Bengal Labourers died in Mumbai| মর্মান্তিক! মুম্বইয়ে লিফট ভেঙে মৃত্যু বাংলার ৪ পরিযায়ী শ্রমিকের

মুম্বইয়ে কাজ করতে দিয়ে চার বাঙালির মর্মান্তিক পরিণতি।

Bengal Labourers died in Mumbai| পেট বড়ো বালাই, পেটের দায়েই পরিবার পরিজন ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয় মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। জেলায় কাজ নেই তাই বাধ্য হয়েই পাড়ি দিতে ভিনরাজ্যে। যেমন গিয়েছিলেন ভরত অভিনাথরা।

  • Share this:

#ভরতপুর:  মুম্বইয়ে কাজে গিয়ে লিফট ভেঙে মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের ৪ পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতদের নাম ভরত মন্ডল (৩৫) অভিনাথ দাস (৩২), চিন্ময় মন্ডল (৩০) ও লক্ষন মন্ডল (৩৪)। মৃতদের বাড়ি ভরতপুর থানার গড়া গ্রাম ও খড়গ্রাম থানার আতাই গ্রাম এলাকায়। শনিবার মুম্বইয়ের ওরয়ালী এলাকায় হনুমান গলিতে একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের লিফট ভেঙে এই  দুর্ঘটনা ঘটে। এই চারজনের মৃত্যুসংবাদ বাড়িতে পৌঁছাতেই এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জেলাশাসক শরদ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, মৃতের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসন যোগাযোগ রেখে চলেছে। মৃতদেহ আনার ব্যাপারে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই পরিবারগুলির পাশে প্রশাসন রয়েছে।

কিছুদিন আগে সাগরদিঘী থানার বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি করে মেরেছিল আততায়ীরা। এরপর শনিবারও রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে গিয়ে কান্দি মহকুমার ৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পেট বড়ো বালাই, পেটের দায়েই পরিবার পরিজন ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয় মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। জেলায় কাজ নেই তাই বাধ্য হয়েই পাড়ি দিতে ভিনরাজ্যে। যেমন গিয়েছিলেন ভরত অভিনাথরা।

মুম্বইয়ের ওরয়ালী এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতলে রাজমিস্ত্রির কাজে নিযুক্ত ছিলেন মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমার ভরতপুর ও খড়গ্রামের বাসিন্দা ৪ যুবক। শনিবার কাজ চলাকালীন লিফটে করে ওঠার সময় হঠাৎই সেই লিফট ভেঙে পড়ে। ২২তলা থেকে মাটিতে এসে আছড়ে পড়ে লিফট। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ভরত মন্ডল অভিনাথ দাস ও চিন্ময় মন্ডলের। লক্ষ্মণ মন্ডলকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। ফোন করে পরিবারকে জানানো হয় মৃত্যু সংবাদ। কান্নায় ভেঙে পড়ে বৃদ্ধ বাবা মা, স্ত্রী ছেলে মেয়ে থেকে আত্মীয় পরিজনেরা।

১ বছর ২মাস আগে মুম্বইয়ে কাজে যায় অভিনাথ দাস। ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে ছুটে আসেন দাদা সোমনাথ দাস। তিনি বলেন, "আমিও কলকাতায় কাজ করি, ভাইয়ের এই দুর্ঘটনার খবর শুনে ছুটে আসি। কিভাবে এই ঘটনা ঘটে গেল ভাবতেও পারছিনা।" বাবা জগন্নাথ দাসের কাতর আর্জি, এখন শুধু ছেলের নিথর মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হোক। সরকার আমাদের পাশে এসে দাঁড়াক। মৃত চিন্ময় মন্ডলের আত্মীয় শেসন মন্ডল জানান, "সৌদি আরব থেকে ফিরে, ব্যাঙ্গালোরে গিয়েছিল চিনায় মন্ডল। সেখান থেকে মাত্র ৭দিন আগে মুম্বাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যায়। বাবা ভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান। পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। চরম দারিদ্রর সংসারে দুটো রোজগারের জন্য রাজমিস্ত্রীর কাজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয়। ফোনে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে স্ত্রী রচনা মন্ডল বলেন. "পরিবারটা শেষ হয়ে গেল। কিভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছিনা।" এখানে কোনA কাজ নেই তাই বাধ্য হয়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছিল। এইভাবে মৃত্যু হবে তা ভাবতে পারিনি।

মৃত লক্ষ্মণ মন্ডলের বাবা গুরুপদ মন্ডল বলেন, "ছেলে টাকা পেলে তবে সংসার চলে। এরই মধ্যে ছেলের মৃত্যুর খবর পেলাম। জীবনের শেষ অবস্থায় এসে ছেলের এইভাবে মৃত্যু মেনে নিতে পারছিনা। আমার আবেদন ছেলের শেষ মুখটা যাতে দেখতে পাই সেই ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।"

Published by:Arka Deb
First published: