কেরলে ট্রেনে কাটা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলার ২ শ্রমিকের

কেরলে ট্রেনে কাটা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলার ২ শ্রমিকের
2 Migrant Labours died in train accident

ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই বাংলার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় কেরলের এনারকুলাম আলুয়া এলাকায়। মৃত দুই শ্রমিকের নাম অনুপ মন্ডল ও সৌমেন সর্দার। দুজনেরই বাড়ি মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি সাগর পাড়া থানার মালোপাড়ায় গ্রামে।

  • Share this:

#তিরুঅনন্তপুরম: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই বাংলার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় কেরলের এনারকুলাম আলুয়া এলাকায়। মৃত দুই শ্রমিকের নাম অনুপ মন্ডল ও সৌমেন সর্দার। দুজনেরই বাড়ি মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি সাগর পাড়া থানার মালোপাড়ায় গ্রামে।

শনিবার গভীর রাতে বাড়িতে এসে পৌঁছায় কফিনবন্দি দুই যুবকের দেহ। ২জনেই রাজমিস্ত্রীর কাজের জন্য মাস আটেক আগে কেরলে গিয়েছিলেন। অভাবের সংসারে দুটো রোজগারের আশায় ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয় মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজার হাজার শ্রমিক। সিদাবাদ জেলার সাগর পাড়া থানার মালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিন আনি দিন খাই পরিবারের অনুপ ও সৌমেন বছর আটেক ধরে ঢালাইয়ের কাজ করার জন্য কেরলে রয়েছে। করোনার জন্য মার্চ মাসে বাড়ি ফিরে এলেও আবারও ফেরত গিয়েছিলেন কেরলে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় রেললাইন পারাপার করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয় অনুপ ও সৌমেনের। পরিবারের  মাথার ওপর ছাদ নেই। জমিতে কোনও রকম একটি ঘর তৈরি করে বসবাস করে দুই পরিবারের লোকেরাই। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের লোকেরাও অথৈ জলে। সৌমেন সর্দার এর স্ত্রী সোমা সর্দার বলেন, করোনার জন্য সৌমেন বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। এখানে কাজ না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কাজের জন্য ফের ফিরে  গিয়েছিলেন কেরলে। কাঁদতে কাঁদতে সৌমেনের স্ত্রী বললেন, " এইভাবে মারা যাবে তা কোনওদিন ভাবতে পারিনি। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।" মৃতের আত্মীয় অসীম সর্দার বলেন, "কাজ পাওয়া যায় না এলাকাতে। সরকার বলেছিল ১০০ দিনের কাজ দেবে। সেই কাজও ঠিক মতো ভাবে দেওয়া হয় না এখানে। রাজ্য সরকার সাহায্য করুক এই দুই পরিবারকে, আমরা সেটাই আশা করেছি। সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, "দুঃখ জনক ঘটনা। একশো  দিনের কাজ অনেককেই দেওয়া হয়েছে। কেরলে যেহেতু মজুরি বেশি সেই কারণে অনেকেই চলে যায়। সরকারি ভাবে সাহায্য করা যায় কিনা তা আমরা দেখছি!"


(প্রণব কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়)

Published by:Subhapam Saha
First published: