‘কাজল ম্যাম আমাকে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড নামেই ডাকত’: ঋদ্ধি সেন

ট্রেলার দেখে রিয়্যাকসনটা দারুণ ৷ যদি কোনও ছবি পছন্দ হওয়ার থাকে, তাহলে এই ট্রেলার থেকে একটা আবছা আভাস পাওয়া যায় ৷

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 10, 2018 08:05 PM IST
‘কাজল ম্যাম আমাকে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড নামেই ডাকত’: ঋদ্ধি সেন
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 10, 2018 08:05 PM IST

#কলকাতা: বয়স সবে ২০ ৷ কিন্তু এরই মধ্যে কোঁকড়া চুলের বাঙালি ছেলে ঋদ্ধিকে নিয়ে একেবারে অপদস্থ দেবগণ ফ্যামিলির বউমা কাজল দেবগণ ৷ কখন, কোথায় যাচ্ছে ? কখন, কোথায়, কী করছে ? তা নিয়ে সদা চিন্তিত তিনি ৷ কিন্তু ছটফটে ছেলেটি একের পর এক দস্যিপনা চালিয়েই যাচ্ছে ৷ অন্তত, কাজল এমনটাই মনে করছেন ৷ তবে সত্যিই কি ঋদ্ধি অবাধ্য? সত্যিই কি ঋদ্ধি কাজলের কথা শোনেন না ? হেলিকপ্টারের মতো সর্বদা ঋদ্ধির আশে-পাশে ঘুরে কাজল ঠিক কী খুঁজতে চলেছেন?

উপরের গপ্পোটা একেবারে ফিল্মি ৷ আর আপাতত, পরিচালক প্রদীপ সরকারের নতুন ছবি ‘হেলিকপ্টার এলা’র ট্রেলার দেখে হইচই পড়েছে গিয়েছে নেটদুনিয়া থেকে একেবারে রিয়েল ওয়ার্ল্ডে ৷ ছবিতে কাজলের ছেলে অর্থাৎ অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের তাই এখন ‘হেলিকপ্টার’ অবস্থা ৷ প্রশংসায় কী তিনি উড়ে বেড়াচ্ছেন?

হেসে ফেললেন ভিভান ওরফে ঋদ্ধি সেন ৷ হাসি থামিয়ে ‘ট্রেলার থেকেই যে প্রশংসা পাচ্ছি ৷ তার মানে ছবিটা নিয়ে কৌতুহল জন্মাচ্ছে ৷ সত্যি খুশি ৷’

ট্রেলার দেখে কটা ফোন এল? কে কী বললেন?

ট্রেলার দেখে রিয়্যাকশনটা দারুণ ৷ যদি কোনও ছবি পছন্দ হওয়ার থাকে, তাহলে এই ট্রেলার থেকে একটা আবছা আভাস পাওয়া যায় ৷ ট্রেলার লঞ্চের আধঘণ্টার মধ্যেই কিন্তু গোটা দেশ থেকে শুভেচ্ছা এসেছে ৷ সবাই খুব পছন্দ করেছে ৷ আমার চেনা মানুষ, বন্ধু-বান্ধব সবাই-ই খুব প্রশংসা করেছেন ৷ এমনকী, টলিউডের বেশ কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন তাঁদের ভালো লাগার কথা ৷ বিশেষ করে মিডিয়ায় এই ট্রেলারের খুব ভালো রিভিউ বেরিয়েছে ৷ সবাই বলেছে, দারুণ ফ্রেশ কনসেপ্ট ৷ তার ওপর মা-ছেলের মধ্যের রয়াসন দারুণ ফুটে উঠেছে ৷

তবে একটা কথা বলতে পারি, ট্রেলারটা তো ছবির খুব প্রাথমিক একটা জায়গা ৷ আসল বিচারটা তো ছবিটা দেখার পর হবে ৷ কারণ, এরকম দেখা গিয়েছে, ছবির ট্রেলার খুব ভালো, কিন্তু ছবিটা খারাপ এবং এর উল্টোটাও ঘটেছে ৷ তাই গোটা ছবি দেখার পর শুভেচ্ছাগুলো পেতে আরও ভালো লাগে ৷ তবে এটা বলব, ট্রেলারের যা কাজ মানুষের মধ্যে কৌতুহল তৈরি করা ৷ সেই কাজটা কিন্তু ‘হেলিকপ্টার এলা’ ইতিমধ্যেই করে দিয়েছে ৷ সবাই কিন্তু ট্রেলার দেখে বলছে, ছবিটা দেখতে ইচ্ছে করছে ৷ এটা কিন্তু বড় প্রাপ্তি ৷

 যখন অফারটা আসে, কেমন ছিল প্রথম রিয়্যাকশন৷ বিপরীতে কাজল তো?

পুরো ব্যাপারটা খুবই অবিশ্বাস্য ছিল ! কারণ, এত বড় স্কেলের হিন্দি ছবিতে সুযোগ পাওয়াটা কতটা কঠিন সেটা আমি জানি ৷ হাজার হাজার লোক অডিশন দেয় ৷ বার বার অডিশন দেয় ৷ সেখানে দাদা (প্রদীপ সরকার) আমাকে একটা ফোনে কনফার্ম করেছিল, যে তোকে একটা চরিত্রের জন্য ভাবছি ৷ এটা বলার কিছুদিন পরে আবার বলেন, আমিই করছি ছবিটা ৷ আমি নিজে বোঝার আগেই আমাকে ছবিতে কনফার্ম করে দিয়েছিল ৷ তখন আমার কাছে শুধু একটা ওয়ান লাইনার ছিল ৷ এই ঘটনায় আমি সত্যিই অবাক ৷ কারণ, আমার মনে হয় এত বড় মাপের ছবিতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য আমার থেকে ভালো অভিনেতারা রয়েছেন ৷ সেখানে দাদা আমাকে বেছে নিয়েছেন, আমি সত্যিই লাকি !

আপনার মনে কী প্রশ্ন এসেছিল, কেন আপনাকেই নেওয়া হয়েছে?

এটা নিজে বলা খুব মুশকিল ৷ আমার মনে হয় পরিচালকরা ভালো বলতে পারবেন ৷ তবে হ্যাঁ, একবার তো মনেই হয়েছিল ৷ বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এত ভালো ভালো অভিনেতা রয়েছেন তার মধ্যে আমি সুযোগ পেয়েছি ৷ প্রশ্নটা একবার হলেও তা মনে উঠেছিল ৷

কেন আপনি তো নতুন নয় বলিউডে ৷ ‘পার্চড’-এর মতো ছবি করেছেন ৷ তাহলে?

আমি জানি না, কেন আমাকে কাস্ট করা হয়েছে ৷ তবে নিজের অভিনয় নিয়ে যদি বলতে হয়, তাহলে ভালো-খারাপের উর্ধ্বে গিয়ে বলতে হয়, আমি ভীষণ হার্ড ওয়ার্কিং ৷ আমি ছোটবেলা থেকে চোখের সামনে একটাই লক্ষ্য রেখেছি ৷ তা হল অভিনয় ৷ এছাড়া চোখের সামনে আর কিছু আসে না ৷

কাজলের সঙ্গে অভিনয় করা ৷ কেমন ছিল অভিজ্ঞতা ?

আসলে, উনি মানুষ হিসেবে এত ভালো যে, একটা পয়েন্টের পর যখন জড়তা কেটে যায়, তখন স্টার কাজল আর সামনে থাকে না৷ ভালো মানুষের রূপটাই সামনে চলে আসে ৷ এই কারণেই পর্দায় দেখা ইমেজটা খুব একটা সামনে আসে না ৷ তাই হয়তো তিনি চট করে বন্ধু হয়ে যেতে পারে ৷ আর এই বন্ধুত্বটা তৈরি হয়েছিল বলেই, হেলিকপ্টার এলাতে দু’জনের রসায়নটায় তা নজরে আসে ৷ তবে এটা পুরোটাই কাজল ম্যামের ক্রেডিট ৷

ফার্স্টডে শ্যুটিং, সামনে কাজল ৷ কীরকম ছিল সেই শ্যুটিং ?

আসলে, অন্যরকম কিছু ছিল না ৷ কারণ, শ্যুটিংয়ের আগে আমরা আগে অনেক দেখা করেছি ৷ প্রচুর রিহার্সল হয়েছে ৷ তাই আলাদা কিছু মনে হয়নি ৷ তবে হ্যাঁ, আমার মনে আছে শ্যুটিংয়ের সময় আমরা এমন অনেক কিছু করেছিলাম, যা কিনা রিহার্সলে করা হয়নি ৷ তখনই বুঝে ছিলাম ৷ আমাদের মধ্যে কানেকশন তৈরি হয়েছে ৷ একটা কমফোর্ট জোন তৈরিই হয়ে গিয়েছিল ৷ এটা আমার কাছে বিশাল প্রাপ্তি ৷

kajol

আর শ্যুটিংয়ের পড়ে কোনও খুনসুটি ?

দারুণ ৷ কাজল ম্যামের দারুণ সেন্স অফ হিউমার ৷ শ্যুটিং ফ্লোরে কাউকে চুপচাপ থাকতে দেবে না ৷ প্রচন্ড হাসাহাসি হতো সারাক্ষণ ৷ আমার মনে আছে শ্যুটিংয়ের শেষ দিন ৷ ঘটনাচক্রে আমার জন্মদিন ছিল ৷ কাজল ম্যামেরও মন খারাপ ৷ আমারও ৷ আমার মনে আছে, আমার একটা নাটকের শুরুর কথা ছিল ৷ আর সেই নাটক নিয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে দারুণ একটা পোস্ট করেছিলেন কাজল ম্যাম ৷ মনে রাখার মতো একটা মুহূর্ত সেটা আমার কাছে ৷ আর হ্যাঁ, আমার জাতীয় পুরস্কার পাওয়া খবর শুনে আমাকে তো জড়িয়ে ধরেছিলেন কাজল ম্যাম ৷ প্রচুর আদরও করেন ৷ তারপর থেকে  কাজলম্যাম আমাকে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড নামেই ডাকতেন ৷

সিনেমায় কাজল হেলিকপ্টার মাদার, বাস্তবে আপনার মা কতটা এরকম?

একেবারেই নয় ৷ বরং এর উল্টোটাই ৷ মা তো ওয়ার্কিং উইম্যান ৷ তবে দারুণ ব্যালেন্স করেই চলে ৷ তবে আমিই মায়ের প্রতি বেশি পজেসিভ ৷ মায়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বটা দারুণ ৷ মা-ই আমার বেস্টফ্রেন্ড ৷ ঠিক যেমন এলা ও বিভান ৷ কিন্তু এখানে রোলটা অপজিট হয়ে যায় ৷ বাস্তবে আমিই এলা ও মা বিভান ৷ কারণ, সারাক্ষণ আমি মাকে জ্বালাতন করি ৷ তবে আমি বলব, শুধু মা নয় ৷ আমি, মা, বাবা-র বন্ডিংটা এতটা ভালো যে সারাক্ষণ আমরা কানেকটেড থাকি ৷ নয় ফোন, নয় হোয়াটসঅ্যাপ !

৯) বাবা কীরকম টিপস দিচ্ছেন?

 না, বাবা কখনও আমাকে টিপস দেননি ৷ বরং বলব এক্ষেত্রে টিপস নয় ৷ মা আমার ব্যাপারে সব সময় সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে ৷ আমি এটা বলতে পারি, আজ আমি যতটুকু করেছি, তা পুরোটাই মায়ের জন্য ৷ আসলে, ছোট থেকে বাড়ির পরিবেশটা আমার কাছে পাওয়া বড় টিপস ৷ তাই আলাদা করে মা বা বাবাকে টিপস দিতে হয়নি ৷

পাঁচ বছর পড়ে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

কোথাও দেখতে চাই না নিজেকে ৷ আসলে, আমি আজকেরটা নিয়েই ভাবি ৷ তবে হ্যাঁ, সিনেমা মাধ্যমটার সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যুক্ত থাকব এটা বলতে পারি ৷

First published: 04:40:27 PM Aug 10, 2018
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर