রাজ্যের মধ্যেই এ যেন অন্য ‘ছিটমহল’, গ্রাম বাংলার, ডাকঘর ঝাড়খণ্ডের! প্রবল দুর্ভোগে স্থানীয়রা

রাজ্যের মধ্যেই এ যেন অন্য ‘ছিটমহল’, গ্রাম বাংলার, ডাকঘর ঝাড়খণ্ডের! প্রবল দুর্ভোগে স্থানীয়রা
এই সেই ঝাড়খণ্ড ডাকঘর ৷ নিজস্ব চিত্র ৷

আন্তরাজ্য ছিটমহল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল রূপনারায়নপুর শহর লাগোয়া গ্রামবাসীরা। বাংলায় গ্রাম, এদিকে ঝাড়খন্ড পোষ্ট অফিস।

  • Share this:

Venkateswar Lahiri

#সালানপুর : একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডিজিটল ইন্ডিয়ায় জোর দিচ্ছেন তখন আধার লিঙ্ক থেকে ব্রাত্য এ রাজ্যের তিনটি গ্রাম। আধার কার্ডকেই যেখানে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র, সেখানে কেন্দ্রেরই অবহেলায় সমস্যায় পড়ছেন গ্রামের তিন হাজার মানুষ। এও এক অন্য ছিটমহল।

আন্তরাজ্য ছিটমহল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল রূপনারায়নপুর শহর লাগোয়া গ্রামবাসীরা। বাংলায় গ্রাম, এদিকে ঝাড়খন্ড পোষ্ট অফিস। বাসিন্দা পশ্চিমবঙ্গের, ঠিকানা ঝাড়খন্ডের। ডোমদহা ধানগুড়ি ও কাশীডাঙ্গা তিনটি গ্রামের সঙ্গে পশ্চিমবাংলার সম্পর্ক লোকসভাকেন্দ্র আসানসোল, বিধানসভা বারাবনী ,

পঞ্চায়েত সালানপুর ৷ কিন্তু তিনটি গ্রাম আওতাধীন ঝাড়খন্ডের জামতাড়া জেলার মিহিজাম পোষ্ট অফিসের। ফলে যে কোনও সরকারি দফতরের ডাক ঠিকানায় লাল দাগ পড়ে যায়, যখন তাঁরা দেখেন জেলা পশ্চিম বর্ধমান। আধার লিঙ্কের কাজ থমকে যায়।

IMG-20191217-WA0007

পোষ্টাল এড্রেসে পিন কোড আলাদা জেলার হওয়ায় থমকে গেছে আধার কার্ডের প্রক্রিয়া। ঝাড়খন্ড(পূর্বে ছিল বিহার) লাগোয়া সীমান্তের আসানসোলের কয়েকটি গ্রাম দুই রাজ্যের প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে স্বাধীনত্তর সময় থেকেই। ডোমদহা বৃন্দাবনী ধানগুড়ি কাশীডাঙ্গা ও কালিকাপুর এই পাঁচটি গ্রাম ছিল ঝাড়খন্ড পোস্টঅফিসের আওতায়। রূপনারায়ণপুর রেলস্টেশন ও চেকপোষ্ট পার করেই দুমকা রোডের বাম পাশে পড়ে এই গ্রামগুলি। একেবারে রাজ্যের সীমান্তের গ্রাম। আগে বিহারের মিহিজামই ছিল সংলগ্ন বড় শহর। তাই দূরত্বের ভিত্তিতে এই রকম একটা ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল।

IMG-20191217-WA0006

ইতিমধ্যেই কালীকাপুর বৃন্দাবনী ও কাশিডাঙ্গার অর্ধেকটা ঝাড়খন্ড থেকে মুক্তি পেয়ে রূপনারায়ণপুর হিন্দুস্তান কেবলসের আওতায় চলে এসেছে। এবার ডোমদহা ধানগুড়ি আর কাশিডাঙ্গার বাকি অংশও চাইছে আন্তরাজ্য ছিটমহল সমস্যা থেকে মক্তি পেয়ে রূপনারায়নপুরে আওতায় চলে আসতে। সমস্যায় জর্জরিত একজন বাসিন্দা জানান, আত্মীয়ের পাঠানো মানি অর্ডারের টাকা পেতে কালঘাম ছোটে। অন্যজনের কথায়, ইন্টারভিউয়ের চিঠি মিহিজামে গিয়ে যখন কেউ আনেন তখন ইন্টারভিউয়ের দিন পেরিয়ে যায়। ফলে সমস্যায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া আর 4G-র যুগে পোষ্ট অফিসের গুরুত্ব হয়তো অনেকটাই কমে গিয়েছে এই প্রজন্মের কাছে। কিন্তু ডাক বিভাগের গুরুত্ব কতখানি, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।

সমস্যার কথা বহুবার আসানসোল মুখ্য ডাকঘর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তবে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। কবে মিটবে এই সমস্যা? প্রশ্ন আছে। উত্তরের অপেক্ষায় গ্রামবাসীরা।

First published: 03:49:36 PM Dec 17, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर