১৮ বছরের প্রেম ! শিব পুজোর দিন রানিকে আকন্দ ফুলের মালা পড়িয়ে বিয়ে করল মঙ্গল

আঠারো বছরের প্রেম। অভাবের জন্য বিয়ে হয়নি।

আঠারো বছরের প্রেম। অভাবের জন্য বিয়ে হয়নি।

  • Share this:

#বর্ধমান: মহা শিবরাত্রিতে পুণ্য অর্জনের জন্য শিবের মাথায় জল ঢালেন ভক্তরা। কিন্তু শিবরাত্রিতে শিবকে সাক্ষী রেখে বিয়ে হয় শুনেছেন কোথাও ! সে বিয়ের মালা রজনীগন্ধার নয়!  আকন্দ ফুলের ছোট্ট মালায় মালা বদল। কনের কপালে একটু চন্দন। মনে মনে বিয়ের মন্ত্র  বলে সিদুঁর দান। হয়ে গেল বিয়ে। এমনই বিয়ে অনুষ্ঠিত হল শিবরাত্রির দিনে বর্ধমান একশো আট শিব মন্দিরের  একটি মন্দিরের গর্ভগৃহে।

মনের মিলটাই আসল। নচেৎ মোটা গোড়ের মালা, হাজার ক্যামেরার ফ্লাসব্যাকের মাঝে সিঁদুর দান, ফ্লিমি কায়দায় খই পোড়ানো সবই কিছু দিনের ব্যবধানে মিথ্যে হয়ে যায়। এমনটাই বোঝালেন বর্ধমানের জগদাবাদের রানি ও মঙ্গল।

সকাল সকাল রানিকে পাশে নিয়ে বর্ধমানের নবাবহাটে  একশো আট শিব মন্দিরে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মঙ্গল। বেলা বারোটা। লাইনের শুরু মন্দিরের সামনে থেকে। কিন্তু এঁকেবেঁকে যাওয়া লাইনের যেন শেষ নেই। এতটাই দীর্ঘ। সবার হাতেই পুজোর সামগ্রী। মাথা নিচু করে একে একে মন্দিরে ঢুকে পরম নিষ্ঠায় শিবলিঙ্গে ঘি মাখাচ্ছেন। দুধ গঙ্গাজল ঢালছেন। অবশেষে মন্দিরে ঢোকার সুযোগ পেলেন রানি ও মঙ্গল হেমব্রম।

মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকেই পুরোহিতের অনুমতি নিয়ে পুজো দিলেন তাঁরা। তারপর পাশে সরে গিয়ে শুরু হল বিয়ে। দুজনের হাতে তখন দুটি সদ্য ফোটা বেগুনি সাদা আকন্দ ফুলের মালা। বাবা ভোলানাথের পছন্দের ফুল।  বাবা মহেশ্বরের সামনে যে বিয়ে সেখানে অন্য সাক্ষী থাকলো কি না থাকলো কিবা এসে যায়! মঙ্গল পকেট থেকে বের করলো কাগজ। তাতে মোড়া লাল সিদুঁর। কাগজের মোরক খুলে সিঁদুর নিয়ে মঙ্গল রাঙিয়ে দিল তার রানীর সিঁথি। বিয়ে হয়ে গেল রানি মঙ্গলের। বিয়ের পর লাজে রাঙা কনে বউ বললেন, আঠারো বছরের প্রেম। অভাবের জন্য বিয়ে হয়নি। মনে মনে ইচ্ছেটা ছিলই। তাই মহাদেবের সামনে সেই সাধ পূর্ণ করার মনস্থির করেছিলাম দুজনে। সেজন্যই শিবরাত্রির মতো দিন বেছে নেওয়া। এরপর একসঙ্গে দুজনে সুখ দুঃখ ভাগ করে নিয়ে জীবনের  বাকি দিনগুলো কাটিয়ে দেব।

SARADINDU GHOSH

Published by:Piya Banerjee
First published: