corona virus btn
corona virus btn
Loading

শহরের বুকে এক টুকরো চিন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব ডাল-ভাত-আলুপোস্তকে আপন করা বাসিন্দারা

শহরের বুকে এক টুকরো চিন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব ডাল-ভাত-আলুপোস্তকে আপন করা বাসিন্দারা

বর্ধমানের রানীগঞ্জ বাজার মোড় এলাকায় সেই চিনাদের বসতি । সেখানেই তাঁদের ব্যবসা । জুতোর দোকান থেকে রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লার ।

  • Share this:

#বর্ধমান: শহরের মধ্যেই ছোট্ট একটা চীন । বর্ধমানের রানীগঞ্জ বাজার মোড় এলাকায় সেই চিনাদের বসতি । সেখানেই তাঁদের ব্যবসা । জুতোর দোকান থেকে রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লার । বাড়িতে দোকানে চিনা সংস্কৃতির ছাপ । এখানে থাকার কারণে বর্ধমানের বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে সেই চিনারা । ভারত তাঁদের মার্তৃভূমি হলে চিন পিতৃভূমি । সেখানে রয়েছেন আত্মীয় পরিজনরা । সেই সব আত্মীয়দের টানে , পূর্ব পুরুষদের ফেলে আসা পিতৃভূমির টানে চিনে গেছেন বর্ধমানের ওয়াং ভাইরা । তবে আর পাঁচ জন ভারতীয়ের মতোই তীব্র প্রতিবাদ করছেন বর্ধমানের জল হাওয়ায় মিশে যাওয়া এই চিনারা ।

বিশ্বযুদ্ধের পর বেহাল অর্থনীতির কারণে সে দেশ ছাড়তে হয়েছিল বর্ধমানের বাসিন্দা সিয়াংজি ওয়াংকে । তখন উন্নয়নশীল শহর কলকাতা । চিনের ওয়াংঝাও প্রদেশের মাইজাও শহর থেকে তাঁরা অর্থনৈতিক উন্নতির স্বপ্ন নিয়ে এসে পৌঁছেছিলেন কলকাতায় । সেই ব্যবসার সূত্রেই ছ'দশক আগে বর্ধমানে আসা চিনাদের । দিনে দিনে বর্ধমানের সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছেন চিনারা । বর্ধমানের স্কুল কলেজেই পড়াশোনা বেড়ে ওঠা । বাঙলা ভাষাতেই এখন বেশি স্বচ্ছন্দ তাঁরা । ডাল-ভাত-আলুপোস্তকে আপন করে নিয়েছেন । বলছিলেন , ফিকে হয়ে আসছে চিনা সংস্কৃতি । চিনা নববর্ষে ঘর সাজানো হয় । পুজো পাঠ সেড়ে সেজেগুজে সপরিবারে  বাইরে খেতে যাওয়ার মাধ্যমেই সেই নববর্ষ পালন করেন তাঁরা । তবে বিয়ের জন্য পাত্রপাত্রী খোঁজ চলে নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যেই ।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে , এদেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে অনেক চিনা পরিবার । পাত্র পাত্রী মেলে সেই সূত্রেই । তবে ইদানিং ভারতীয়দের সঙ্গেও বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে । সিয়াংজি ওয়াং ও তাঁর ভাই হাউজিওয়াং দু-জনেই চিনে গিয়েছেন । সিয়াংজি গিয়েছিলেন তাঁর এক দিদির খোঁজে । সেই দিদির বয়স যখন তিন বছর তখন সিয়াংজির বাবা-মা তাঁকে সেখানে রেখে চলে এসেছিলেন ভারতে । তাঁকে  দত্তক নিয়েছিলেন মামা । সেই দিদির বয়স যখন ষাট বছর ২০১১ সালে তখন তাঁকে প্রথম দেখেছেন সিয়াংজি ওয়াং । সিয়াংজির ভাই হাউজি ওয়াং চিন গিয়েছিলেন ২০০৯ সালে । গিয়েছিলেন পিতৃপুরুষের জন্মভিটে দর্শনে । দেখেছিলেন বাড়ি ঘর কিছু নেই । তবে সেই জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে ।

দু'জনেই বললেন , চিনের এই আগ্রাসন কখনই মেনে নেওয়া যায় না । ইট ছুঁড়লে পাটকেল তাঁকে সহ্য করতেই হবে । বললেন , আমাদের গায়ের রঙটুকু শুধু আলাদা । বাদবাকি আমরা সকলেই এখন আদ্যপান্ত বাঙালি এবং ভারতীয় । চিন ভারত যুদ্ধের আবহেও তাই বর্ধমানবাসীর মাঝে নিশ্চিন্তেই আছেন তাঁরা ।

Saradindu Ghosh

Published by: Shubhagata Dey
First published: June 18, 2020, 7:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर