ঘরে থেকেই রক্তদান! রক্ত দিলেন ৪২ জন, কোথায়?

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে লক ডাউন। গৃহবন্দি সকলেই। রক্তের আকাল চারদিকে।হাসপাতালগুলিতে চলছে রক্তের সংকট।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে লক ডাউন। গৃহবন্দি সকলেই। রক্তের আকাল চারদিকে।হাসপাতালগুলিতে চলছে রক্তের সংকট।

  • Share this:

#বর্ধমান: ঘরে থেকেই রক্তদান! হ্যাঁ, ঠিক তাই। আপনি রক্তদান করতে ইচ্ছুক - এমনটা জানালেই হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে আপনার বাড়িতে এসে রক্ত নিয়ে যাবে মেডিকেল টিম। এমনই অভিনব উদ্যোগ নিল পূর্ব বর্ধমানের মেমারির পাল্লা রোডের পল্লীমঙ্গল সমিতি। সোমবার থেকেই তাদের এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই বাড়ি থেকে রক্ত দিলেন বিয়াল্লিশ জন। এই বিপদের দিনে রক্ত দিতে পেরে তৃপ্ত সকলেই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে লক ডাউন। গৃহবন্দি সকলেই। রক্তের আকাল চারদিকে।হাসপাতালগুলিতে চলছে রক্তের সংকট। লক ডাউনের  কারণে সেভাবে রক্তদান শিবির হচ্ছে না। হাসপাতালের  ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে রক্তদানের প্রবণতাও অনেক কম। তাই এই সময়ে ঘরে থেকেই রক্তদানের অভিনব উদ্যোগ নিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পল্লিমঙ্গল সমিতি। আপনি রক্ত দিতে চান- মোবাইলে ফোন করে সেটুকু জানালেই হবে। এই লক ডাউনে ঘর থেকে বের হওয়ার কোনও দরকার নেই। মেডিকেল টিম পৌঁছে যাবে আপনার বাড়ি। তার আগে জেনে নেওয়া হবে আপনার ঠিকানা। আপনার সুবিধামতো সময়ে সংগ্রহ করা হবে রক্ত। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই প্রথম এমন অভিনব  উদ্যোগ নিয়েছে পল্লিমঙ্গল সমিতি। ভরুকা ব্লাড ব্যাংকের সহযোগিতায় ঘরে বসেই রক্ত দানের ব্যবস্থা করেছে পল্লিমঙ্গল সমিতির সদস্যরা।

সোমবার থেকে এই কর্মসূচির  সূচনা হল। পল্লিমঙ্গল  সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার বললেন, রক্তদান শিবিরের ভিড় এড়াতেই এই ব্যবস্থা। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। অনেকের এখন রক্ত দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও বাইরে বের হতে আপত্তি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে সে সব সমস্যা নেই।   ৯০৬৪৯৯৩১৩৬ নম্বরে ফোন করে রক্তদানের ইচ্ছে প্রকাশ করলে ভ্রাম্যমান রক্ত সংগ্রহের মেডিকেল টিম ও গাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে রক্তদাতার বাড়ি। এদিন ৪২জন রক্তদাতার বাড়ি থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের  বড়শুল, পাল্লা ক্যাম্প, পাল্লা রোড, রসুলপুর, কলানবগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা এদিন এভাবে রক্ত দিলেন। তাঁরা বললেন, অভিনব ব্যাপার। বাড়ি থেকেও যে এভাবে রক্তদান করা যায় তা দেখালো পল্লীমঙ্গল সমিতি।

অনেক হাসপাতালেই সংকটাপন্ন রোগী রয়েছে। তাঁদের জীবন মৃত্যু নির্ভর করছে কয়েক ইউনিট রক্তের ওপর। বহু থ্যালাসেমিয়া রোগী রক্তের অভাবে ধুঁকছে। দুর্বল হয়ে পড়ছেন তাঁরা। লকডাউনের জেরে নিয়মিত রক্ত পাচ্ছেন না তাঁরা। অনেক কেমোথেরাপির রোগীকে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে। এই রক্ত তাঁদের জীবন বাঁচাবে - বলছেন পল্লীমঙ্গল সমিতির সদস্যরা।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: