মা’কে দেখত না কেউ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ৪ ছেলেকে প্রতিমাসে দিতে হবে মায়ের খরচ

মা’কে দেখত না কেউ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ৪ ছেলেকে প্রতিমাসে দিতে হবে মায়ের খরচ
  • Share this:

PRANAB KUMAR BANERJEE

#বড়ঞাঁ: মা কে দেখে না তিন পুত্র সন্তান। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে প্রতিমাসে ভরণ পোষনের নির্দেশ দিল মহকুমা প্রশাসন ৷ মূর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞাঁ থানার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বছর ৮৫-র বৃদ্ধা বানু বিবিকে দেখেন না তার তিন পুত্র সন্তান ৷ একমাত্র ছোট পুত্র আগে দেখাশোনা করতেন। তাই বৃদ্ধা বানু বিবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন তাঁকে দেখাশোনা এবং চিকিৎসার দায়ভার নিতে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে মঙ্গলবার কান্দি মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রতি মাসে ভরণ পোষন দেওয়ার নির্দেশ দিলেন কান্দি মহকুমা শাসক অভিক দাস। নির্দেশে খুশি বৃদ্ধা বানু বিবি।

বড়ঞাঁ থানার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বানু বিবি, কয়েক বছর আগেই তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন । পাঁচজন ছেলে নিয়ে ছিল বানুর সংসার । একজন মারা গিয়েছে ৷ বর্তমানে তাঁর চার ছেলে, তিন মেয়ে বর্তমান। কিন্তু এক ছেলে সাহ আলম সেখ বৃদ্ধার দেখাশোনো করলেও অন্যরা কেউ দেখাশোনা করত না বলে অভিযোগ। তাঁর থেকে জমি ও সম্পত্তি নিয়ে নিলেও কেউ তাঁর দেখাশোনা করে না বলে আক্ষেপ ছিল বানু বিবির। প্রথমে বড়ঞাঁ থানায় অভিযোগ জানান বানু ৷ কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেয়নি থানা ৷ ফলে গত ১৯শে নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানান বানু ৷ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার সমস্যা সমাধান হয়। দেড় হাজার টাকা করে প্রতি ছেলে পিছু এবং কন্যাদের কাছে দুই মাস পর পর সেবা যত্ন করার নির্দেশ দেন কান্দি মহকুমা শাসক অভিক দাস । মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কান্দি মহকুমা শাসক অভিক দাস এই নির্দেশিকা জারি করেন বলে জানান কান্দি মহকুমা শাসক অভিক দাস। ফলে খুশি প্রকাশ করেছেন বৃদ্ধা বানু বিবি।

মহকুমা শাসক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের কাছ থেকে নির্দেশ আসার পরে ওই বৃদ্ধা’র ছেলে-মেয়েকে আমি ডাকি। তারপরে তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেক ছেলেকে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিই। মেয়েদের কাছে মা থাকবেন। এই নির্দেশে খুশি বৃদ্ধা বানু বিবি। বলেন, ছেলেরা দেখত না। তাই বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরে গিয়েছিলাম। মহকুমা শাসকের নির্দেশে ছেলেরা টাকা দিলে শেষ দিন ক’টা ভালভাবে কাটাবো। ছেলে শাহ আলম বলেন, ‘‘মহকুমা শাসক যে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা চার ভাই তাই দেব ৷ মায়ের শেষ ক’টা দিন ভালভাবে কাটুক আমরা সেটাই চাইছি ৷’’

First published: December 10, 2019, 11:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर