়েছিল বিয়ে। ২০২০'তে অন্তরা ১৯ বছরে পা দিয়েছে। তাই আর নেই কোনও বাধা পরিবার বিয়ের ব্যবস্থা করেছিল ঠিকই কিন্তু এখন বাধ সেধেছে আর্থিক অনটন। ফলে তাঁর বাবা-মা বিভিন্ন সংগঠনের দ্বারস্ত হয়েছিল। কিছুজন সহযোগিতা করলেও, বাকিরা ফিরিয়ে দেয় ।

সাহায্যকারী সংগঠনগুলির  মধ্যে একটি ভোরাই। তাদের সদস্যরা বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থার অনুষ্ঠান মঞ্চে আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন যে পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তা জমিয়ে ওই সদ্য ১৮ বছরের অন্তরার বিয়ের কিছুটা খরচ দিয়েছেন। বিয়ের বেনারসি কেনা থেকে খাওয়াদাওয়ার সবেতেই তাঁরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও পাত্রপক্ষ খোঁজার দায়িত্ব ছিল অন্তরার বাড়ির লোকের।

উল্লেখ্য অতীতেও দরিদ্র পরিবারের বেশ কয়েকটি মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছিল সামাজিক সংগঠনটি। বর্তমানে আরও কয়েকটি দরিদ্র পরিবারের ১৮ বছর বা তার অধিক বয়সী যুবতীর বিয়ের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনের। কন্যা এবং বরের বাড়ি থেকেই বিয়ের কথাবার্তা, দিনক্ষন ঠিক করে,  শুধু অনুষ্ঠান করে বিয়ের বন্দোবস্তের অভাব থাকলে সংগঠনের সদস্যরা কোমর বেঁধে নেমে পড়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে। সংগঠনের সদস্যা পাতামনি মুর্মু বলেন, "সমাজের জন্য এহেন কাজ করে আমরা সীমাহীন আনন্দ পাই। আমাদের মূলমন্ত্র আন‍ন্দে-দুঃখে সবার পাশে দাঁড়াব, তবেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে।" সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের মত যুব সমাজকে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন সংগঠনের আর এক সদস্য অবিনাশ বেসরা।

অন্তরার বিবাহবাসর বসেছিল শালদহ মোড় গ্রামে। ধুমধামের সঙ্গেই চল‍ল বিয়ের অনুষ্ঠান। রাজনগর থেকে এসেছিল ১০০জন বরযাত্রী। বুধবার সন্ধ্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত‍ৎকালীন মহম্মদ বাজার ব্লকের বি.ডি.ও বর্তমানে স্পেশ্যাল এলএও মুর্শিদাবাদ সুমন বিশ্বাস।

Supratim Das

First published: March 14, 2020, 7:53 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर