হোম /খবর /দক্ষিণ ২৪ পরগনা /
স্ত্রীয়ের গায়ে 'হাত' দেওয়ায় বন্ধুর মাথায় হাতুড়ি মেরে খুন! নালায় মিলল দেহ

South 24 Parganas. News. স্ত্রীয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ! বন্ধুর মাথায় হাতুড়ি মেরে খুন করল যুবক, বামনঘাটার নালায় নীল ড্রামের মধ্যে মিলল দেহ

খাল থেকে উদ্ধার দেহ 

খাল থেকে উদ্ধার দেহ 

ট্যাংরায় খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের জেরা করে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঝুন্নুকে হাতুড়ি দিয়ে খুন করা হয়েছিল।

  • Hyperlocal
  • Last Updated :
  • Share this:

    দক্ষিণবঙ্গ: সদ্য বিবাহিত স্ত্রীয়ের সঙ্গে অশালীন ব্য়বহার করায় বন্ধুকে খুন করে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ট্যাংরার গোলাম রব্বানি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গোলাম রব্বানি পুলিশের জালে ধরা পড়লেও কিছুতেই মিলছিল না তাঁর নিহত বন্ধু ঝুন্নুর দেহ। অবশেষে, মঙ্গলবার ঝুন্নুর দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। বামনঘাটার কাঠের ব্রিজের কাছে নীল ড্রামের ভিতর থেকে মিলল তাঁর দেহ।

    গত ৩ মার্চ বন্ধু রব্বানির মোটরবাইকের পিছনে বসে তাঁর বাড়ি গিয়েছিল ঝুন্নু রাণা। কিন্তু ওই শেষ। এরপরে আর তাঁর খোঁজ মেলেনি। অবশেষে পুলিশের ত‍ৎপরতায় রহস্যভেদ হয়। জানা যায়, বন্ধু রব্বানির অনুপস্থিতিতে নাকি তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রীয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিলেন ঝুন্নু। শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করেছিলেন। তারই পরিণতিতে তাঁর মাথায় হাতুড়ি মেরে তাঁকে খুন করে বন্ধু রব্বানি ও তাঁর স্ত্রী। তদন্তে নেমে গত শুক্রবার রব্বানি ও তাঁর স্ত্রী নূর আয়েশাকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় ঝুন্নুকে খুনের কথা স্বীকার করেন রব্বানি।

    আরও পড়ুন: সেনার অনুশীলন চলাকালীন হাতির মৃত্যু, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে সেনা ও বন দফতরের বিশেষ বৈঠক

    গত শনিবার পুলিশ তদন্তের জন্য গিয়েছিল অভিযুক্ত যুবক গোলাম রব্বানির ফ্ল্যাটে। রব্বানির বাড়িতে তল্লাশি করে জানা যায়, খুন করার পরে রক্তের দাগ মুছতে দেওয়াল রঙ করেছিল রব্বানিরা। কিন্তু, সিলিংয়ে রঙ করেনি। সেই সিলিংয়েই পাওয়া গিয়েছে রক্তের ছিটে। শনিবার জেরার পরে পুলিশ জানিয়েছে,অভিযুক্ত গোলাম রব্বানির স্ত্রী নূর আয়েশা অন্তঃসত্ত্বা।

    পুলিশ ফ্ল্যাটের সামনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারে, রব্বানি এবং ঝুন্নু দুজন মিলে রব্বানির ফ্ল্যাটে ঢুকেছিল। তারপর কয়েক ঘণ্টা পরে দেখা যায়, রব্বানি এবং তাঁর স্ত্রী ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। রব্বানি স্বীকার করেছেন, ঝুন্নুকে খুন করার পরে একটি কম্বলে দেহ জড়িয়ে একটি নীল ড্রামের ভিতরে ভরে রেখেছিলেন তিনি। তারপর রব্বানি তাঁর মামা শেখ রিয়াজের সহযোগিতায় একটি প্যাডেল রিক্সা ভ্যানে করে ওই ড্রাম নিয়ে যায় সায়েন্স সিটির কাছে আম্বেদকর ব্রিজে। সেই ব্রিজ থেকে দেহটি খালের মধ্যে ফেলে দেন তাঁরা। সিসি ক্যামেরার সেই ফুটেজেও দেখা গিয়েছিল।

    আরও পড়ুন: এবার কি গ্রিন হচ্ছে কলকাতার ইয়েলো ট্যাক্সি! নতুন করে কোন বদলের ইঙ্গিত?

    শনিবার ঝুন্নুর মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য সায়েন্স সিটির কাছে একটি ঝিলেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে তখনও ঝুন্নুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার লালবাজারের গোয়েন্দারা কে এল সিথানা এলাকা থেকে দেহটি উদ্ধার করে।

    কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার বামনঘাটা এলাকার কাঠ ব্রিজের কাছে নীল রঙের ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ঝুনুর মৃতদেহ। সাত থেকে আট কিমি খালের জলের ভেসে গিয়েছিল দেহটি। তারপরে তা বামনঘাটার ঘন কচুরিপানার মধ্যে আটকে যায়। তদন্তকারী আধিকারিকরা সার্চ অপারেশন চালাচ্ছিলেন। তাঁদের চোখে পড়ে ড্রামটি। ‌ কাছে যেতেই মেলে ঝুন্নুর দেহ।

    অর্পণ মণ্ডল

    First published:

    Tags: Kolkata