পুজোর প্রসাদ খেয়ে মৃত্যু একই পরিবারের ২ সদস্যের, আরও ২ জন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন

পুজোর প্রসাদ খেয়ে মৃত্যু একই পরিবারের ২ সদস্যের, আরও ২ জন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন
representative image

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর থানার ভগবতীপুর গ্রামের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে

  • Share this:

SHANKU SANTRA

#মথুরাপুর: বৃহস্পতিবার বাড়িতে পুজোর জন্য দোকান থেকে সন্দেশ কিনতে দিয়েছিলেন ভাইপোকে। পুজোর পরে সেই সন্দেশ বাড়ির সবাই-ই খান! এরপরই বিপত্তি! রাত থেকেই পরিবারের ৪ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তড়িঘরি তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে। চিকিৎসা চলাকালীন দুজনের মৃত্যু হয়, অন্য দু'জনের শারীরিক অবস্থা শঙ্কটজনক, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর থানার ভগবতীপুর গ্রামের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা যায়, বিশ্বনাথ কয়াল, বৃহস্পতিবার বাড়িতে পুজোর জন্য ভাইপো রঞ্জিতকে স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকান থেকে সন্দেশ আনতে বলেন। ভাইপো সেই সন্দেশ এনে দেওয়ার পর বাড়িতে মোট পাঁচজনের মধ্যে চারজন প্রসাদ হিসেবে ওই সন্দেশ খান। এরপরই বিশ্বনাথ বাবু, তাঁর স্ত্রী মঙ্গলা, মেজো ছেলে নবদ্বীপ ও ছোট ছেলে সোমনাথ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ৪জনকে মথুরাপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের ডায়মন্ডহারবার মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। শুক্রবার সকালে বিশ্বনাথবাবুর মেজো ছেলে নবদ্বীপ কয়ালের মৃত্যু হয়। বেলা ১১ টা নাগাদ মারা যান স্ত্রী মঙ্গলা কয়ালও। বর্তমানে বিশ্বনাথবাবু এবং ছোট ছেলে সোমনাথ মৃত্যুর সঙ্গে লযাই করছেন। বিশ্বনাথ কয়ালের বড় ছেলে সুদীপ কয়াল মথুরাপুর থানাতে, ভাইপো রঞ্জিত কয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক সন্দেহ, রঞ্জিত কি সন্দেশে বিষ জাতীয় কিছু মিশিয়েছিল ? মথুরাপুর থানার পুলিশ রঞ্জিত কয়ালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সন্দেশ পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। যে দোকান থেকে মিষ্টি কেনা হয়েছিল, সেই দোকানের মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মিষ্টির দোকান থেকে সন্দেশের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রঞ্জিত কয়াল যে মিষ্টিটি কিনেছিল, সেই মিষ্টির বাকিটুকুও বিক্রি হয়ে যায়। যাঁরা সেই মিষ্টি খান, তাঁদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমন খবর মেলেনি। কাজেই, সন্দেহের তীর রঞ্জিতের দিকেই। চলছে পুলিশি তদন্ত। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ডাক্তারি রিপোর্ট সম্পূর্ণভাবে হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করতে নারাজ তদন্তকারী দল।

First published: January 11, 2020, 2:22 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर