Home /News /south-bengal /
কী দুর্ভাগ্য! জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের পেটে পরিযায়ী শ্রমিক

কী দুর্ভাগ্য! জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের পেটে পরিযায়ী শ্রমিক

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় আরও একবার বাঘের আক্রমণে মৃত্যু।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় আরও একবার বাঘের আক্রমণে মৃত্যু।

সুশান্তর মতোই গত দু'মাসে এ রাজ্য়ে ১০ জনের বেশি বাঘের আক্রমণে প্রাণ দিয়েছেন,কারণ এরা সবাই অপটু।

  • Share this:

    #কলকাতা: পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে অনেকেই গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।কিন্তু  কয়েক মাস হয়ে গেল, সেই পরিযায়ী শ্রমিকরা কেমন আছে, সেই খোঁজ কি কেউ রেখেছে? এই অনাদরেরই মাশুল দিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। রবিবার সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘে টেনে নিয়ে গেল  দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার এই পরিযায়ী শ্রমিক সুশান্ত মণ্ডলকে।

    পেটের দায়ে ফিরে এসেছিলেন রাজ্যে। বাধ্য হয়েছিলেন নিষিদ্ধ জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে, মধু ভাঙতে। গিয়েছিলেন কাঁকড়া সংগ্রহে। সুশান্তর মতোই গত দু'মাসে এ রাজ্য়ে ১০ জনের বেশি বাঘের আক্রমণে প্রাণ দিয়েছেন,কারণ এরা সবাই অপটু।

    যারা পটু, জঙ্গলে,তারা বাঘের কিংবা হরিণের কাদাতে পায়ের ছাপ দেখে,বলে দিতে পারে কতক্ষন আগে,বাঘ কিংবা হরিণ কোন দিকে গেছে! এদের বেশির ভাগ, কেউ দীর্ঘদিন পেশাতে নেই,আবার কেউ ভিন রাজ্যে কাজ করতে না যেতে পেরে পেটের তাগিদে, জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে বা মধু ভাঙতে যাচ্ছেন।

    পরিযায়ী শ্রমিক সুশান্ত মণ্ডল (৫৬)আজ সকালে মরিচ ঝাঁপি, বানতলা জঙ্গলে ৪ জন মিলে কাঁকড়া ধরার জন্য যায়।সেই  সময় চার জনের মধ্যে থেকে, তাঁকে বাঘ নিয়ে চলে যায়।

    এরপর বাকি সবাই ভয়ে নৌকা নিয়ে পালিয়ে আসে গ্রামে। পরে গ্রামের সবাই গিয়ে ,জঙ্গলের ভেতরে চার কিলোমিটার গিয়ে দেহ উদ্ধার করে।এলাকাবাসীদের আক্ষেপ, এই এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকেরা কাজ না পেয়ে জঙ্গলে, কাঁকরা,মধু, সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের হাতে প্রাণ দিচ্ছেন।

    সুশান্তের বাড়ি গোসবার , লাহিড়ী পুরের,চকঘেরি গ্রামে।গ্রামে দেহ আনার পর,  স্থানীয় ও পরিজনেরা দেহ দাহ করেছেন।

    কোনও ময়নাতদন্ত করা হয় নি।থানা কিংবা বদফতরও জানত না বিষয়টি।এমনকি গ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।সুশান্ত যে জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিল সেটা ওর মেয়ে স্বীকার করে নিয়েছে ।সঙ্গে থাকা দু'জনের কথা অনুযায়ী,রাজ্যের বাইরে কাজে যেতে পারছেন না।তাই এই ভাবে জীবন হাতে নিয়ে,বাঘের মুখে যাবে জেনেও,জঙ্গলে যাচ্ছে।

    Published by:Arka Deb
    First published:

    পরবর্তী খবর