corona virus btn
corona virus btn
Loading

১৭ অগাস্টের ঘটনা একটি রেড লেটার ডে, খোলা চিঠিতে দাবি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের

১৭ অগাস্টের ঘটনা একটি রেড লেটার ডে, খোলা চিঠিতে দাবি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের

পুরানো পৌষমেলার মাঠ, আশ্রম মাঠ, শ্রীনিকেতন মাঠ, বিনয় ভবন প্রভৃতি বিশ্বভারতীর বহু এলাকা ইতিপূর্বেই পাঁচিল বা বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়েছে, কিন্তু তখন কোনরকম প্রতিবাদ হয়নি বলেই মত উপাচার্যের।

  • Share this:

#শান্তিনিকেতন: গত কয়েকদিন ধরে পৌষমেলার মাঠকে ঘিরে দেওয়া নিয়ে উত্তাল শান্তিনিকেতন। সেই পরিস্থিতিতেই এবার গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। শনিবার বিশ্বভারতীর সরকারি ওয়েবসাইট একটি বিশেষ বার্তালাপের মাধ্যমে উপাচার্য জানান, “১৭ অগাস্ট ২০২০ সেই সমস্ত ভন্ডদের জন্য একটি লাল-পত্র-দিবস যারা রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতনের প্রতি ভালবাসার নাম করে পেশী শক্তির প্রয়োগ করে ভাঙচুর ও লুঠতরাজ চালিয়েছে”।

তিনি বলেন কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিশেষ স্বার্থেই এই ভাঙচুর ও লুটতরাজ সংগঠিত হয় এবং এর নেতৃত্বে ছিল রাজনৈতিক মদত। একইসঙ্গে মেলার মাঠ কেন পাঁচিল ও বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া উচিত, তার স্বপক্ষে বেশ কিছু যুক্তিও উত্থাপন করেছেন উপাচার্য। নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার খাতিরে পাঁচিল নির্মাণের পরম্পরাকে দেখাতে গিয়ে তিনি টেনে এনেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন,  "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার খাতিরে কবিগুরুর বেঁচে থাকাকালীনই চিনাভবনের চারপাশ পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হয়। পরবর্তীতেও বিশ্বভারতী বহু ক্ষেত্রে পাঁচিল ও বেড়া নির্মাণ করেছে নিরাপত্তার খাতিরে "। পুরানো পৌষমেলার মাঠ, আশ্রম মাঠ, শ্রীনিকেতন মাঠ, বিনয় ভবন প্রভৃতি বিশ্বভারতীর বহু এলাকা ইতিপূর্বেই পাঁচিল বা বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়েছে, কিন্তু তখন কোনরকম প্রতিবাদ হয়নি বলেই মত উপাচার্যের। যদিও, প্রাক্তনীদের একাংশ দাবি করেন পাঁচিল নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আগেও হয়েছে।

প্রবীণ আশ্রমিক সুবির বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইতিপূর্বে উপাচার্য রজতকান্ত রায়ের আমলে যখন বিনয় ভবন ও সংলগ্ন এলাকা গুলি ঘেরা হচ্ছিল, তখনও আমরা তার প্রতিবাদ করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল সহ অনেককেই এ বিষয়ে জানিয়েছিলাম। এমনকি আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কোর্টে মামলাও দায়ের হয়। গত এক দশক ধরে আমাদের প্রতিবাদ চলছে”। একইসঙ্গে বিশ্বভারতীতে কয়েক পুরুষ ধরে বাস করা মানুষরা বাইরে থেকে আসা কর্মী, আধিকারিকদের বিচ্ছিন্ন করে রাখার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন উপাচার্য।

আরও পড়ুন করোনা আবহেই সরকারি হাসপাতালে সফল হল বিরল পাকস্থলী ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার !

এই প্রসঙ্গেই তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও বহিরাগত বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে বহিরাগত ছিলেন। তিনি যদি এই অঞ্চল পছন্দ না করতেন তবে বিশ্বভারতী এখানে বিকশিত হত না। এছাড়াও গুরুদেব ঠাকুর, তার সহকর্মীরা- যারা বিশ্বভারতীকে জ্ঞান সৃষ্টি এবং বিস্তারের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছিলেন, তারা সকলেই বোলপুরের বাইরে থেকে এসেছিলেন”। একইসঙ্গে তার মত, “যারা প্রাথমিকভাবে বিশ্বভারতীতে এসেছিলেন তাদের সন্তানরা কেবল ভূমিপুত্র হওয়ার কারণেই চাকরির দাবিদার হয়ে ওঠে। রাবীন্দ্রিক ও আশ্রমিক হিসেবে তাদের যোগ্যতা শুধুই 'কেজি থেক পিজি থেকে কর্মসংস্থান'”। এই প্রসঙ্গে আশ্রমিকদের বক্তব্য, “উপাচার্য রবীন্দ্র শিক্ষা চেতনার অনন্যতাকে উপলব্ধি করেননি। শুধুই আশ্রমিকরা বিশ্বভারতীতে কর্মসংস্থানের যোগ্য হলে বিদ্যুৎ বাবুও আজ উপাচার্যের পদে বসতেন না”।

Indrajit Ruj
Published by: Pooja Basu
First published: August 23, 2020, 5:22 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर