corona virus btn
corona virus btn
Loading

#HappyWomen'sDay: হার মানাতে পারেনি বয়স, ৮১ বছরেও অপ্রতিরোধ্য কাগজ বুড়ি!

#HappyWomen'sDay: হার মানাতে পারেনি বয়স, ৮১ বছরেও অপ্রতিরোধ্য কাগজ বুড়ি!

সেই সময় বাড়ির মহিলাকে কাগজ হাতে হকারী করতে বাধা দিয়েছিলেন প্রায় সব্বাই। তার কাগজ বিক্রির কাজ মেনে নেয়নি পাড়া প্রতিবেশী কেউই।

  • Share this:

#কাঁথি: অভাবের তাড়নায় লড়াইয়ের শুরু৷ ৮১ বছর বয়সেও লড়াই জারি কাগজ বুড়ির। বিশ্ব নারী দিবসেও পথে নেমে লড়াই চালাচ্ছেন খেজুরির বাসন্তী ত্রিপাঠী। লড়াইটা দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরেই লড়ে আসছেন তিনি। রাস্তায় নেমে কাগজ হকারি করে জীবন গুজরান করার লড়াই। কঠিন সেই লড়াই প্রায় চার দশক আগেই শুরু করেছিলেন খেজুরি এক নম্বর ব্লকের প্রান্তিক এলাকার বাসিন্দা ৮১ বছর বয়সের বাসন্তী ত্রিপাঠী নামের এই বৃদ্ধা। বেঁচে থাকার তাগিদেই ঘর ছেড়ে বাড়ির গৃহবধূ বাসন্তীদেবীকে রাস্তায় নামতে হয়েছিল খবরের কাগজ হাতে।

সেই সময় বাড়ির মহিলাকে কাগজ হাতে হকারী করতে বাধা দিয়েছিলেন প্রায় সব্বাই। তার কাগজ বিক্রির কাজ মেনে নেয়নি পাড়া প্রতিবেশী কেউই। প্রথম দিকে তাঁর কপালে জুটেছিল অপমান আর কটুক্তি। কিন্তু লড়াইটা যেহেতু পেটের তাগিদেই শুরু করেছিলেন, সেকারণেই তিনি সব বাধা উপেক্ষা করে লড়াই চালিয়েই গিয়েছেন। এভাবেই কেটে গিয়েছে ৩৭টা বছর। লড়াই তবুও থেমে নেই। ৮১বছর বয়সে এসেও তাঁর লড়াই জারি রয়েছে।

বার্ধক্য ও শারিরীক অসুস্থতা সত্বেও দিনের পর দিন খবর বেচেই চলছেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরী ২ব্লকের প্রান্তিক এলাকায় গেলেই দেখা মেলে কঠিন লড়াইয়ের সেই মুখ- কাগজ বুড়িকে। আসল নাম বাসন্তী ত্রিপাঠী হলেও পাঠক থেকে স্থানীয় মানুষজন, সকলের কাছেই তিনি পরিচিত কাগজ বুড়ি নামেই। তবে অনেকেই তাঁকে  সম্মান দিয়ে কাগজ মাসি বলেও ডাকেন। লড়াইটা কঠিন। আজকের দিনের কাগজ বুড়ির কাগজ বিক্রির শুরুটা মোটেও সহজ ছিলনা। ৩৭বছর আগে সংসারে অভাব অনটন দেখা দিলে আয়ের পথ খুঁজতে খুঁজতেই  কাগজ বিক্রির সন্ধান পেয়েছিলেন। সেসময় তাঁর এক আত্মীয়ের পরামর্শে কাঁথি থেকে একটি  নতুন স্থানীয়  দৈনিক পত্রিকা বিক্রি করা শুরু করেছিলেন। নতুন পত্রিকা হওয়ায় শুরুতে কাগজ বিনামূল্যে পেতেন দশ কপি করে । ফলে  কাগজ   বিক্রির  টাকা পুরোটাই নিজের হয়ে যেত। তাই শুরুতে বেশি বেশি মানুষকে কাগজ বিক্রি করার ঝোঁক বাড়ছিল। তখন খেজুরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াতেন হাতে কাগজ নিয়ে। ধীরে ধীরে এলাকার পাঠকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শুধু স্থানীয় পত্রিকা নয়, পরে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কাগজের  গ্রাহকও  হল অনেকে। যা বর্তমানে  কয়েকগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, অফিস থেকে থানা ও স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও এখনও নিজের হাতে কাগজ দিয়ে আসেন কাগজ বুড়ি।

সকাল ছটায় কাগজ সংগ্রহ করে কলাগেছিয়া বাসস্ট্যান্ডে কিছু সময় কাগজ বিক্রির পর রওনা দিতেন খেজুরীর উদ্দ্যেশে । খেজুরীর কুঞ্জপুর , জনকা,  বিদ্যাপীঠ বাজারে কাগজ বিক্রি করে ফিরতেন রাতের হেরিয়া গামী শেষ বাস ধরে। কোন কোন দিন বাস ফেল হলে স্থানীয় পথ চলতি সাইকেল, মোটর সাইকেল করে ফিরতেন।  দুপুরে জুটতো কাগজ বিক্রির লভ্যাংশ। এর কিছু অংশ দিয়ে কেনা চিঁড়া  মুড় দিয়ে আহার , যা এখনও চলছে একইরকম ভাবে।  তবে এই কাগজ বিক্রি করতে বেশ কয়েকবার ততকালীন সিপিএম  কর্মীদের হাতে হেনস্তা হতে হয়েছিলো। বামফ্রন্ট সরকারের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি কাগজ খবর প্রকাশিত করায় সেই কাগজগুলিকে বিক্রি করা যাবে না বলে নির্দেশ  দিতো স্থানীয় সিপিএম নেতারা। সেসময় নির্দেশ না মানায় কাগজ নিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কয়েকবার। এই ঘটনা পাঠকদের ক্ষোভ বাড়ালে সিপিএম নেতৃত্ব কাগজ এর ক্ষতি পূরণ মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। যদিও আজ পর্যন্ত সেই ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ কাগজবুড়ির।

শুরু থেকে আজ অব্দি গ্রাহক হিমাংশু শেখর মণ্ডল বলেন, একজন নারী জীবন যুদ্ধে লড়াই করে যে বাঁচতে পারে, তারই প্রমাণ আমাদের কাগজ বুড়ি।সবাই বলেন, খেজুরীর দক্ষিণাঞ্চলের প্রান্তিক এলাকার মানুষজনের সঙ্গে খবরের কাগজের সংযোগ ঘটিয়েছিলেন এই কাগজবুড়িই। খেজুরী আদর্শ বালিকা বিদ্যাপীঠ এর প্রধান শিক্ষিকা কল্যাণী বর্মন বলেন, কাগজ বুড়ি আমাদের অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত । হতাশায় অনেকে নিজের জীবনকে শেষ করে ফেলার কথা ভাবেন, কাগজ মাসিমাকে দেখে তাদের হতাশা দূর হবে ও জীবন যুদ্ধে লড়াইএর অনুপ্রেরণা যোগাবে। খেজুরীর কলাগেছিয়ার বাসিন্দা বাসন্তী ত্রিপাঠী তথা কাগজ বুড়ি  আজও তার পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। ছেলে কালীশংকর ত্রিপাঠী ব্যবসায় কাগজ বিক্রির  কাজে হাত লাগালেও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এক বৌমা ও দুই নাতিনাতনি নিয়ে ৮১ বছর বয়সেও টেনে চলেছেন সংসার তিনিই।

Published by: Pooja Basu
First published: March 8, 2020, 3:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर