শহুরে আধুনিকতায় ক্ষতবিক্ষত ঐতিহ্য, ধ্বংসস্তূপেই চলছে সাড়ে তিনশো বছরের সাবেকি পুজো

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 19, 2017 07:32 PM IST
শহুরে আধুনিকতায় ক্ষতবিক্ষত ঐতিহ্য, ধ্বংসস্তূপেই চলছে সাড়ে তিনশো বছরের সাবেকি পুজো
Picture For representation
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 19, 2017 07:32 PM IST

#হাওড়া: শহুরে আধুনিকতায় ক্ষতবিক্ষত ঐতিহ্য। ধুলিস্যাৎ বনেদিয়ানা। সংস্কারের অভাবে বিশাল জমিদারবাড়ি আজ ধ্বংসস্তূপ। তবু বন্ধ হয়নি পুজো। নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন আমতার গাজিপুরের চ্যাটার্জি পরিবার। এই সাড়ে তিনশো বছরের জমিদারবাড়ির দুর্গা পুজোয় কোনও ধুমধাম নেই। শুধু আছে ঐতিহ্য আঁকড়ে বেঁচে থাকার থাকার মরিয়া লড়াই।

হাওড়া আমতার গাজিপুর। পাঁচিল ঘেরা বিশাল চ্যাটার্জি বাড়ি। ক্ষয়িষ্ণু বনেদিয়ানার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

দীর্ঘদিন সংস্কার নেই। একসময়ের জমিদার বাড়ি আজ সাপেদের আস্তানা। বাদুড়ের দাপাদাপি। মাকড়সার জালে এক পা এগোনো দুষ্কর। আগের বছরই এখানে পুজোর খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন হয়েছিল। এবার তাও অসম্ভব। কাজের সূত্রে পরিবারের সদস্যরা অনেকেই আজ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে। ভিটে মাটির টান কমছে। তবে পুজোয় আজও অনেকেই শিকড়ের টানে ঘরে ফেরেন। ।

সাড়ে তিনশো বছর আগের কথা। বর্ধমানের কালনার জমিদার হরিমোহন চট্টোপাধ্যায়। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের অত্যাচারে জমিদারি ছেড়ে চলে আসেন বর্ধমানের দেবীপুরে। সেখান থেকে আমতার গাজিপুরে। নারিটের জমিদার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় গোপীরমণ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলের। সেই সূত্রে গাজিপুরে পনের বিঘা জমি পান চট্টোপাধ্যায় পরিবার। শুরু হয় নতুন জমিদারি। ষোলজন শরিকের জন্য তৈরি হয় ১৬টি বাড়ি । এলাকার নাম হয় ষোল ঘর।

নতুন করে তৈরি দুর্গা দালানে পুজোর আয়োজন। পারিবারিক পুকুরের জলে ভোগ থেকে বিসর্জন। পরিবারের দাবি, প্রতিবার জন্মষ্টমীর আগে গত বছরের বিসর্জন হওয়া ঘট ভাসতে দেখা যায় পুকুরে। পুজোর তিনদিন পাঁঠা বলির রীতি চ্যাটার্জিবাড়িতে। বলির পর বাজি ফাটানোর শব্দে আমতার অন্য বাড়িতে বলি শুরু হয় ।

শিকড় আঁকড়ে এখনও রয়ে গেছেন কেউ কেউ। তাঁদের উদ্যোগেই পুজো হয়। চাঁদা দেন নিজেরাই। পুজোয় অনেকেই গ্রামে ফেরেন। একসঙ্গে হইহই করে কেটে যায় পুজোর কটা দিন।

সংস্কারের আশা নেই। ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রচীন আমতার জমিদারবাড়ি। জন্মষ্টমীর পর প্রতি ছুটির দিন পরিবারের সদস্যরা দুর্গা দালানে জড়ো হন। পুজো পস্তুতি নিয়ে চলে আলোচনা। পুজোর আবহে ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকার এ যেন এক আপ্রাণ চেষ্টা।

First published: 03:54:10 PM Aug 30, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर